দেশের মাটিতে নির্ধারিত মানদণ্ডের চেয়ে ৩৫০ গুণ বেশি সিসা!

দেশের মাটিতে নির্ধারিত মানদণ্ডের চেয়ে ৩৫০ গুণ বেশি সিসা!

বাংলাদেশের মাটিতে আন্তর্জাতিক মানের চেয়েও ৩৫০ গুণ বেশি সিসা শনাক্ত হয়েছে। আন্তর্জাতিক পরিবেশবাদী সংস্থা পিওর আর্থের চারটি সিসা প্রতিকার প্রকল্পের গবেষণায় বাংলাদেশের মাটিতে সিসার মাত্রা সর্বোচ্চ ৭০ হাজার পিপিএম পর্যন্ত পাওয়া গেছেযা মার্কিন পরিবেশ সংরক্ষণ সংস্থার (ইপিএ) নির্ধারিত মানদণ্ড ২০০ পিপিএমের তুলনায় প্রায় ৩৫০ গুণ বেশিএকই এলাকায় শিশুদের রক্তে সিসার মাত্রা পাওয়া গেছে সর্বোচ্চ ৪৭ মাইক্রোগ্রাম পার ডেসিলিটার। এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) মানদণ্ড ৩.৫।

 

ঢাকার একটি হোটেলে পরিবেশ অধিদপ্তর ও পিওর আর্থের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক ভ্যালিডেশন কর্মশালায় এসব তথ্য জানানো হয়।

 

কর্মশালায় ‘টক্সিক সাইট আইডেনটিফিকেশন প্রোগ্রাম গাইডলাইন’ এবং ‘সিসা-দূষিত স্থানের প্রতিকার ও ঝুঁকি হ্রাস নির্দেশিকা’ পর্যালোচনা ও যাচাই করা হয়; যা সিসা দূষণ মোকাবিলায় দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় কাঠামো হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

 

পিওর আর্থ বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মিতালী দাস বলেন, বাংলাদেশে পরিচালিত প্রকল্পগুলোতে পাওয়া ৭০ হাজার পিপিএম সিসা মাত্রা উদ্বেগজনক। এই মাত্রা শুধু পরিবেশের জন্য নয়, শিশুর স্নায়ু বিকাশ, বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা ও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকির জন্য ভয়াবহ হুমকি। তিনি ভবিষ্যতে যেন এমন ভয়াবহভাবে দূষিত স্থান তৈরি না হয়, সে জন্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন।

 

কর্মশালায় পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. কামরুজ্জামান বলেন, নতুন নির্দেশিকাগুলো অনুমোদনের মাধ্যমে সিসা-দূষিত স্থানগুলো সুশৃঙ্খলভাবে শনাক্ত ও প্রতিকার করার ক্ষেত্রে পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়বে। বিশেষ করে অবৈধ ও অনিয়ন্ত্রিত ব্যাটারি রিসাইক্লিংয়ের কারণে সৃষ্ট দূষণ নিয়ন্ত্রণে এই নির্দেশিকাগুলো কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ বলেন, আগামী ১০ বছরের মধ্যে ব্যবহৃত ব্যাটারির সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা না গেলে সিসাদূষণ দেশের জন্য মহামারি আকার ধারণ করতে পারে। তিনি জানান, এই কর্মশালার পর নির্দেশিকাগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে আইনি কাঠামোর আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে সিসা দূষিত স্থান ব্যবস্থাপনায় সরকার বাধ্যতামূলক ও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারে।

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

জনপ্রিয় সংবাদ

সারাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত

দেশের মাটিতে নির্ধারিত মানদণ্ডের চেয়ে ৩৫০ গুণ বেশি সিসা!

আপডেট সময় ০২:২৬:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের মাটিতে আন্তর্জাতিক মানের চেয়েও ৩৫০ গুণ বেশি সিসা শনাক্ত হয়েছে। আন্তর্জাতিক পরিবেশবাদী সংস্থা পিওর আর্থের চারটি সিসা প্রতিকার প্রকল্পের গবেষণায় বাংলাদেশের মাটিতে সিসার মাত্রা সর্বোচ্চ ৭০ হাজার পিপিএম পর্যন্ত পাওয়া গেছেযা মার্কিন পরিবেশ সংরক্ষণ সংস্থার (ইপিএ) নির্ধারিত মানদণ্ড ২০০ পিপিএমের তুলনায় প্রায় ৩৫০ গুণ বেশিএকই এলাকায় শিশুদের রক্তে সিসার মাত্রা পাওয়া গেছে সর্বোচ্চ ৪৭ মাইক্রোগ্রাম পার ডেসিলিটার। এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) মানদণ্ড ৩.৫।

 

ঢাকার একটি হোটেলে পরিবেশ অধিদপ্তর ও পিওর আর্থের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক ভ্যালিডেশন কর্মশালায় এসব তথ্য জানানো হয়।

 

কর্মশালায় ‘টক্সিক সাইট আইডেনটিফিকেশন প্রোগ্রাম গাইডলাইন’ এবং ‘সিসা-দূষিত স্থানের প্রতিকার ও ঝুঁকি হ্রাস নির্দেশিকা’ পর্যালোচনা ও যাচাই করা হয়; যা সিসা দূষণ মোকাবিলায় দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় কাঠামো হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

 

পিওর আর্থ বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মিতালী দাস বলেন, বাংলাদেশে পরিচালিত প্রকল্পগুলোতে পাওয়া ৭০ হাজার পিপিএম সিসা মাত্রা উদ্বেগজনক। এই মাত্রা শুধু পরিবেশের জন্য নয়, শিশুর স্নায়ু বিকাশ, বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা ও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকির জন্য ভয়াবহ হুমকি। তিনি ভবিষ্যতে যেন এমন ভয়াবহভাবে দূষিত স্থান তৈরি না হয়, সে জন্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন।

 

কর্মশালায় পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. কামরুজ্জামান বলেন, নতুন নির্দেশিকাগুলো অনুমোদনের মাধ্যমে সিসা-দূষিত স্থানগুলো সুশৃঙ্খলভাবে শনাক্ত ও প্রতিকার করার ক্ষেত্রে পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়বে। বিশেষ করে অবৈধ ও অনিয়ন্ত্রিত ব্যাটারি রিসাইক্লিংয়ের কারণে সৃষ্ট দূষণ নিয়ন্ত্রণে এই নির্দেশিকাগুলো কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ বলেন, আগামী ১০ বছরের মধ্যে ব্যবহৃত ব্যাটারির সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা না গেলে সিসাদূষণ দেশের জন্য মহামারি আকার ধারণ করতে পারে। তিনি জানান, এই কর্মশালার পর নির্দেশিকাগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে আইনি কাঠামোর আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে সিসা দূষিত স্থান ব্যবস্থাপনায় সরকার বাধ্যতামূলক ও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারে।