কুকুরকে কুমিরের মুখে ফেলে দেয়া নিয়ে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া, তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ প্রতিমন্ত্রী টুকুর

  • নাসিমুল শুভ
  • আপডেট সময় ০৬:০৯:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
  • 75

কুকুরকে কুমিরের মুখে ফেলে দেয়া নিয়ে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া, তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ প্রতিমন্ত্রী টুকুর

বাগেরহাটে হজরত খানজাহান (রহ.)-এর মাজারসংলগ্ন দিঘিতে কুমিরের মুখে একটি কুকুরের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত অনেকেই ভিডিও ধারণে ব্যস্ত থাকলেও অসহায় প্রাণীটিকে রক্ষায় কেউ এগিয়ে না আসায় মানবিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আরও প্রশ্ন উঠেছে কালা পাহাড়-ধলা পাহাড় নামের কুমিরগুলোর পর খানজাহানের মাজারের পুকুরে কুমিরগুলো আসলে কোথা থেকে আনা হলো? মানত, দান-সদকার আবেগকে পুঁজি করে ধর্মব্যবসার চক্রকেও সামনে আনছেন অনেক নেটিজেন।

 

তানভীর আলম দীপ্ত নামের একজন নিজের ফেসবুক ওয়ালে লিখেছেন, ‘বাগেরহাটের খানজাহান আলী (র.) মাজার-এর দিঘির সুপরিচিত শতবর্ষী নারী কুমির ‘ধলা পাহাড়’ ছিল এই ঐতিহ্যের অন্যতম প্রতীক। ‘কালা পাহাড়’-এর সঙ্গে এটি মাজারের ঐতিহাসিক কুমির বংশের শেষ নিদর্শন হিসেবে পরিচিত ছিল। ২০১৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি দিঘিতে ভাসমান অবস্থায় ‘ধলা পাহাড়’-এর মৃতদেহ পাওয়া গেলে শত বছরের এই কুমির ঐতিহ্যের কার্যত সমাপ্তি ঘটে।

বর্তমানে দিঘিতে যে কুমিরগুলো দেখা যায়, সেগুলো বাইরে থেকে—বিশেষ করে ভারত থেকে—আনা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেকের মতে, এসব কুমির রাখা হচ্ছে মূলত বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে। ভক্তরা যে ছাগল বা মুরগি কুমিরের জন্য নিয়ে আসেন, সেগুলো বাইরে থেকে আনলে অনেক সময় দিতে দেওয়া হয় না; বরং স্থানীয় বিক্রেতাদের কাছ থেকেই কিনতে হয়। এমন অভিযোগও রয়েছে যে, কুমিরে না খাওয়া প্রাণীগুলো আবার পুনরায় বিক্রি করা হয়।

এছাড়া, কিছু ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ কুমিরের আক্রমণের শিকার হয়েছেন—এমন তথ্যও পাওয়া গেছে, যা নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তোলে।

এই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি—পুরো বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কুমিরগুলোকে উপযুক্ত স্থানে, যেমন চিড়িয়াখানায় স্থানান্তর কিংবা অন্যান্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।”

 

অনেকে আবার কেবল কুকুরের জন্য মায়া করার সমালোচনা করে কুমিরের মুখে ঠেলে দেয়া জীবন্ত ছাগল, হাঁস-মুরগিকে নিয়ে তেমন আলোচনার ঝড় না ওঠায় তীব্র কটাক্ষও করেছেন।

এমন সমালোচনা করা একটি পোস্ট রীতিমতো ভাইরাল হয়েছে, অনেকে লেখাটি হুবহু কপি করে ফেসবুকে শেয়ার করেছেন। এই পোস্টে লেখা হয়েছে:

“আজ প্রায় ২/৩ বছর যাবত দেখি ছাগলের ভিডিও কিন্তু এমন প্রতিবাদ দেখি নাই। কুকুরের জায়গায় ছাগল থাকলে সমস্যা হতো না । কারণ কুকুরও তো ‘মানুষ’, ছাগল তো আর মানুষ না । তাছাড়া কুকুরের মতো রেপুটেশনও নাই ছাগলের ।

খান জাহান আলীর ওই মহামান্য কুমিরদেরকে ছাগল খাওয়াতে দেখেছি, জ্যান্ত ছাগল । অনেক ভিডিও আছে সেসবের । ছাগলের এমন কপাল, যুগ যুগ ধইরা তারে মানুষ কখনো বাঘের মুখে, কখনো কুমিরের মুখে ঠেলে দিতেছে, কিন্তু কুকুরের মতো সে ভাইরাল হতে পারলো না ।

আমি নিজেও ছাগলের চেয়ে কুকুরকে বেশি পছন্দ করি, কারণ কুকুর স্মার্ট প্রাণী, অপরদিকে ছাগল ক্ষ্যাত । তাই কুকুরের জন্য কষ্ট একটু বেশি লাগে ।

খেয়াল করে দেখবেন, কুমিরকে ছাগল খাওয়ানো আর কুকুর খাওয়ানো একই রকম কাজ কিন্তু । কোনো পার্থক্য নাই । এমনও না যে বিলুপ্তপ্রায় সরাইল হাউন্ড কুকুর ধরে খাওয়ায় দিয়েছে । এইগুলা স্ট্রে ডগস । কিন্তু তবুও আমরা বিষয়টা মেনে নিতে পারছি না । কারণ কুকুরের সাথে আমাদের খাতির ভালো ।

হায়রে ছাগল! একটু স্মার্ট না হইলে এই যুগে টেকা কঠিন।”

 

এদিকে খানজাহান আলীর দীঘিতে কুকুরের প্রতি নির্মমতার ভিডিও সারাদেশে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা জন্ম দেয়ার পর বিষয়টি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর দৃষ্টিগোচর হয়েছে । তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের শাস্তির আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন। শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ কথা জানান।

প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, বাগেরহাটের ঘটনাটি আমাকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। শুধু সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নয়, একজন মানুষ হিসেবেও আমি মর্মাহত। বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই দেশে মানুষ এবং সকল প্রাণের বসবাসের অভয়ারণ্য হিসাবে গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর।

সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, এই অমানবিক ঘটনার সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দোষী ব্যক্তিকে শাস্তির আওতায় আনা হোক এবং ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়, সে জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

এদিকে প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনার পর জেলা প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আতিয়া খাতুনকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এবং সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘটনাটি গত বুধবার বিকেলে মাজারের দিঘির পাড়ে ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, অসুস্থ ও দুর্বল একটি কুকুর দিঘির পাড়ে ঘোরাফেরা করছিল। কিছুক্ষণ পর একটি কুমির এসে সেটিকে কামড়ে পানির নিচে নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় প্রাণী অধিকার কর্মীসহ অনেকেই অভিযোগ করেছেন, কুকুরটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে কুমিরের খাদ্য হিসেবে দেওয়া হয়েছে। তবে প্রত্যক্ষদর্শী ও মাজার কর্তৃপক্ষ এ অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, কুকুরটি অসুস্থ ছিল এবং পানিতে নামার আগে কয়েকজনকে আক্রমণ করেছিল; তাকে বেঁধে বা পরিকল্পিতভাবে কুমিরের সামনে ছেড়ে দেওয়া হয়নি।

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

জনপ্রিয় সংবাদ

সারাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত

কুকুরকে কুমিরের মুখে ফেলে দেয়া নিয়ে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া, তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ প্রতিমন্ত্রী টুকুর

আপডেট সময় ০৬:০৯:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

বাগেরহাটে হজরত খানজাহান (রহ.)-এর মাজারসংলগ্ন দিঘিতে কুমিরের মুখে একটি কুকুরের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত অনেকেই ভিডিও ধারণে ব্যস্ত থাকলেও অসহায় প্রাণীটিকে রক্ষায় কেউ এগিয়ে না আসায় মানবিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আরও প্রশ্ন উঠেছে কালা পাহাড়-ধলা পাহাড় নামের কুমিরগুলোর পর খানজাহানের মাজারের পুকুরে কুমিরগুলো আসলে কোথা থেকে আনা হলো? মানত, দান-সদকার আবেগকে পুঁজি করে ধর্মব্যবসার চক্রকেও সামনে আনছেন অনেক নেটিজেন।

 

তানভীর আলম দীপ্ত নামের একজন নিজের ফেসবুক ওয়ালে লিখেছেন, ‘বাগেরহাটের খানজাহান আলী (র.) মাজার-এর দিঘির সুপরিচিত শতবর্ষী নারী কুমির ‘ধলা পাহাড়’ ছিল এই ঐতিহ্যের অন্যতম প্রতীক। ‘কালা পাহাড়’-এর সঙ্গে এটি মাজারের ঐতিহাসিক কুমির বংশের শেষ নিদর্শন হিসেবে পরিচিত ছিল। ২০১৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি দিঘিতে ভাসমান অবস্থায় ‘ধলা পাহাড়’-এর মৃতদেহ পাওয়া গেলে শত বছরের এই কুমির ঐতিহ্যের কার্যত সমাপ্তি ঘটে।

বর্তমানে দিঘিতে যে কুমিরগুলো দেখা যায়, সেগুলো বাইরে থেকে—বিশেষ করে ভারত থেকে—আনা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেকের মতে, এসব কুমির রাখা হচ্ছে মূলত বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে। ভক্তরা যে ছাগল বা মুরগি কুমিরের জন্য নিয়ে আসেন, সেগুলো বাইরে থেকে আনলে অনেক সময় দিতে দেওয়া হয় না; বরং স্থানীয় বিক্রেতাদের কাছ থেকেই কিনতে হয়। এমন অভিযোগও রয়েছে যে, কুমিরে না খাওয়া প্রাণীগুলো আবার পুনরায় বিক্রি করা হয়।

এছাড়া, কিছু ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ কুমিরের আক্রমণের শিকার হয়েছেন—এমন তথ্যও পাওয়া গেছে, যা নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তোলে।

এই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি—পুরো বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কুমিরগুলোকে উপযুক্ত স্থানে, যেমন চিড়িয়াখানায় স্থানান্তর কিংবা অন্যান্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।”

 

অনেকে আবার কেবল কুকুরের জন্য মায়া করার সমালোচনা করে কুমিরের মুখে ঠেলে দেয়া জীবন্ত ছাগল, হাঁস-মুরগিকে নিয়ে তেমন আলোচনার ঝড় না ওঠায় তীব্র কটাক্ষও করেছেন।

এমন সমালোচনা করা একটি পোস্ট রীতিমতো ভাইরাল হয়েছে, অনেকে লেখাটি হুবহু কপি করে ফেসবুকে শেয়ার করেছেন। এই পোস্টে লেখা হয়েছে:

“আজ প্রায় ২/৩ বছর যাবত দেখি ছাগলের ভিডিও কিন্তু এমন প্রতিবাদ দেখি নাই। কুকুরের জায়গায় ছাগল থাকলে সমস্যা হতো না । কারণ কুকুরও তো ‘মানুষ’, ছাগল তো আর মানুষ না । তাছাড়া কুকুরের মতো রেপুটেশনও নাই ছাগলের ।

খান জাহান আলীর ওই মহামান্য কুমিরদেরকে ছাগল খাওয়াতে দেখেছি, জ্যান্ত ছাগল । অনেক ভিডিও আছে সেসবের । ছাগলের এমন কপাল, যুগ যুগ ধইরা তারে মানুষ কখনো বাঘের মুখে, কখনো কুমিরের মুখে ঠেলে দিতেছে, কিন্তু কুকুরের মতো সে ভাইরাল হতে পারলো না ।

আমি নিজেও ছাগলের চেয়ে কুকুরকে বেশি পছন্দ করি, কারণ কুকুর স্মার্ট প্রাণী, অপরদিকে ছাগল ক্ষ্যাত । তাই কুকুরের জন্য কষ্ট একটু বেশি লাগে ।

খেয়াল করে দেখবেন, কুমিরকে ছাগল খাওয়ানো আর কুকুর খাওয়ানো একই রকম কাজ কিন্তু । কোনো পার্থক্য নাই । এমনও না যে বিলুপ্তপ্রায় সরাইল হাউন্ড কুকুর ধরে খাওয়ায় দিয়েছে । এইগুলা স্ট্রে ডগস । কিন্তু তবুও আমরা বিষয়টা মেনে নিতে পারছি না । কারণ কুকুরের সাথে আমাদের খাতির ভালো ।

হায়রে ছাগল! একটু স্মার্ট না হইলে এই যুগে টেকা কঠিন।”

 

এদিকে খানজাহান আলীর দীঘিতে কুকুরের প্রতি নির্মমতার ভিডিও সারাদেশে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা জন্ম দেয়ার পর বিষয়টি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর দৃষ্টিগোচর হয়েছে । তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের শাস্তির আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন। শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ কথা জানান।

প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, বাগেরহাটের ঘটনাটি আমাকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। শুধু সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নয়, একজন মানুষ হিসেবেও আমি মর্মাহত। বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই দেশে মানুষ এবং সকল প্রাণের বসবাসের অভয়ারণ্য হিসাবে গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর।

সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, এই অমানবিক ঘটনার সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দোষী ব্যক্তিকে শাস্তির আওতায় আনা হোক এবং ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়, সে জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

এদিকে প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনার পর জেলা প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আতিয়া খাতুনকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এবং সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘটনাটি গত বুধবার বিকেলে মাজারের দিঘির পাড়ে ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, অসুস্থ ও দুর্বল একটি কুকুর দিঘির পাড়ে ঘোরাফেরা করছিল। কিছুক্ষণ পর একটি কুমির এসে সেটিকে কামড়ে পানির নিচে নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় প্রাণী অধিকার কর্মীসহ অনেকেই অভিযোগ করেছেন, কুকুরটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে কুমিরের খাদ্য হিসেবে দেওয়া হয়েছে। তবে প্রত্যক্ষদর্শী ও মাজার কর্তৃপক্ষ এ অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, কুকুরটি অসুস্থ ছিল এবং পানিতে নামার আগে কয়েকজনকে আক্রমণ করেছিল; তাকে বেঁধে বা পরিকল্পিতভাবে কুমিরের সামনে ছেড়ে দেওয়া হয়নি।