হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া জাহাজ বের করে আনতে যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ স্থগিত ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প মঙ্গলবার তার সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ঘোষণাটি দিয়েছেন, জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। তিনি জানিয়েছেন, পাকিস্তান ও অন্য দেশগুলোর ‘অনুরোধের ভিত্তিতে’ সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, জাহাজ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চালু করা প্রজেক্ট ফ্রিডম অল্প সময়ের জন্য বন্ধ রাখা হবে, যাতে সম্ভাব্য চুক্তিটি চূড়ান্ত করা যায়। তবে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ আগের মতোই বহাল থাকবে।

ইরান এখনো এ বিষয়ে কোনো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বলছেন, ইরানকে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিতে দেওয়া হবে না।
এদিকে ট্রাম্পের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বড় ঘোষণা দিয়েছেন, জানিয়েছেন ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শেষ হয়েছে।
রুবিও বলেন, ‘অপারেশন শেষ। প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসকে জানিয়েছেন, ‘এপিক ফিউরির’ আমরা সেই ধাপ শেষ করেছি। এই অভিযানের উদ্দেশ্যগুলো আমরা অর্জন করেছি।
এর আগে হোয়াইট হাউস গত সপ্তাহে কংগ্রেসকে জানিয়েছিল যে, ইরানের বিরুদ্ধে শত্রুতা ‘সমাপ্ত’ করা হয়েছে। এ জন্য আইনপ্রণেতাদের আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের প্রয়োজন হবে। তবে, আলোচনা ভেস্তে গেলে বা ইরান বর্তমান যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করলে বোমা হামলা পুনরায় শুরু করার সম্ভাবনা ট্রাম্প নাকচ করেননি।

রুবিও বলেন, ‘ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কিত প্রশ্নগুলোর সমাধান আলোচনার মাধ্যমেই করা হবে। আলোচনার প্রসঙ্গে বলতে গেলে, আমি মনে করি প্রেসিডেন্ট এটা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, আলোচনা প্রক্রিয়ার একটি অংশ হিসেবে শুধু ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণই নয়, বরং ভূগর্ভের গভীরে থাকা এই উপাদানগুলোর কী হবে, সেটাও অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।’
ইরানে নতুন কোনো সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের নেই উল্লেখ করে এবিসি নিউজকে রুবিও বলেন, “(ইরান ইস্যুতে) নতুন কোনো পরিস্থিতি তৈরি হোক— তা আমরা চাইছি না। আমরা শান্তির পথই পছন্দ করি। আমাদের প্রেসিডেন্ট একটি চুক্তি চান। তিনি আলোচনায় বসে একটি সমঝোতা স্মারক (মেমোর্যান্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং) তৈরিতে কাজ করতে চান, যেখানে ভবিষ্যতে আলোচনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সব বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তিনি চান হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণভাবে খুলে দেওয়া হোক—যেন বিশ্ব ফের আগের অবস্থায় ফিরতে পারে।”
উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু প্রকল্প ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘ প্রায় দু’যুগ ধরে টানাপোড়েন চলছে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে। ২০২৫ সালের জুন মাস এ ইস্যুতে ১২ দিনের সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছিল ইরান-যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল।
পরমাণু প্রকল্প ইস্যুতে ইরানের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তির জন্য গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সুইজারল্যান্ডের রাজধানী জেনেভায় বৈঠক হয় মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদলের মধ্যে। তবে দীর্ঘ এই আলোচনার পরও কোনো সমঝোতা হয়নি।
২১ দিন ধরে দফায় দফায় আলোচনার পরও কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ সেই বৈঠক। তার পরের দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে অপারেশন এপিক ফিউরি শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় ইতোমধ্যে নিহত হয়েছেন ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি, সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর শীর্ষ কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপৌরসহ বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। ইরানের বিভিন্ন সামরিক-বেসামরিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও ধ্বংস কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ইতেমধ্যে ইরানে নিহত হয়েছেন ৩ হাজারের বেশি মানুষ।
প্রকৃতিবার্তা ডেস্ক 


















