নেপালের সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন বালেন্দ্র শাহ

নেপালের সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন বালেন্দ্র শাহ

নেপালের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন বালেন্দ্র শাহ। শুক্রবার এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে তাকে শপথবাক্য পাঠ করান দেশটির প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পাউডেল।

সংবিধানের ৭৬(১) ধারার অধীনে তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। চলতি মাসের শুরুতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তার দল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) সংসদের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয় পাওয়ার পরই তিনি সরকার গঠনের সুযোগ পান।

৩৫ বছর বয়সী শাহ, যিনি ‘বালেন’ নামেই বেশি পরিচিত, নেপালের প্রচলিত রাজনৈতিক ধারার বাইরে থেকে উঠে আসা এক নতুন মুখ। একজন স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও কাঠমান্ডুর মেয়র হওয়ার আগে তিনি র‍্যাপ শিল্পী হিসেবেও জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানটি ছিল ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে সমৃদ্ধ। হিন্দু রীতিতে শঙ্খধ্বনি, পুরোহিতদের মন্ত্রপাঠের পাশাপাশি বৌদ্ধ লামাদের অংশগ্রহণও ছিল।
অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি কূটনীতিক ও কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে নবগঠিত মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়েও শপথ নেন তিনি। শাহ এমন এক সময় দায়িত্ব নিলেন, যখন নেপালের জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি ব্যাপক অসন্তোষ রয়েছে। দুর্নীতি, বেকারত্ব এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতাকে এ অসন্তোষের প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।বিশ্লেষকদের মতে, জনগণের এই আস্থাহীনতা কাটিয়ে স্থিতিশীল ও কার্যকর সরকার গঠনই হবে তার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে নেপালে সংঘটিত জেনারেশন জেড নেতৃত্বাধীন আন্দোলন দেশটির রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন আনে। দুর্নীতি, বেকারত্ব এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধের প্রতিবাদে শুরু হওয়া এ আন্দোলন পরে সহিংস রূপ নেয়। এই আন্দোলনের চাপে সে সময়ের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি পদত্যাগে বাধ্য হন এবং একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়। যদিও বালেন্দ্র শাহ সরাসরি আন্দোলনে অংশ নেননি, তিনি প্রকাশ্যে তরুণদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন। ফলে নতুন প্রজন্মের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ে।

পরবর্তীতে ৫ মার্চ অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তার দল আরএসপি বড় জয় পায় এবং সেই ধারাবাহিকতায় তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পান। কাঠমান্ডুতে জন্ম নেওয়া শাহের পারিবারিক শিকড় নেপালের তরাই অঞ্চলে। ধর্মীয়ভাবে প্রভাবশালী এই দেশে হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি ও বিশ্বাসও তার রাজনৈতিক পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সারাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত

নেপালের সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন বালেন্দ্র শাহ

আপডেট সময় ০৭:০৮:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬
নেপালের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন বালেন্দ্র শাহ। শুক্রবার এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে তাকে শপথবাক্য পাঠ করান দেশটির প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পাউডেল।

সংবিধানের ৭৬(১) ধারার অধীনে তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। চলতি মাসের শুরুতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তার দল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) সংসদের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয় পাওয়ার পরই তিনি সরকার গঠনের সুযোগ পান।

৩৫ বছর বয়সী শাহ, যিনি ‘বালেন’ নামেই বেশি পরিচিত, নেপালের প্রচলিত রাজনৈতিক ধারার বাইরে থেকে উঠে আসা এক নতুন মুখ। একজন স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও কাঠমান্ডুর মেয়র হওয়ার আগে তিনি র‍্যাপ শিল্পী হিসেবেও জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানটি ছিল ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে সমৃদ্ধ। হিন্দু রীতিতে শঙ্খধ্বনি, পুরোহিতদের মন্ত্রপাঠের পাশাপাশি বৌদ্ধ লামাদের অংশগ্রহণও ছিল।
অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি কূটনীতিক ও কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে নবগঠিত মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়েও শপথ নেন তিনি। শাহ এমন এক সময় দায়িত্ব নিলেন, যখন নেপালের জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি ব্যাপক অসন্তোষ রয়েছে। দুর্নীতি, বেকারত্ব এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতাকে এ অসন্তোষের প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।বিশ্লেষকদের মতে, জনগণের এই আস্থাহীনতা কাটিয়ে স্থিতিশীল ও কার্যকর সরকার গঠনই হবে তার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে নেপালে সংঘটিত জেনারেশন জেড নেতৃত্বাধীন আন্দোলন দেশটির রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন আনে। দুর্নীতি, বেকারত্ব এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধের প্রতিবাদে শুরু হওয়া এ আন্দোলন পরে সহিংস রূপ নেয়। এই আন্দোলনের চাপে সে সময়ের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি পদত্যাগে বাধ্য হন এবং একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়। যদিও বালেন্দ্র শাহ সরাসরি আন্দোলনে অংশ নেননি, তিনি প্রকাশ্যে তরুণদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন। ফলে নতুন প্রজন্মের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ে।

পরবর্তীতে ৫ মার্চ অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তার দল আরএসপি বড় জয় পায় এবং সেই ধারাবাহিকতায় তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পান। কাঠমান্ডুতে জন্ম নেওয়া শাহের পারিবারিক শিকড় নেপালের তরাই অঞ্চলে। ধর্মীয়ভাবে প্রভাবশালী এই দেশে হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি ও বিশ্বাসও তার রাজনৈতিক পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।