মার্কিন-ইসরায়েলী আগ্রাসনের জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে এই দুই দেশের মিত্র ও সামরিক ঘাঁটিসহ পশ্চিমা স্থাপনায় আঘাত হানছে ইরানের মিসাইল ও ড্রোন। দুবাই, মানামায় এসবের আঘাতে প্রাণহানিও ঘটেছে। চলমান পরিস্থিতি বিলাসী দুবাইতে তৈরি করেছে যুদ্ধের ভয়ঙ্কর আতঙ্ক। প্রাণভয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন এলাকা, বিশেষ করে দুবাই থেকে দেশ ছাড়তে শুরু করেছেন অনেক বাসিন্দা। তড়িঘড়ি করে চলে যাওয়ার সময় অনেকেই তাদের পোষা প্রাণী রাস্তায় ফেলে রেখে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন পশু চিকিৎসক ও প্রাণী অধিকারকর্মীরা।
সবচেয়ে হৃদয়বিদারক হলো, সংকট বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পোষা প্রাণী ‘ইউথ্যানেশিয়া’ বা ব্যথামুক্তভাবে মেরে ফেলার অনুরোধও বাড়ছে। আবার অনেক মালিক সরাসরি বিড়াল ও কুকুর রাস্তায় ছেড়ে দিয়ে দেশ ছাড়ছেন।
তথ্য অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাত–এ মোট পোষা প্রাণীর সংখ্যা ২০ লাখের বেশি। বিশেষ করে দুবাইয়ে কুকুরের তুলনায় বিড়ালের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ। সেখানে প্রায় ৬৪ দশমিক ৯৮ শতাংশ পোষা প্রাণীর মালিক বিড়াল পালন করেন।

দুবাইয়ে কুকুর পুনর্বাসনে কাজ করা সংগঠন কে-নাইন ফ্রেন্ডস দুবাই জানিয়েছে, পোষা প্রাণী ফেলে যাওয়ার খবর এখন তাদের কাছে উপচে পড়ছে। একইভাবে পোষা প্রাণী বোর্ডিং সেবা প্রতিষ্ঠান দ্য বার্কিং লট জানিয়েছে, তারা যতটা সম্ভব সহনশীল থাকার চেষ্টা করছে, তবে আশ্রয়কেন্দ্রগুলো ইতোমধ্যেই ভরে গেছে।
একজন স্বেচ্ছাসেবক জানান, খুঁটির সঙ্গে বাঁধা কুকুরের হৃদয়বিদারক ছবি এখন হোয়াটসঅ্যাপ ও ফেসবুক গ্রুপে ছড়িয়ে পড়ছে। তিনি একাই এমন দুই শতাধিক পোস্ট দেখেছেন।
এদিকে কিছু বাসিন্দা ওমান সীমান্ত দিয়ে দেশ ছাড়ার চেষ্টা করলেও পোষা প্রাণী সঙ্গে নিতে না পারায় মরুভূমিতে ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানা গেছে।
প্রাণী অধিকার সংগঠন War Paws বলেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো ধনী দেশে এত সংখ্যক প্রাণী পরিত্যাগের ঘটনা অকল্পনীয়।
প্রকৃতিবার্তা ডেস্ক 




















