দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১৩ ঘণ্টার ব্যবধানে আবারও মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টা ৪ মিনিট ৫ সেকেন্ডে এ কম্পন অনুভূত হয়।
ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূমিকম্প কেন্দ্র (ইএমএসসি)-এর ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে এ ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৭। এর উৎপত্তিস্থল ছিল সিকিম, ভারত। ভূমিকম্পটির অবস্থান ছিল ২৭ দশমিক ২১১ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ ও ৮৮ দশমিক ২১৫ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে। ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল ১০ কিলোমিটার।
এর আগে, গত বুধবার রাত ১০টা ৫৫ মিনিটে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরেকটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ইএমএসসি জানায়, ওই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ১। এর উৎপত্তিস্থল ছিল মিয়ানমার। ভূমিকম্পটির অবস্থান ছিল ২৩ দশমিক ০৪১১ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ ও ৯৪ দশমিক ৭২৬৮ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে এবং ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল ১০১ কিলোমিটার।
এই দু’টি নিয়ে দেশে এই মাসের ২৬ দিনে ৯ বার ভূমিকম্প অনুভূত হলো। ভূতত্ত্ববিদ অধ্যাপক সৈয়দ হুমায়ুন আখতার সংবাদমাধ্যমকে বলেন, এই ঘন ঘন কম্পন বড় কোনো ভূমিকম্পের পূর্বলক্ষণ (Early Warning Signs) হতে পারে। বাংলাদেশ ভারতীয় এবং ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের (Indian and Eurasian Tectonic Plates) সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় এখানে বড় ধরনের ভূ-অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা বিরাজ করছে। তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিন শক্তি জমা হয়ে থাকলে তা বড় বিপর্যয়ের রূপ নিতে পারে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ভারতীয় এবং ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় এখানে বড় ধরনের ভূ-অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা বিরাজ করছে। দীর্ঘদিন শক্তি জমা হয়ে থাকলে তা বড় বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে।
বাংলাদেশ ভারতীয়, ইউরেশীয় এবং বার্মিজ—এই তিনটি প্রধান টেকটনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় এখানে ঘন ঘন ভূমিকম্প অনুভূত হচ্ছে । এছাড়া, দেশের অভ্যন্তরে সিলেট-আসামের ডাউকি চ্যুতি এবং চট্টগ্রাম-আরাকান অঞ্চলের সক্রিয় ফল্ট লাইনগুলো বড় ধরনের ভূ-তাত্ত্বিক চাপ তৈরি করছে, যা সাম্প্রতিক সময়ে ছোট ও মাঝারি ধরনের কম্পনগুলো বাড়িয়েছে।
বিপদ উপরে নিচে
রাজধানী ঢাকাসহ দেশজুড়ে গড়ে ওঠা অসংখ্য ভবনে মানা হয়নি ভূমিকম্প সহনীয় বিল্ডিং কোড। নিয়ম না মেনে নির্মিত এসব ভবন ভূমিকম্পে মাথার উপরে যেমন ঝুঁকি তৈরি করে রেখেছে তেমনি দেশের ভূগর্ভেও জমেছে আরেক বিপদ।
কৃষিতে অতিরিক্ত সেচ এবং দ্রুত নগরায়ণের ফলে পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। ফলে ভূগর্ভে বালি ও মাটির ফাঁকা জায়গা তৈরি হচ্ছে, যা বড় ধরনের ভূমিকম্পে ধস বা ধ্বসের ঝুঁকি বাড়ায়।২০২৫ সালের ২১ নভেম্বর ঘটা ৫.২ মাত্রার ভূমিকম্পে পুরান ঢাকায় ভবনের অংশ ধসে মানুষের মৃত্যু, কয়েক জায়গায় ভবন হেলে যাওয়া এবং ফাটল সৃষ্টি হতে দেখা গেছে।

এছাড়া ওই ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল নরসিংদীতে রাস্তা-ফসলের মাঠে বড় ফাটলের পাশাপাশি স্থাপনা দেবে যাওয়ার মতো ঘটনা দেখা গেছে।
ভূমিকম্পের তীব্রতা: বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে গেলে মাটির নিচের ভারসাম্য নষ্ট হয়। এতে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পে বা ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি হতে পারে।
প্রকৃতিবার্তা ডেস্ক 










