দেশ গড়তে অংশ নিয়েছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধে। স্বাধীন করেছেন প্রিয় মাতৃভূমি। কিন্তু এখনো চালিয়ে যাচ্ছেন যুদ্ধ। যে যুদ্ধ প্রকৃতি ও পরিবেশ সংরক্ষণের, সুন্দর পৃথিবীতে সুস্থ জীবন গড়ার। এই যুদ্ধে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য পেয়েছেন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ যা দেশের পরিবেশ আন্দোলনকে আরও সমৃদ্ধ ও অনুপ্রাণিত করেছে। এই সম্মাননায় গর্বিত দেশের পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো। দেশের পরিবেশ আন্দোলনের অন্যতম অগ্রপথিক,বীর মুক্তিযোদ্ধা মুকিত মজুমদারকে সংবর্ধনা জানিয়ে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশ করেছে দেশের ২৬টি পরিবেশবাদী সংগঠন।
সোমবার (৪ এপ্রিল) রাজধানীর গুলশানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মিলনায়তনে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। পরিবেশ সংরক্ষণে তার দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আয়োজিত এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেন বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, পরিবেশকর্মী ও বিশিষ্টজনেরা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জনাব শেখ ফরিদুল ইসলাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পেয়েছেন মুকিত মজুমদার বাবু। এটা অনেক বড় অর্জন বলে আমি মনে করি। মুকিত মজুমদার বাবু অসংখ্য পুরস্কার পেয়েছেন দেশ-বিদেশ। এর আগে পরিবেশ পদকও পেয়েছেন তিনি। আমরা সবাই এখন দাবি করছি আপনার এই কর্মতৎপরতা যেন অব্যাহত থাকে। আমাদের নতুন প্রজন্ম আপনার কাছের মাধ্যমে অনুপ্রাণিত হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বায়ু দূষণ, পানি দূষণ, শব্দ দূষণের এগুলো অদৃশ্যভাবে হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে বায়ু দূষণ দেখা যাচ্ছে না, শব্দ দূষণও দেখা যাচ্ছে না। এগুলো আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর দিক। আমি মনে করি এই যে অদৃশ্য দূষণটা হচ্ছে সে ক্ষেত্রে আমাদের সচেতন করতে হবে।

সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে মুকিত মজুমদার বাবু বলেন, আমি একটা জিনিস বিশ্বাস করি এই দেশটা আমার, এই দেশকে ভালো রাখার দায়িত্ব আমার এবং সেই দায়িত্ব আমাদের সবার। তিনি বলেন সবসময় আমি একটি কথা বলি, আমাদের প্রত্যেকেরই কিন্তু ক্ষমতা আছে তার সাথে মমতা মিশিয়ে যখনি আমরা এগিয়ে আসব, তখনই কিন্তু এই পরিবেশ প্রকৃতি ভালো থাকবে আমরা ভালো থাকবো। আমাদের দেশটা ভালো থাকবে এবং আমরা যখন চলে যাবো আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ভালো থাকবে।

প্রকৃতিবন্ধু বলেন, আমরা যেমন একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ করে এই দেশটাকে পেয়েছিলাম, বাংলাদেশটাকে। এই বাংলাদেশটাকে ভালো রাখতে হলে প্রত্যেকেরই এগিয়ে আসতে হবে, প্রত্যেকের হাতকে এক করতে হবে। এই দেশটা যদি বাসযোগ্য না থাকে তাহলে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের কোনদিন ক্ষমা করবে না। কারণ আমরা যদি এমন একটি বাংলাদেশের রেখে যাই যে বাংলাদেশে তারা নিশ্বাস নিতে পারবে না বুক ভরে, তারা নদীতে সাঁতার কাটতে পারবেনা, তারা সুপেয় পানি পান করতে পারবে না। এবং এই জলবায়ু পরিবর্তন, যে কারণে দিন দিন অসহনীয় হয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ এবং সারা পৃথিবী। সেই জলবায়ু পরিবর্তন ঠেকাতে পারবোনা যদি আমরা এখনই সচেতন না হই। তাই আমরা সবাই আমাদের জন্য, আমাদের স্বার্থে এবং আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আমরা বাংলাদেশটাকে ভালো রাখি। বাংলাদেশ ভালো থাকবে, আমরা সবাই ভালো থাকবো।

অনুষ্ঠানে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রকিবুল হাসান বলেন, আমার দৃষ্টিতে, আমার বিবেচনায় বাংলাদেশের জন্য যদি কোন লিজেন্ড থেকে থাকে পরিবেশের জন্য, তাঁর নামটি চলে আসবে সবার আগে। পরিবেশ সংরক্ষণে যে প্রচেষ্টা তিনি চালিয়ে যাচ্ছেন সেগুলো যদি আমরা অনুসরণ করতে পারি সেগুলো যদি আমাদের জীবনে প্রতিফলন ঘটাতে পারি তাহলে দেশে ১৮ কোটি মুকিত মজুমদার বাবু তৈরি হবে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক জিয়াউল হক বলেন, মুকিত মজুমদার বাবু আমাদের দিশারী, অনুপ্রেরণার উৎস। সেই অনুপ্রেরণা যেন তিনি বজায় রাখেন। তার দেখানো পথে আমরা যেন আরো অনেক অনুসারী পাই। আমাদের পরিবেশের জন্য, আমাদের জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলার জন্য মুকিত মজুমদার বাবুর খুব বেশি প্রয়োজন।
তিনি বলেন, এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশগ্রণকারী অধিকাংশই তরুণ। এই তরুণরা কাজ করতে চায়। তাদেরকে সুযোগ করে দিতে হবে। তরুণদের গাছ লাগানোর পাশাপাশি রক্ষণাবেক্ষণের কাজে সম্পৃক্ত করতে হবে।

বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. মঞ্জুরুল কিবরিয়া বলেন, আমরা এমন একজন মানুষকে সংবর্ধনা দিতে যাচ্ছি যিনি বাংলাদেশের প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষায় নিবেদিত প্রাণ। টেনে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সবুজে সাজাই বাংলাদেশ স্লোগানে ২০২৩ সালে ১০ লক্ষ, ২০২৪ সালে ১২ লক্ষ এবং ২০২৫ সালে ১৫ লক্ষ বৃক্ষ রোপন করেছেন। সরকারকে ধন্যবাদ দিয়ে মঞ্জুরুল কিভাবে বলেন বর্তমান সরকার একজন যোগ্য ব্যক্তিকে সম্মানিত করেছেন।

সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ রিভার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ মনির হোসেন সবাইকে নদী প্রান শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন মুকিত মজুমদার বাবু ও প্রকৃতি একই। প্রকৃতি, পরিবেশ ও নদী সংরক্ষণ করতে হবে। তা না হলে এই বাংলাদেশ, এই বিশ্ব, এই সভ্যতা টিকে থাকতে পারে না। সেই জায়গা থেকেই মুকিত মজুমদার বাবু স্যার কাজ শুরু করেছেন এবং সফলতার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন।

পুরো সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় সঞ্চালনা করেন ইফাতারা ইরা।

বাংলাদেশ রিভার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ মনির হোসেন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটির সম্মানিত ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ মঞ্জুরুল কিবরিয়া, সুইডেন দূতাবাসের পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক ফার্স্ট সেক্রেটারি নায়োকা মার্টিনেজ বেক্সট্রম, পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক জনাব মোঃ জিয়াউল হক, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রাকিবুল হাসান, সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চের উপপরিচালক রউফা খানম, পশুর নদী ওয়াটার কিপার নূর আলম শেখ, পরিবেশ ও নদী রক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এইচ. এম. সুমন এবং দেশের বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠনের সদস্যরা।
জোবায়ের আহমেদ 














