সড়ক, রেল ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, চট্টগ্রামবাসীর পরিবেশের ক্ষতি করে, সেই সাথে চট্টগ্রামবাসীকে অস্থিরতায় রেখে, ঝুঁকির মধ্যে রেখে কোন প্রকল্প হবে না। সিআরবিতে হাসপাতাল করার চিন্তাভাবনা এখনও সরকারের নেই। যারা আন্দোলন করছে সেটা তাদের একান্ত ব্যাপার। সরকারের কোন দুর্বলতা নেই।
রেলমন্ত্রী বলেন, অতীতে এখানে প্রথমে ২০০ শয্যার এবং পরে ৫০০ শয্যার একটি হাসপাতাল নির্মাণের প্রস্তাব পিপিপি পদ্ধতিতে এসেছিল এবং তা অনুমোদনও পেয়েছিল। তবে সে সময় কিছু মানুষের আপত্তির কারণে প্রকল্পটি এগোয়নি।তাদের মতে, সিআরবি চট্টগ্রামের ফুসফুস ও অক্সিজেন সরবরাহের উৎস- এটি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ কারণেই তৎকালীন সরকার প্রকল্পটি আর এগিয়ে নিতে পারেনি।
বিকল্প কোনো হাসপাতাল নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেই জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আগের প্রস্তাবে বলা হয়েছিল- কোনো বৃক্ষের ক্ষতি না করে এবং বিদ্যমান অবস্থা অক্ষুণ্ন রেখে সম্ভাবনা থাকলে হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে। তবে বর্তমান সরকার এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।
রেলমন্ত্রী বলেন, এই জায়গায় হাসপাতাল নির্মাণে সরকার বাধ্য বা অগ্রসর হচ্ছে এমন কোনো অবস্থা নেই। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হলে তা চট্টগ্রামবাসীকে সঙ্গে নিয়েই নেয়া হবে।
এদিকে, সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণ উদ্যোগের প্রতিবাদে সমাবেশ করেছে সিআরবি রক্ষা মঞ্চ। রোববার সকালে সিআরবি সাত রাস্তার মোড়ে এ সমাবেশ হয়।
সিআরবির পরিবেশগত গুরুত্ব কতটুকু?
চট্টগ্রামের সিআরবি (সেন্ট্রাল রেলওয়ে বিল্ডিং) এলাকা পরিবেশগত, ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যাকে প্রায়শই চট্টগ্রাম নগরীর “ফুসফুস” বলে অভিহিত করা হয়। ঘনবসতিপূর্ণ এই শহরে অক্সিজেনের জোগানদাতা এবং শীতল পরিবেশ হিসেবে সিআরবির ভূমিকা অপরিহার্য।
প্রাকৃতিক অক্সিজেন হাব: সিআরবি এলাকাটি শতবর্ষী শিরীষ, রেইনট্রি ও অন্যান্য ঔষধি গাছের আচ্ছাদনে ঢাকা, যা নগরীর কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে মুক্ত অক্সিজেন সরবরাহ করে।

জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ: এখানে প্রায় ২২৩ প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে, যার মধ্যে ১৮৩ প্রজাতির ঔষধি গাছ, এছাড়া নানা ধরণের বিরল ও বিপন্ন প্রজাতির গাছপালা ও পাখপাখালির প্রাকৃতিক আবাসস্থল হিসেবে সিআরবি অনন্য।
নগরীর শীতলীকরণ (Urban Cool Island): কংক্রিটের জঞ্জালে ঘেরা চট্টগ্রাম শহরে সিআরবি একটি শীতল আবেশ তৈরি করে, যা তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ভূমিকা রাখে।
ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য: ১৮৭২ সালে নির্মিত এই এলাকাটি শুধু প্রকৃতিই নয়, ব্রিটিশ আমলের স্থাপত্য (লাল ভবন) এবং ইতিহাস-ঐতিহ্যের স্মারক।

জনস্বাস্থ্য ও বিনোদন: প্রতিদিন ভোরে ও সন্ধ্যায় শত শত মানুষ এখানে শরীরচর্চা, হাঁটাচলা এবং নির্মল বাতাসের জন্য আসেন, যা নাগরিকদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য রক্ষায় সহায়ক।
পরিবেশবাদী ও নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, সিআরবির এই প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হলে চট্টগ্রাম শহর ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। তাই সিআরবিকে “বিশেষ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এলাকা” হিসেবে গণ্য করার দাবি দীর্ঘদিনের।
প্রকৃতিবার্তা ডেস্ক 



















