বাংলাদেশের দেশীয় বা আবাসিক পাখিরা সাধারণত মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি বাসা বাধে এবং ডিম পাড়ে। তবে এর মধ্যে মে, জুন এবং জুলাই মাস হলো প্রধান প্রজননকাল, যখন সিংহভাগ পাখি বাসা তৈরি ও ডিম পাড়ার কাজটি সম্পন্ন করে।
মে থেকে জুলাই (গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালের শুরুর দিক)। আসলে বলতে গেলে সেপ্টেম্বর (বসন্তের শেষ থেকে শরৎ পর্যন্ত) চলে এই বাসা বাধা ডিম পাড়া ছানা ফোটানোর পালা।
তবে শালিক, চড়ুই, কবুতর, ঘুঘু ইত্যাদি পাখি বছরের প্রায় সব সময়ই ডিম পাড়তে পারে, তবে তাদেরও প্রধান প্রজনন মৌসুম বসন্ত ও গ্রীষ্মকাল।
কেন এই সময়েই সবচেয়ে বেশি ডিম পাড়ে?
১. খাদ্যের প্রাচুর্য: মে-জুলাই মাসে প্রকৃতিতে প্রচুর পরিমাণে পোকামাকড়, তাদের ডিম এবং লার্ভা (larva) পাওয়া যায়। এই সময়ে নতুন ফলমূলও পাকে।
২. বাচ্চাদের জন্য পুষ্টিকর খাবার: এই পোকা ও লার্ভা পাখির ছানাদের দ্রুত বেড়ে ওঠার জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিনের প্রধান উৎস।
৩. অনুকূল আবহাওয়া: এ সময়ে তাপমাত্রা ও দিনের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি পায়, যা পাখির প্রজনন হরমোনকে সক্রিয় করে।
৪. বাসা তৈরির উপকরণ: বৃষ্টির শুরুতে প্রচুর লতাপাতা, ঘাস ও ডালপালা পাওয়া যায়, যা দিয়ে পাখি বাসা তৈরি করে।
৫. নিরাপত্তা: গাছের পাতা ঘন থাকায় এবং লতাপাতায় আবৃত থাকায় এই সময় বাসা তৈরি করলে শত্রুর হাত থেকে ডিম ও ছানা রক্ষা করা সহজ হয়।
পাখির বাসা তৈরির কিছু বৈচিত্র্যমাটিতে বাসা: হট্টিটি, নদীচর বা বালুচরে বাসা বানায়। মাটিতে বিশেষ করে নদী-দিঘির পাড়ে গর্ত করে বাসা বানায় মাছরাঙা।
গাছের গর্তে: বসন্ত বাউরি, শালিক, টিয়া গাছের কোটরে বাসা তৈরি করে।
ঝোপঝাড় ও ডালে: অধিকাংশ ছোট পাখি গাছের ডালে বা ঝোপঝাড়ে কাপ বা পেয়ালার আকৃতির বাসা তৈরি করে।
কোকিলের ব্যতিক্রমী স্বভাবকোকিল নিজের বাসা নিজে তৈরি করে না। এরা বসন্তকালে অন্য পাখির (সাধারণত কাকের) বাসায় ডিম পাড়ে।
প্রকৃতিবার্তা ডেস্ক 














