সংবাদ শিরোনাম ::
Logo প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্বাধীনতা পুরস্কার গ্রহণ করলেন মুকিত মজুমদার বাবু Logo হাম হলে শিশুকে যেসব খাবার খাওয়াবেন Logo ২২০০ পিঁপড়া পাচার চেষ্টায় চীনা নাগরিকের এক বছরের জেল Logo চট্টগ্রামে নিজেই হাসপাতালে এসে ডাক্তার ডেকে চিকিৎসা নিলো কাক! Logo বাংলাদেশে প্রতি তিন শিশুর মধ্যে এক জন মারাত্মকভাবে জলবায়ু ঝুঁকির মুখে Logo এপ্রিল এখন পর্যন্ত সহনীয়, দেশে এবছরের গ্রীষ্ম কম ভোগাবে আশা আবহাওয়াবিদের   Logo আজ স্বাধীনতা পদক প্রদান করবেন প্রধানমন্ত্রী Logo ‘ধান খাওয়ায়’ মেরে ফেলা হলো বাবুই পাখির ২৯ বাচ্চা, এক জনের কারাদণ্ড Logo পাবলো এসকোবারের ‘কোকেন’ জলহস্তীদের নিয়ে বিপাকে কলম্বিয়া Logo জ্বালানির দাম সমন্বয় করা হতে পারে: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা

এক বছরে লাগামহীন লুটে পাথরশূন্য ‘সাদাপাথর’, পরিবেশ ধ্বংসে সামাজিক মাধ্যমেও ক্ষোভ

গেল বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে বিরামহীনভাবে চলছে ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্রের পাথর লুট। সিলেটের দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে ভ্রমণপিপাসু মানুষের পছন্দের শীর্ষে থাকা জায়গাটি এখন লুটে লুটে ক্ষতবিক্ষত।  পাথর প্রায় শেষ, এবার বালুও লুট করা হচ্ছে।

 

পরিবেশকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দার অভিযোগ, ৫ আগস্টের আগে যত দূর চোখ যেত, দেখা যেত সাদা সাদা পাথর আর পাথর। কিন্তু এখন সেখানে ধু-ধু বালুচর। তাদের ভাষ্যে, এক বছরে ১ কোটি ৫০ লাখ ঘনফুট পাথর লুট হয়েছে।

 

সাদাপাথরের ক্ষত-বিক্ষত অবস্থা দেখে অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন, কেউ কেউ সাদাপাথর এলাকার আগের এবং সাম্প্রতিক ছবির তুলনামূলক চিত্র দেখিয়ে তীব্র হতাশা প্রকাশ করছেন।

 

সিলেটের ভোলাগঞ্জের সাদাপাথর এলাকায় বন্ধুদের সঙ্গে অতীতের একটি ছবি নিজের ফেসবুক ওয়ালে পোস্ট করেছেন লেখক সাংবাদিক কবির য়াহমদ। ক্যাপশনে লিখেছেন লিখেছেন ,“তখন আমাদের সাদাপাথর’।

সাদাপাথর এলাকায় পরিবেশ ধ্বংসের ছবিসহ আরেকটি পোস্টে কবির লিখেছেন: “…সিলেটের সাদাপাথরে আগে পাথর দেখতে লোকজন যেত; এখন থেকে যাবে ‘আগে কোথায় পাথর ছিল; এটা দেখতে।”

 

যমুনা টিভির সিনিয়র রিপোর্টার শাকিল হাসান সাদাপাথরের আগের এবং বর্তমান তুলনামূলক ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে ক্ষোভ-আফসোস জানিয়ে লিখেছেন, “গত এক বছরে পরিবর্তনটা ভয়াবহ দৃশ্যমান। অথচ সরকার, উপদেষ্টাগণ,পরিবেশ অধিদপ্তর, ডিসি-এসপি, পরিবেশবাদি, সমাজচিন্তক, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ, সুশীল সমাজ, বুদ্ধিজীবীমহল, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, গণমাধ্যম কারো কোনো মাথাব্যথা আছে?”

 

গণমাধ্যমে সাদাপাথর এলাকায় প্রকৃতি ধ্বংসের খবর আসলেও তাতে উপর মহলের টনক নড়ছে না। আজই (১১ আগস্ট)  সাদাপাথরের পাথরলুট নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে এখনটিভি অনলাইন, যুগান্তর অনলাইনসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম।

 

এসব প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের অন্যতম প্রাকৃতিক পর্যটনকেন্দ্র সিলেটের সাদাপাথর। কিন্তু পাথর লুটের কারণে গেল দুই মাসে তা পরিণত হয়েছে মরুভূমিতে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকাশ্যেই লুট হচ্ছে পাথর। জড়িতরা প্রভাবশালী হওয়ায় প্রতিবাদ করার সাহস পান না তারা। ফলে একদিকে সৌন্দর্য হারিয়ে যাচ্ছে; অন্যদিকে নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ। এতে হুমকিতে পর্যটন সংশ্লিষ্টদের জীবন-জীবিকা।

 

প্রভাবশালী চক্রের লুটপাটে বদলে গেছে ভোলাগঞ্জের সাদাপাথর। দিন কিংবা রাত প্রতিনিয়তই শত শত নৌকায় লুট করা হচ্ছে পাথর। গেল কয়েক মাসের অবৈধ এ কার্যক্রমে নদীর তলদেশে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। নষ্ট হয়েছে জলের স্বচ্ছতাও।

 

পর্যটক ও স্থানীয়দের দাবি, ভোলাগঞ্জের মোহনীয় সৌন্দর্য আর নেই। আছে কেবল ঢলের পানি আর মরুভূমি। এলাকাবাসীরা জানান, বর্তমানে পাথর আর দেখা যায় না। শুধু বলি আর পানি চোখে পড়ে। ৩-৪ মাসের মধ্যেই সবপাথর শেষ হয়ে যাবে বলে ধারণা তাদের।

 

পর্যটন সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, এভাবে চলতে থাকলে দর্শনীয় স্থানের তালিকা থেকে মুছে যাবে সিলেটের সাদাপাথরের নাম।

 

পাথরখেকোদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় অবাধে সাদাপাথর তোলা হচ্ছে বলে অভিযোগ পরিবেশকর্মীদের।

 

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়ক শাহ শাহেদা বলেন, ‘প্রশাসন এখানে কোনো কাজই করছে না। পাথর সংরক্ষণ করার জন্য যেসব পদক্ষেপ নেয়া দরকার, তা করা হচ্ছে না।’

 

জেলা প্রশাসনের দাবি নিয়মিত অভিযান চালালেও জনবল সংকট আর নানা সীমাবদ্ধতায় ঠেকানো যাচ্ছে না লুটপাট।

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্বাধীনতা পুরস্কার গ্রহণ করলেন মুকিত মজুমদার বাবু

এক বছরে লাগামহীন লুটে পাথরশূন্য ‘সাদাপাথর’, পরিবেশ ধ্বংসে সামাজিক মাধ্যমেও ক্ষোভ

আপডেট সময় ০৫:১৫:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ অগাস্ট ২০২৫

গেল বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে বিরামহীনভাবে চলছে ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্রের পাথর লুট। সিলেটের দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে ভ্রমণপিপাসু মানুষের পছন্দের শীর্ষে থাকা জায়গাটি এখন লুটে লুটে ক্ষতবিক্ষত।  পাথর প্রায় শেষ, এবার বালুও লুট করা হচ্ছে।

 

পরিবেশকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দার অভিযোগ, ৫ আগস্টের আগে যত দূর চোখ যেত, দেখা যেত সাদা সাদা পাথর আর পাথর। কিন্তু এখন সেখানে ধু-ধু বালুচর। তাদের ভাষ্যে, এক বছরে ১ কোটি ৫০ লাখ ঘনফুট পাথর লুট হয়েছে।

 

সাদাপাথরের ক্ষত-বিক্ষত অবস্থা দেখে অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন, কেউ কেউ সাদাপাথর এলাকার আগের এবং সাম্প্রতিক ছবির তুলনামূলক চিত্র দেখিয়ে তীব্র হতাশা প্রকাশ করছেন।

 

সিলেটের ভোলাগঞ্জের সাদাপাথর এলাকায় বন্ধুদের সঙ্গে অতীতের একটি ছবি নিজের ফেসবুক ওয়ালে পোস্ট করেছেন লেখক সাংবাদিক কবির য়াহমদ। ক্যাপশনে লিখেছেন লিখেছেন ,“তখন আমাদের সাদাপাথর’।

সাদাপাথর এলাকায় পরিবেশ ধ্বংসের ছবিসহ আরেকটি পোস্টে কবির লিখেছেন: “…সিলেটের সাদাপাথরে আগে পাথর দেখতে লোকজন যেত; এখন থেকে যাবে ‘আগে কোথায় পাথর ছিল; এটা দেখতে।”

 

যমুনা টিভির সিনিয়র রিপোর্টার শাকিল হাসান সাদাপাথরের আগের এবং বর্তমান তুলনামূলক ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে ক্ষোভ-আফসোস জানিয়ে লিখেছেন, “গত এক বছরে পরিবর্তনটা ভয়াবহ দৃশ্যমান। অথচ সরকার, উপদেষ্টাগণ,পরিবেশ অধিদপ্তর, ডিসি-এসপি, পরিবেশবাদি, সমাজচিন্তক, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ, সুশীল সমাজ, বুদ্ধিজীবীমহল, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, গণমাধ্যম কারো কোনো মাথাব্যথা আছে?”

 

গণমাধ্যমে সাদাপাথর এলাকায় প্রকৃতি ধ্বংসের খবর আসলেও তাতে উপর মহলের টনক নড়ছে না। আজই (১১ আগস্ট)  সাদাপাথরের পাথরলুট নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে এখনটিভি অনলাইন, যুগান্তর অনলাইনসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম।

 

এসব প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের অন্যতম প্রাকৃতিক পর্যটনকেন্দ্র সিলেটের সাদাপাথর। কিন্তু পাথর লুটের কারণে গেল দুই মাসে তা পরিণত হয়েছে মরুভূমিতে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকাশ্যেই লুট হচ্ছে পাথর। জড়িতরা প্রভাবশালী হওয়ায় প্রতিবাদ করার সাহস পান না তারা। ফলে একদিকে সৌন্দর্য হারিয়ে যাচ্ছে; অন্যদিকে নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ। এতে হুমকিতে পর্যটন সংশ্লিষ্টদের জীবন-জীবিকা।

 

প্রভাবশালী চক্রের লুটপাটে বদলে গেছে ভোলাগঞ্জের সাদাপাথর। দিন কিংবা রাত প্রতিনিয়তই শত শত নৌকায় লুট করা হচ্ছে পাথর। গেল কয়েক মাসের অবৈধ এ কার্যক্রমে নদীর তলদেশে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। নষ্ট হয়েছে জলের স্বচ্ছতাও।

 

পর্যটক ও স্থানীয়দের দাবি, ভোলাগঞ্জের মোহনীয় সৌন্দর্য আর নেই। আছে কেবল ঢলের পানি আর মরুভূমি। এলাকাবাসীরা জানান, বর্তমানে পাথর আর দেখা যায় না। শুধু বলি আর পানি চোখে পড়ে। ৩-৪ মাসের মধ্যেই সবপাথর শেষ হয়ে যাবে বলে ধারণা তাদের।

 

পর্যটন সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, এভাবে চলতে থাকলে দর্শনীয় স্থানের তালিকা থেকে মুছে যাবে সিলেটের সাদাপাথরের নাম।

 

পাথরখেকোদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় অবাধে সাদাপাথর তোলা হচ্ছে বলে অভিযোগ পরিবেশকর্মীদের।

 

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়ক শাহ শাহেদা বলেন, ‘প্রশাসন এখানে কোনো কাজই করছে না। পাথর সংরক্ষণ করার জন্য যেসব পদক্ষেপ নেয়া দরকার, তা করা হচ্ছে না।’

 

জেলা প্রশাসনের দাবি নিয়মিত অভিযান চালালেও জনবল সংকট আর নানা সীমাবদ্ধতায় ঠেকানো যাচ্ছে না লুটপাট।