ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারের নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের শোচনীয় পরাজয় হয়েছে। এখন ভারতীয় জনতা পার্টি সরকার গঠন করবে এবং তাদের কেউ মুখ্যমন্ত্রী হবেন। পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে তিস্তা চুক্তি নিয়ে নতুন আশা তৈরি হয়েছে। কারণ বিজেপির কেন্দ্রীয় সরকার তথা নরেন্দ্র মোদি সরকার বাংলাদেশের সাথে তিস্তার পানি বন্টন চুক্তি করতে আগ্রহী হলেও মমতার বিরোধীতায় সেই চুক্তি বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। এখন মমতা যেহেতু থাকছেন না সেহেতু তিস্তা চুক্তি নিয়ে নতুন আশা জাগছে।
দীর্ঘ সময় ঝুলে থাকা তিস্তা পানিবণ্টন চুক্তি যদি এখন বাস্তবায়িত হয়, তবে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের পরিবেশে বৈপ্লবিক কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
যেমন:
মরুকরণ রোধ ও ভূগর্ভস্থ পানির স্তর রক্ষা: শুষ্ক মৌসুমে পর্যাপ্ত পানির অভাবে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল ক্রমশ মরুকরণের দিকে যাচ্ছে। চুক্তির ফলে পানির প্রবাহ বাড়লে শুষ্ক মৌসুমেও ভূগর্ভস্থ পানির স্তর অন্তত ১০ মিটার নিচে নামা থেকে রক্ষা পাবে।
জীববৈচিত্র্য ও ইকোসিস্টেমের ভারসাম্য: চুক্তির খসড়া অনুযায়ী ২০ শতাংশ পানি ‘এনভায়রনমেন্টাল ফ্লো’ বা পরিবেশগত প্রবাহ হিসেবে রাখার কথা রয়েছে, যা নদীর ইকোসিস্টেম, মৎস্য সম্পদ এবং নদীর জীববৈচিত্র্যকে বাঁচিয়ে রাখবে।
লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণ: তিস্তা আন্তর্জাতিক নদী, এই নদী দিয়েই শুষ্ক মৌসুমে নদীতে পানির প্রবাহ থাকলে দক্ষিণাঞ্চলে সমুদ্রের নোনাপানি ঢুকে পড়া বন্ধ হবে, যা মৎস্য চাষ ও উপকূলীয় জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য অত্যাবশ্যক।
বঙ্গোপসাগর থেকে আসা লোনা পানিকে ঠেকিয়ে রাখতে নদীর মিষ্টি পানির প্রবল প্রবাহ বা ‘পুশ ব্যাক’ প্রয়োজন। তিস্তার পানি ব্রহ্মপুত্রে গিয়ে মেশে এবং ব্রহ্মপুত্রের পানি শেষ পর্যন্ত দক্ষিণে প্রবাহিত হয়। ফলে তিস্তায় পর্যাপ্ত প্রবাহ থাকলে তা সম্মিলিতভাবে লোনা পানিকে সাগরের দিকে ঠেলে দিতে সাহায্য করে।
নদী ভাঙন ও পলি ব্যবস্থাপনা: একটি সমন্বিত চুক্তির মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে নদী ব্যবস্থাপনা ও পলি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে। এটি প্রতিবছর নদী ভাঙনের ফলে জমি ও বসতবাড়ি বিলীন হওয়া রোধে সহায়ক হবে।
জলবায়ু সহনশীলতা: তিস্তা চুক্তির মাধ্যমে পানির সঠিক ব্যবস্থাপনা করা গেলে খরা ও আকস্মিক বন্যার মতো জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিগুলো মোকাবেলা করা সহজ হবে।
কৃষি ও বনভূমি রক্ষা: সেচ সুবিধার উন্নয়ন ঘটলে কৃষিতে রাসায়নিক সার ও পাম্পের ওপর নির্ভরশীলতা কমবে, যা মাটির গুণাগুণ ধরে রাখতে এবং স্থানীয় বনভূমি ও গাছপালা রক্ষায় সাহায্য করবে।
প্রকৃতিবার্তা ডেস্ক 


















