পলিথিন-প্লাস্টিক জমে বুড়িগঙ্গায় পরিণত হচ্ছে সুরমা

পলিথিন-প্লাস্টিক জমে বুড়িগঙ্গায় পরিণত হচ্ছে সুরমা

ঢাকার জন্ম দেয়া বুড়িগঙ্গার তলদেশে এখন ১০ ফুট পর্যন্ত পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্য, নদীর প্রবাহ ও স্বাভাবিক চেহারা হয়তো আর কখনোই স্বাভাবিক হবে না। এদিকে সুরমা নদীর উত্তর তীরে অবস্থিত প্রাচীন শহর সিলেটও যেন জন্মদাত্রী সুরমাকেই পলিথিনে শ্বাসরোধ করে মারছে। ধীরে ধীরে কিন্তু ধারাবাহিকভাবে সুরমাকেও বুড়িগঙ্গার মতোই ‘গলাটিপে’ হত্যা করছে পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্য।

সুরমা নদীতে ব্যাপক পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলার ফলে নদীটি তার নাব্যতা হারাচ্ছে। এর ফলে নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাচ্ছে, জলজ জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হচ্ছে এবং বর্ষাকালে ড্রেনেজ সিস্টেম অচল হয়ে শহরজুড়ে মারাত্মক জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে। প্রতিদিন প্রায় ৫৪ টন বর্জ্য নদীতে মিশছে, যা বাস্তুতন্ত্রের জন্য হুমকি।

টনকে টন বর্জ্যে খরস্রোতা সুরমা নদী তার যৌবন হারিয়ে ফেলছে, শুকনো মৌসুমে আবর্জনার স্তুপগুলো চরের মতো জেগে উঠতে দেখা যাচ্ছে। নদীর পারে অন্তত ৫০টি স্থানে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ জমেছে। নদীর মাঝ অবধি ছড়িয়ে পড়েছে দুর্গন্ধময় বর্জ্য। দূর থেকে দেখলে মনে হয় এ কোনো নদী নয়, ময়লার ভাগাড়।

শুকনো মৌসুমে আবর্জনার স্তুপগুলো চরের মতো জেগে উঠতে দেখা যাচ্ছে। ছবি- সমকাল

সমকাল অনলাইনের এক প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে: সবচেয়ে উদ্বেগজনক চিত্র দেখা যায় কালীঘাট ও কাজীরবাজার এলাকায়। এ দুটি এলাকায় শৌচাগারের ময়লা সরাসরি নদীতে এসে পড়ছে। শেখঘাট ও কদমতলী ঘাটে প্রকাশ্যে ময়লা ফেলা হচ্ছে।পরিবেশবিদদের মতে, নদীর শহর অংশে হাজার হাজার টন পলিথিন বর্জ্য ইতোমধ্যে নদীর তলদেশে জমে গেছে। কোনো কোনো স্থানে তলদেশে ৫ থেকে ৬ ফুট পর্যন্ত পলিথিনের স্তর।

এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন-এসডো’র হিসেবে ২০২১ সালেই সুরমা নদীতে প্রায় ১৯ হাজার টন প্লাস্টিক বর্জ্য জমেছিল, যা নদীটিকে একটি ভাগাড়ে পরিণত করেছে। বলা বাহুল্য যে ২০২৬ সালে বর্জ্যের পরিমাণ বেড়েছে।পরিবেশ নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘বাচাও’-এর প্রধান নির্বাহী তাইনুল ইসলাম আসলাম বলেন, ‘এ সুরমার পাশে বড় হয়েছি। সাঁতার কাটা থেকে শুরু করে সবই ছিল সুরমাকেন্দ্রিক। এখন নদীকে যেন বর্জ্য ফেলার ভাগাড় বানানো হয়েছে।’

সুরমাকে বাঁচাতে একযোগে সাতটি পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জারি অ্যান্ড থ্রিজেনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) যুগ্ম সম্পাদক নাসরিন সুলতানা লাকী। এগুলো হলো– দ্রুত নদী খননকাজ শুরু করে পলি অপসারণ ও নাব্য ফিরিয়ে আনা; অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও নদীর জমি উদ্ধার; নিয়মিত পলিথিন অপসারণ অভিযান; নদীর আশপাশে পর্যাপ্ত ডাস্টবিন স্থাপন ও বর্জ্য সংগ্রহ নিশ্চিতকরণ; নদীতে বর্জ্য নিক্ষেপকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা; সিলেট থেকে দুজন মন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা এবং স্কুল-কলেজ থেকে শুরু করে মসজিদ-মন্দির পর্যন্ত সব পর্যায়ে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা।

তিনি বলেন, সরকারি উদ্যোগ ও নগরবাসীর সচেতনতা– দুটো না মিললে সুরমার পুনরুজ্জীবন স্বপ্নই থেকে যাবে। আগামী প্রজন্ম সুরমাকে যেন ইতিহাসের পাতায় নয়, জীবন্ত নদী হিসেবে চিনতে পারে, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

বজ্রপাতে একদিনে দেশজুড়ে ১২ প্রাণহানি  

পলিথিন-প্লাস্টিক জমে বুড়িগঙ্গায় পরিণত হচ্ছে সুরমা

আপডেট সময় ১০:৪৩:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ঢাকার জন্ম দেয়া বুড়িগঙ্গার তলদেশে এখন ১০ ফুট পর্যন্ত পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্য, নদীর প্রবাহ ও স্বাভাবিক চেহারা হয়তো আর কখনোই স্বাভাবিক হবে না। এদিকে সুরমা নদীর উত্তর তীরে অবস্থিত প্রাচীন শহর সিলেটও যেন জন্মদাত্রী সুরমাকেই পলিথিনে শ্বাসরোধ করে মারছে। ধীরে ধীরে কিন্তু ধারাবাহিকভাবে সুরমাকেও বুড়িগঙ্গার মতোই ‘গলাটিপে’ হত্যা করছে পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্য।

সুরমা নদীতে ব্যাপক পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলার ফলে নদীটি তার নাব্যতা হারাচ্ছে। এর ফলে নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাচ্ছে, জলজ জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হচ্ছে এবং বর্ষাকালে ড্রেনেজ সিস্টেম অচল হয়ে শহরজুড়ে মারাত্মক জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে। প্রতিদিন প্রায় ৫৪ টন বর্জ্য নদীতে মিশছে, যা বাস্তুতন্ত্রের জন্য হুমকি।

টনকে টন বর্জ্যে খরস্রোতা সুরমা নদী তার যৌবন হারিয়ে ফেলছে, শুকনো মৌসুমে আবর্জনার স্তুপগুলো চরের মতো জেগে উঠতে দেখা যাচ্ছে। নদীর পারে অন্তত ৫০টি স্থানে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ জমেছে। নদীর মাঝ অবধি ছড়িয়ে পড়েছে দুর্গন্ধময় বর্জ্য। দূর থেকে দেখলে মনে হয় এ কোনো নদী নয়, ময়লার ভাগাড়।

শুকনো মৌসুমে আবর্জনার স্তুপগুলো চরের মতো জেগে উঠতে দেখা যাচ্ছে। ছবি- সমকাল

সমকাল অনলাইনের এক প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে: সবচেয়ে উদ্বেগজনক চিত্র দেখা যায় কালীঘাট ও কাজীরবাজার এলাকায়। এ দুটি এলাকায় শৌচাগারের ময়লা সরাসরি নদীতে এসে পড়ছে। শেখঘাট ও কদমতলী ঘাটে প্রকাশ্যে ময়লা ফেলা হচ্ছে।পরিবেশবিদদের মতে, নদীর শহর অংশে হাজার হাজার টন পলিথিন বর্জ্য ইতোমধ্যে নদীর তলদেশে জমে গেছে। কোনো কোনো স্থানে তলদেশে ৫ থেকে ৬ ফুট পর্যন্ত পলিথিনের স্তর।

এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন-এসডো’র হিসেবে ২০২১ সালেই সুরমা নদীতে প্রায় ১৯ হাজার টন প্লাস্টিক বর্জ্য জমেছিল, যা নদীটিকে একটি ভাগাড়ে পরিণত করেছে। বলা বাহুল্য যে ২০২৬ সালে বর্জ্যের পরিমাণ বেড়েছে।পরিবেশ নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘বাচাও’-এর প্রধান নির্বাহী তাইনুল ইসলাম আসলাম বলেন, ‘এ সুরমার পাশে বড় হয়েছি। সাঁতার কাটা থেকে শুরু করে সবই ছিল সুরমাকেন্দ্রিক। এখন নদীকে যেন বর্জ্য ফেলার ভাগাড় বানানো হয়েছে।’

সুরমাকে বাঁচাতে একযোগে সাতটি পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জারি অ্যান্ড থ্রিজেনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) যুগ্ম সম্পাদক নাসরিন সুলতানা লাকী। এগুলো হলো– দ্রুত নদী খননকাজ শুরু করে পলি অপসারণ ও নাব্য ফিরিয়ে আনা; অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও নদীর জমি উদ্ধার; নিয়মিত পলিথিন অপসারণ অভিযান; নদীর আশপাশে পর্যাপ্ত ডাস্টবিন স্থাপন ও বর্জ্য সংগ্রহ নিশ্চিতকরণ; নদীতে বর্জ্য নিক্ষেপকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা; সিলেট থেকে দুজন মন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা এবং স্কুল-কলেজ থেকে শুরু করে মসজিদ-মন্দির পর্যন্ত সব পর্যায়ে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা।

তিনি বলেন, সরকারি উদ্যোগ ও নগরবাসীর সচেতনতা– দুটো না মিললে সুরমার পুনরুজ্জীবন স্বপ্নই থেকে যাবে। আগামী প্রজন্ম সুরমাকে যেন ইতিহাসের পাতায় নয়, জীবন্ত নদী হিসেবে চিনতে পারে, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।