দেশে বিড়াল পোষার প্রবণতা বেড়েছে, কারণ কী?

এক সময়ে গ্রামাঞ্চলে গেরস্ত বাড়িতে বিড়াল পোষা হতো, বেশিরভাগ বিড়ালের একটি কমন নাম ছিল, সেটি হলো মিনি। তবে মিনিকে দুধ-ভাত,মাছের কাটায় পোষা যেত সহজেই। ইঁদুর শিকারি বলেই এত কদর ছিল মিনিদের। কিন্তু আজকাল শহুরে অ্যাপার্টমেন্টে বিপুল সংখ্যক বিড়ালের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। পাড়ায়-মহল্লায় দেখা যাচ্ছে ‘ক্যাটফুডের’ দোকান, আদুরে বিড়াল ঠাই পাচ্ছে মালিকের বিছানা অব্দি! অনেক বাসায় বিড়াল মহাশয় যেন পরিবারের সদস্যই।

বাংলাদেশের শহরগুলোতে—বিশেষ করে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও কুমিল্লাসহ বড় নগরীগুলোতে—বিড়াল পোষার প্রবণতা এবং বিড়াল প্রেমীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সাম্প্রতিক তথ্যমতে, বাংলাদেশের পোষা প্রাণীর বাজারের প্রায় ৯০% নিয়ন্ত্রণ করছে বিড়াল। শহরগুলোতে অ্যাপার্টমেন্ট বা ফ্ল্যাট কালচার এবং কোলাহলপূর্ণ জীবনযাত্রার কারণে মানুষ কুকুর বা অন্যান্য বড় প্রাণীর চেয়ে বিড়াল পোষা বেশি পছন্দ করছে।

কেন বিড়াল পোষার প্রবণতা বাড়ছে?

ছোট জায়গায় বসবাস ও রক্ষণাবেক্ষণ সহজ: শহরের ফ্ল্যাট বাড়িতে কুকুর পালনের জন্য যে জায়গার প্রয়োজন, বিড়ালের জন্য তা প্রয়োজন হয় না। বিড়াল খুব অল্প জায়গায় থাকতে পারে এবং নিজে নিজেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকে।

মানসিক প্রশান্তি ও একাকীত্ব দূর: কর্মব্যস্ত জীবনে বা ছোট পরিবারে একাকীত্ব দূর করতে অনেকেই বিড়াল পোষেন। বিড়ালের সাথে সময় কাটানো মানসিক চাপ কমায়।

কোভিড-১৯ মহামারীর প্রভাব: করোনাকালীন সময়ে মানুষ যখন ঘরে বন্দি ছিল, তখন মানসিক সাহচর্যের জন্য পোষা প্রাণী, বিশেষ করে বিড়াল দত্তক নেওয়ার প্রবণতা ব্যাপকভাবে বেড়েছিল।

সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব: ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব এবং টিকটকে বিড়ালের ভিডিও (Reels) দেখে তরুণ প্রজন্ম এবং শিশুরা বিড়াল পালনে উৎসাহিত হচ্ছে।

সহজলভ্য খাবার ও স্বাস্থ্যসেবা: বর্তমানে সুপারশপ এবং অনলাইন শপগুলোতে বিড়ালের খাবার, লিটার এবং আনুষঙ্গিক পণ্য সহজেই পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া, শহরের বিভিন্ন স্থানে ব্যক্তিগত পেট ক্লিনিক ও ভেটেরিনারি ডাক্তারদের সেবার পরিধি বাড়ার কারণে বিড়ালের চিকিৎসাও সহজ হয়েছে।

সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন: আগে বিড়াল নিয়ে মানুষের মনে যে ভয় বা কুসংস্কার ছিল, তা থেকে মানুষ বেরিয়ে এসেছে। এখন বিড়ালকে পরিবারের সদস্য হিসেবে গণ্য করা হয়।

তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণ: বিড়াল পোষার ‘সৌখিনতা’ এখন কেবল ঢাকায় সীমাবদ্ধ নেই। কুমিল্লার মতো শহরেও তরুণ-তরুণীরা এখন শখ করে বিড়াল পালছে। এমন প্রবণতা দেখা যাচ্ছে দেশের প্রায় সব ছোট-বড় শহরে।

বাংলাদেশে পোষা প্রাণীর খাবার ও আনুষঙ্গিক পণ্যের বাজার এখন বার্ষিক ১০-১৫% হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা এই প্রবণতারই ইঙ্গিত দেয়।

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

জনপ্রিয় সংবাদ

সারাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত

দেশে বিড়াল পোষার প্রবণতা বেড়েছে, কারণ কী?

আপডেট সময় ০২:৫৩:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

এক সময়ে গ্রামাঞ্চলে গেরস্ত বাড়িতে বিড়াল পোষা হতো, বেশিরভাগ বিড়ালের একটি কমন নাম ছিল, সেটি হলো মিনি। তবে মিনিকে দুধ-ভাত,মাছের কাটায় পোষা যেত সহজেই। ইঁদুর শিকারি বলেই এত কদর ছিল মিনিদের। কিন্তু আজকাল শহুরে অ্যাপার্টমেন্টে বিপুল সংখ্যক বিড়ালের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। পাড়ায়-মহল্লায় দেখা যাচ্ছে ‘ক্যাটফুডের’ দোকান, আদুরে বিড়াল ঠাই পাচ্ছে মালিকের বিছানা অব্দি! অনেক বাসায় বিড়াল মহাশয় যেন পরিবারের সদস্যই।

বাংলাদেশের শহরগুলোতে—বিশেষ করে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও কুমিল্লাসহ বড় নগরীগুলোতে—বিড়াল পোষার প্রবণতা এবং বিড়াল প্রেমীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সাম্প্রতিক তথ্যমতে, বাংলাদেশের পোষা প্রাণীর বাজারের প্রায় ৯০% নিয়ন্ত্রণ করছে বিড়াল। শহরগুলোতে অ্যাপার্টমেন্ট বা ফ্ল্যাট কালচার এবং কোলাহলপূর্ণ জীবনযাত্রার কারণে মানুষ কুকুর বা অন্যান্য বড় প্রাণীর চেয়ে বিড়াল পোষা বেশি পছন্দ করছে।

কেন বিড়াল পোষার প্রবণতা বাড়ছে?

ছোট জায়গায় বসবাস ও রক্ষণাবেক্ষণ সহজ: শহরের ফ্ল্যাট বাড়িতে কুকুর পালনের জন্য যে জায়গার প্রয়োজন, বিড়ালের জন্য তা প্রয়োজন হয় না। বিড়াল খুব অল্প জায়গায় থাকতে পারে এবং নিজে নিজেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকে।

মানসিক প্রশান্তি ও একাকীত্ব দূর: কর্মব্যস্ত জীবনে বা ছোট পরিবারে একাকীত্ব দূর করতে অনেকেই বিড়াল পোষেন। বিড়ালের সাথে সময় কাটানো মানসিক চাপ কমায়।

কোভিড-১৯ মহামারীর প্রভাব: করোনাকালীন সময়ে মানুষ যখন ঘরে বন্দি ছিল, তখন মানসিক সাহচর্যের জন্য পোষা প্রাণী, বিশেষ করে বিড়াল দত্তক নেওয়ার প্রবণতা ব্যাপকভাবে বেড়েছিল।

সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব: ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব এবং টিকটকে বিড়ালের ভিডিও (Reels) দেখে তরুণ প্রজন্ম এবং শিশুরা বিড়াল পালনে উৎসাহিত হচ্ছে।

সহজলভ্য খাবার ও স্বাস্থ্যসেবা: বর্তমানে সুপারশপ এবং অনলাইন শপগুলোতে বিড়ালের খাবার, লিটার এবং আনুষঙ্গিক পণ্য সহজেই পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া, শহরের বিভিন্ন স্থানে ব্যক্তিগত পেট ক্লিনিক ও ভেটেরিনারি ডাক্তারদের সেবার পরিধি বাড়ার কারণে বিড়ালের চিকিৎসাও সহজ হয়েছে।

সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন: আগে বিড়াল নিয়ে মানুষের মনে যে ভয় বা কুসংস্কার ছিল, তা থেকে মানুষ বেরিয়ে এসেছে। এখন বিড়ালকে পরিবারের সদস্য হিসেবে গণ্য করা হয়।

তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণ: বিড়াল পোষার ‘সৌখিনতা’ এখন কেবল ঢাকায় সীমাবদ্ধ নেই। কুমিল্লার মতো শহরেও তরুণ-তরুণীরা এখন শখ করে বিড়াল পালছে। এমন প্রবণতা দেখা যাচ্ছে দেশের প্রায় সব ছোট-বড় শহরে।

বাংলাদেশে পোষা প্রাণীর খাবার ও আনুষঙ্গিক পণ্যের বাজার এখন বার্ষিক ১০-১৫% হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা এই প্রবণতারই ইঙ্গিত দেয়।