গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একই পরিবারের পাঁচজনকে খুনের ঘটনায় ঘাতক ফোরকান মিয়াকে (৪০) প্রধান আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ মামলায় আরও ৩-৪ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। নিহত নারীর বাবা সাহাদত মোল্যা বাদী হয়ে কাপাসিয়া থানায় মামলাটি দায়ের করেছেন।
কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম মামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, শুক্রবার (৯ মে) সন্ধ্যা ৭টা ৩৫ মিনিটে তিনি মামলা (নং ১৭) করেন। মামলায় নিহত শারমিন খানমের স্বামী ফোরকানকে প্রধান আসামি এবং অজ্ঞাত চারজনকে আসামি করা হয়েছে।
নিহতরা হলেন- বাড়ি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পাইককান্দি ইউনিয়নের পাইকান্দি (উত্তর চরপাড়া) গ্রামের বাসিন্দা শারমিন খানম (৩৫), শ্যালক রসুল (২২), ফোরকানের তিন মেয়ে মিম খানম (১৪), উম্মে হাবিবা (৮) এবং ফারিয়া (দেড় বছর)।
পেশায় প্রাইভেটকারচালক অভিযুক্ত ফোরকান মিয়ার গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদরের মেরী গোপীনাথপুর গ্রামে; বাবার নাম আতিয়ার রহমান মোল্লা। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, পারিবারিক কলহের জেরে ফুরকান মিয়া এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে। ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় মদের খালি বোতল, রান্না করা পায়েশ ও কোকাকোলার বোতল উদ্ধার করা হয়েছে।
এদিকে মরদেহের পাশে বেশ কিছু প্রিন্ট করা কাগজ পড়ে থাকতে দেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ওই কাগজের সূত্র ধরে পুলিশ জানতে পারে, ফুরকান হোসেন এর আগে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে থানায় ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের একটি অভিযোগ করেছিলেন। একই সাথে ওই অভিযোগপত্রে স্ত্রীর পরকীয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করেছিলেন তিনি।
কালীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান জানান, উদ্ধার হওয়া অভিযোগের কপিগুলো এবং পারিপার্শ্বিক আলামত যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এ ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ফুরকান পলাতক রয়েছেন।
এদিকে ঘটনা জানাজানি হলে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সংস্থা ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সালমা খাতুন জানান, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কড়া নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
প্রকৃতিবার্তা ডেস্ক 

















