দেশের সবচেয়ে উষ্ণ মাস এপ্রিলে এবার স্বাভাবিকের চেয়ে ৭৫ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। আর বৃষ্টিপাত বেশি হওয়ার কারণে এপ্রিলের তাপমাত্রা ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে কম। এ মাসে মাত্র একদিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রার পারদ ৪০ ডিগ্রি ছুঁয়েছে।
মে মাসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদপ্তর এমন তথ্য জানিয়েছে। পূর্বাভাসে চলতি মে মাসের সম্ভাব্য আবহাওয়া পরিস্থিতিও তুলে ধরা হয়েছে। এতে জানানো হয়, মে মাস দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উষ্ণ মাস। মে মাসে স্বাভাবিক বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। এ মাসে এক থেকে দুটি লঘুচাপ এবং সেখান থেকে একটি নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ও হতে পারে। তবে ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনা কম বলেই আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্র জানাচ্ছে। এ মাসে ৫ থেকে ৬টি কালবৈশাখী হতে পারে। এর মধ্যে ২ থেকে ৩ দিন তীব্র কালবৈশাখী হতে পারে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, এক থেকে তিনটি মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ হতে পারে এ মাসে। এর মধ্যে একটি তীব্র তাপপ্রবাহ হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দেশের সবচেয়ে উষ্ণ মাস এপ্রিলে গড় তাপমাত্রা থাকে ৩৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে সর্বোচ্চ ও গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিক থেকে যথাক্রমে শূন্য দশমিক ৬ ডিগ্রি এবং শূন্য দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম থেকেছে।
এপ্রিল মাসে সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে বরিশাল বিভাগে। ওই বিভাগে ১৬৯ শতাংশের বেশি বৃষ্টি হয়েছে। তবে রাজশাহী বিভাগে স্বাভাবিকের চেয়ে সামান্য কম বৃষ্টি হয়েছে। ঢাকা বিভাগে প্রায় ৮০ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশীদ গণমাধ্যমে বলেন, মে মাসের অন্তত ১০ তারিখ পর্যন্ত থেমে থেমে বৃষ্টি হতে পারে। তাতে তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকতে পারে। ১০ তারিখের পর থেকে তাপমাত্রা বাড়তে পারে একটু করে। তবে ১৫ তারিখের পর তাপপ্রবাহ শুরু হতে পারে। এটা ছয় থেকে সাত দিন চলতে পারে। মোটামুটিভাবে বলা যায়, এ মাসে তাপমাত্রা মোটামুটি সহনীয় থাকতে পারে।
চলতি বছর গরমের মৌসুম শুরুর দিকেই আবহাওয়া অধিদপ্তর পূর্বাভাস দিয়েছিল, অন্তত এপ্রিলে গরম তত তীব্র হবে না। দেখা গেছে, ২২ এপ্রিল শুধু এক দিন রাজশাহীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল। ২০২৪ সালে পুরো এপ্রিল মাস জুড়ে তাপপ্রবাহ ছিল। তবে সদ্য বিদায়ী এপ্রিলে বিচ্ছিন্নভাবে তাপপ্রবাহ থেকেছে বিভিন্ন স্থানে এবং তা টানা থাকেনি।
উল্লেখ্য, কোনো এলাকার তাপমাত্রা যদি ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকে, তবে তাকে মৃদু তাপপ্রবাহ ও ৩৮ থেকে ৩৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকলে তাকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বলে। তাপমাত্রা ৪০ থেকে ৪১ দশমিক ৯ ডিগ্রি থাকলে তাকে তীব্র তাপপ্রবাহ বলা হয়। এর বেশি হলে তা অতি তীব্র তাপপ্রবাহ বলা হয়।
নিজস্ব সংবাদ : 









