সংবাদ শিরোনাম ::
Logo গ্রিন এনার্জি: রাজধানীর সব বাড়িতে সোলার প্যানেল বসাতে চায় সরকার Logo বসন্তের দূত কোকিল কেন গান গায়? দেশে কেমন আছে প্রকৃতির এই সুরসাধক? Logo ভয়ঙ্কর ‘হান্টাভাইরাস’ যার বহনকারী ইঁদুর   Logo মে মাসের মাঝামাঝি বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আবার বাড়তে পারে   Logo সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর মায়ের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক Logo মমতা বিদায় নিচ্ছেন, এখন তিস্তা চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের পরিবেশের যেসব লাভ হতে পারে Logo বৃহস্পতিবার ৫ ঘণ্টা বন্ধ থাকবে ফুয়েল পাশ নিবন্ধন Logo রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় অপরাধ শূন্যের কোটায় নামাতে চায় পুলিশ Logo হরমুজে ট্রাম্পের ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ স্থগিত, ইরান অপারেশন সমাপ্ত বলে জানালেন রুবিও Logo বাগডাশের শরীরে পোলাওয়ের গন্ধ! কারণ কী?

বসন্তের দূত কোকিল কেন গান গায়? দেশে কেমন আছে প্রকৃতির এই সুরসাধক?

বসন্তের দূত কোকিল কেন গান গায়? দেশে কেমন আছে প্রকৃতির এই সুরসাধক?

ইট-পাথরের নগরে বসন্তের আগমনী বার্তা নিয়ে আসে কোকিলের ‘কুহু কুহু’ কলতান। প্রকৃতির এই সুরকারকে নিয়ে মানুষের কৌতূহল ও আবেগ চিরন্তন। তবে কোকিলের এই গান কেবল প্রকৃতিকে মাতিয়ে রাখা নয়, এর পেছনে রয়েছে সুনির্দিষ্ট প্রাকৃতিক কারণ।

কেন ডাকে কোকিল?

বসন্তকাল হচ্ছে কোকিলের প্রধান প্রজনন ঋতু। মূলত পুরুষ কোকিলই সুরেলা কণ্ঠে গান গায়। এর দুটি প্রধান উদ্দেশ্য রয়েছে:

১. স্ত্রী পাখিকে আকৃষ্ট করা: সঙ্গিনীকে প্রণয়ের আহ্বান জানাতে পুরুষ কোকিল অবিরাম ডেকে চলে।

২. সীমানা নির্ধারণ (Territorial Alarm): নিজের এলাকা দখলে রাখা এবং অন্য পুরুষ পাখিকে সতর্ক করার জন্য এটি এক ধরনের সংকেত। কেউ সীমানা লঙ্ঘন করলে শুরু হয় তীক্ষ্ণ স্বরে লড়াই।

রঙ ও রূপের ভিন্নতা

সাধারণভাবে কোকিল বলতে আমরা কুচকুচে কালো ও লাল চোখের পাখি বুঝলেও, স্ত্রী ও পুরুষ কোকিলের চেহারায় আকাশ-পাতাল পার্থক্য রয়েছে:

পুরুষ কোকিল: এদের গায়ের রঙ উজ্জ্বল নীলচে-কালো এবং চোখ টকটকে লাল।

পুরুষ ও নারী কোকিল

স্ত্রী কোকিল: এরা দেখতে অনেকটা বাদামী রঙের। পিঠে সাদা ফোঁটা এবং বুকে-পেটে কালো ডোরাকাটা দাগ থাকে। এরা অনেকটা অন্তরালে থাকতেই পছন্দ করে।

খাদ্যাভ্যাস ও পরজীবী স্বভাব

কোকিলের প্রিয় খাবারের তালিকায় রয়েছে বিভিন্ন ধরনের কীটপতঙ্গ ও নরম ফল (যেমন: বট বা পাকুড় ফল)।

তবে এদের একটি অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য হলো এরা বাসা তৈরি করতে পারে না। কৌশলে কাকের বাসায় ডিম পেড়ে তারা বংশবৃদ্ধি করে। বাংলাদেশে প্রায় ২০ প্রজাতির কোকিল পাওয়া যায়, যার মধ্যে ১৬টি প্রজাতিই অন্যের বাসায় ডিম পাড়ে। ব্যতিক্রম হিসেবে সবুজ ও মেটে মালকোয়া নিজেরাই বাসা বাঁধে।

সংকটে বসন্তের প্রতিনিধি

এক সময় গ্রাম থেকে শহর সবখানেই কোকিলের সরব উপস্থিতি থাকলেও বর্তমানে তারা অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে। এর প্রধান কারণগুলো হলো:

বাসস্থান ও খাদ্য সংকট: নির্বিচারে গাছ কাটার ফলে কোকিলের আশ্রয়স্থল ও প্রাকৃতিক খাবারের উৎস কমে যাচ্ছে।

কাকের সংখ্যা হ্রাস: কোকিল প্রজননের জন্য কাকের বাসার ওপর নির্ভরশীল। গত দুই দশকে প্রকৃতিতে কাকের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় কোকিলের প্রজনন চক্রও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা এবং ঋতুরাজ বসন্তের এই চিরচেনা সুরকে বাঁচিয়ে রাখতে বৃক্ষরোপণ ও পাখির নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

জনপ্রিয় সংবাদ

গ্রিন এনার্জি: রাজধানীর সব বাড়িতে সোলার প্যানেল বসাতে চায় সরকার

বসন্তের দূত কোকিল কেন গান গায়? দেশে কেমন আছে প্রকৃতির এই সুরসাধক?

আপডেট সময় ০১:১৩:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

ইট-পাথরের নগরে বসন্তের আগমনী বার্তা নিয়ে আসে কোকিলের ‘কুহু কুহু’ কলতান। প্রকৃতির এই সুরকারকে নিয়ে মানুষের কৌতূহল ও আবেগ চিরন্তন। তবে কোকিলের এই গান কেবল প্রকৃতিকে মাতিয়ে রাখা নয়, এর পেছনে রয়েছে সুনির্দিষ্ট প্রাকৃতিক কারণ।

কেন ডাকে কোকিল?

বসন্তকাল হচ্ছে কোকিলের প্রধান প্রজনন ঋতু। মূলত পুরুষ কোকিলই সুরেলা কণ্ঠে গান গায়। এর দুটি প্রধান উদ্দেশ্য রয়েছে:

১. স্ত্রী পাখিকে আকৃষ্ট করা: সঙ্গিনীকে প্রণয়ের আহ্বান জানাতে পুরুষ কোকিল অবিরাম ডেকে চলে।

২. সীমানা নির্ধারণ (Territorial Alarm): নিজের এলাকা দখলে রাখা এবং অন্য পুরুষ পাখিকে সতর্ক করার জন্য এটি এক ধরনের সংকেত। কেউ সীমানা লঙ্ঘন করলে শুরু হয় তীক্ষ্ণ স্বরে লড়াই।

রঙ ও রূপের ভিন্নতা

সাধারণভাবে কোকিল বলতে আমরা কুচকুচে কালো ও লাল চোখের পাখি বুঝলেও, স্ত্রী ও পুরুষ কোকিলের চেহারায় আকাশ-পাতাল পার্থক্য রয়েছে:

পুরুষ কোকিল: এদের গায়ের রঙ উজ্জ্বল নীলচে-কালো এবং চোখ টকটকে লাল।

পুরুষ ও নারী কোকিল

স্ত্রী কোকিল: এরা দেখতে অনেকটা বাদামী রঙের। পিঠে সাদা ফোঁটা এবং বুকে-পেটে কালো ডোরাকাটা দাগ থাকে। এরা অনেকটা অন্তরালে থাকতেই পছন্দ করে।

খাদ্যাভ্যাস ও পরজীবী স্বভাব

কোকিলের প্রিয় খাবারের তালিকায় রয়েছে বিভিন্ন ধরনের কীটপতঙ্গ ও নরম ফল (যেমন: বট বা পাকুড় ফল)।

তবে এদের একটি অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য হলো এরা বাসা তৈরি করতে পারে না। কৌশলে কাকের বাসায় ডিম পেড়ে তারা বংশবৃদ্ধি করে। বাংলাদেশে প্রায় ২০ প্রজাতির কোকিল পাওয়া যায়, যার মধ্যে ১৬টি প্রজাতিই অন্যের বাসায় ডিম পাড়ে। ব্যতিক্রম হিসেবে সবুজ ও মেটে মালকোয়া নিজেরাই বাসা বাঁধে।

সংকটে বসন্তের প্রতিনিধি

এক সময় গ্রাম থেকে শহর সবখানেই কোকিলের সরব উপস্থিতি থাকলেও বর্তমানে তারা অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে। এর প্রধান কারণগুলো হলো:

বাসস্থান ও খাদ্য সংকট: নির্বিচারে গাছ কাটার ফলে কোকিলের আশ্রয়স্থল ও প্রাকৃতিক খাবারের উৎস কমে যাচ্ছে।

কাকের সংখ্যা হ্রাস: কোকিল প্রজননের জন্য কাকের বাসার ওপর নির্ভরশীল। গত দুই দশকে প্রকৃতিতে কাকের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় কোকিলের প্রজনন চক্রও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা এবং ঋতুরাজ বসন্তের এই চিরচেনা সুরকে বাঁচিয়ে রাখতে বৃক্ষরোপণ ও পাখির নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।