দূষিত শহরের তালিকায় আবারও শীর্ষে ঢাকা

দূষিত শহরের তালিকায় আবারও শীর্ষে ঢাকা

রাজধানী ঢাকার বায়ুমান আবারও উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। কয়েকদিনের স্বস্তির পর ফের বেড়েছে বায়ুদূষণ, যার ফলে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় আবারও শীর্ষে উঠে এসেছে মেগাসিটি ঢাকা।

বুধবার (১১ মার্চ) সকালে বায়ুমানের আন্তর্জাতিক সূচক একিউআই অনুযায়ী ঢাকার স্কোর দাঁড়িয়েছে ২১৩, যা ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত। এই অবস্থায় নগরবাসীর জন্য বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং শ্বাসকষ্ট বা দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্তদের জন্য ঝুঁকি অনেক বেশি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

একই সময়ে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ভারতের রাজধানী দিল্লি, যার একিউআই স্কোর ২০৬। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে সেনেগালের রাজধানী ডাকার (১৯৬)। তালিকার চতুর্থ স্থানে পাকিস্তানের লাহোর শহরের স্কোর ১৯০ এবং পঞ্চম স্থানে থাকা নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর স্কোর ১৮১।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বায়ুদূষণের মাত্রা বাড়লে শ্বাসতন্ত্রের রোগ, অ্যালার্জি এবং হৃদরোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। তাই এ ধরনের পরিস্থিতিতে অপ্রয়োজনীয় বাইরে যাতায়াত কমানো এবং প্রয়োজনে মাস্ক ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

বায়ুমানের সূচক একিউআই অনুযায়ী ০ থেকে ৫০ স্কোরকে ভালো ধরা হয়। ৫১ থেকে ১০০ মাঝারি মানের বায়ু নির্দেশ করে। ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর হলে তা সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয়। আর ১৫১ থেকে ২০০ স্কোর হলে বায়ুমানকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়।

তবে স্কোর ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে পৌঁছালে সেটি ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে পড়ে। এই সময় শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয় এবং অন্যদেরও বাইরে কার্যক্রম সীমিত রাখতে বলা হয়। আর ৩০১ থেকে ৪০০ স্কোর হলে তা ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ধরা হয়, যা নগরবাসীর জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

পরিবেশবিদরা বলছেন, যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণকাজের ধুলা, শিল্পকারখানার নির্গমন এবং মৌসুমি আবহাওয়ার কারণে ঢাকার বায়ুদূষণ দীর্ঘদিন ধরেই উচ্চমাত্রায় রয়েছে। টেকসই নগর ব্যবস্থাপনা ও কঠোর পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ ছাড়া এই সংকট থেকে দ্রুত মুক্তি পাওয়া কঠিন বলেও মনে করছেন তারা।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

সারাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত

দূষিত শহরের তালিকায় আবারও শীর্ষে ঢাকা

আপডেট সময় ১০:৫২:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
রাজধানী ঢাকার বায়ুমান আবারও উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। কয়েকদিনের স্বস্তির পর ফের বেড়েছে বায়ুদূষণ, যার ফলে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় আবারও শীর্ষে উঠে এসেছে মেগাসিটি ঢাকা।

বুধবার (১১ মার্চ) সকালে বায়ুমানের আন্তর্জাতিক সূচক একিউআই অনুযায়ী ঢাকার স্কোর দাঁড়িয়েছে ২১৩, যা ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত। এই অবস্থায় নগরবাসীর জন্য বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং শ্বাসকষ্ট বা দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্তদের জন্য ঝুঁকি অনেক বেশি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

একই সময়ে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ভারতের রাজধানী দিল্লি, যার একিউআই স্কোর ২০৬। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে সেনেগালের রাজধানী ডাকার (১৯৬)। তালিকার চতুর্থ স্থানে পাকিস্তানের লাহোর শহরের স্কোর ১৯০ এবং পঞ্চম স্থানে থাকা নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর স্কোর ১৮১।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বায়ুদূষণের মাত্রা বাড়লে শ্বাসতন্ত্রের রোগ, অ্যালার্জি এবং হৃদরোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। তাই এ ধরনের পরিস্থিতিতে অপ্রয়োজনীয় বাইরে যাতায়াত কমানো এবং প্রয়োজনে মাস্ক ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

বায়ুমানের সূচক একিউআই অনুযায়ী ০ থেকে ৫০ স্কোরকে ভালো ধরা হয়। ৫১ থেকে ১০০ মাঝারি মানের বায়ু নির্দেশ করে। ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর হলে তা সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয়। আর ১৫১ থেকে ২০০ স্কোর হলে বায়ুমানকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়।

তবে স্কোর ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে পৌঁছালে সেটি ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে পড়ে। এই সময় শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয় এবং অন্যদেরও বাইরে কার্যক্রম সীমিত রাখতে বলা হয়। আর ৩০১ থেকে ৪০০ স্কোর হলে তা ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ধরা হয়, যা নগরবাসীর জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

পরিবেশবিদরা বলছেন, যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণকাজের ধুলা, শিল্পকারখানার নির্গমন এবং মৌসুমি আবহাওয়ার কারণে ঢাকার বায়ুদূষণ দীর্ঘদিন ধরেই উচ্চমাত্রায় রয়েছে। টেকসই নগর ব্যবস্থাপনা ও কঠোর পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ ছাড়া এই সংকট থেকে দ্রুত মুক্তি পাওয়া কঠিন বলেও মনে করছেন তারা।