সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ভয়ঙ্কর ‘হান্টাভাইরাস’ যার বহনকারী ইঁদুর   Logo মে মাসের মাঝামাঝি বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আবার বাড়তে পারে   Logo সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর মায়ের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক Logo মমতা বিদায় নিচ্ছেন, এখন তিস্তা চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের পরিবেশের যেসব লাভ হতে পারে Logo বৃহস্পতিবার ৫ ঘণ্টা বন্ধ থাকবে ফুয়েল পাশ নিবন্ধন Logo রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় অপরাধ শূন্যের কোটায় নামাতে চায় পুলিশ Logo হরমুজে ট্রাম্পের ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ স্থগিত, ইরান অপারেশন সমাপ্ত বলে জানালেন রুবিও Logo বাগডাশের শরীরে পোলাওয়ের গন্ধ! কারণ কী? Logo ১১ বছর বয়সী মাদ্রাসাছাত্রী ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত গ্রেপ্তার Logo এই ৩ টি মাস বাংলাদেশের আবাসিক পাখিদের বাসা বাঁধা-ডিম পাড়ার প্রিয় সময়, কারণ কী? 

ভয়ঙ্কর ‘হান্টাভাইরাস’ যার বহনকারী ইঁদুর  

ভয়ঙ্কর ‘হান্টাভাইরাস’ যার বহনকারী ইঁদুর  

আটলান্টিক মহাসাগরের মাঝখানে একটি ডাচ প্রমোদতরিতে বিরল ‘হান্টাভাইরাস ’ ছড়িয়ে পড়ায় অন্তত তিন যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এই মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। ‘এমভি হন্ডিউস’ নামের ওই জাহাজে আরও কয়েকজন এই ভাইরাসে আক্রান্ত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এই ঘটনার পর হান্টাভাইরাস কী, কীভাবে এটি ছড়ায় এবং কেন এটি এত ভয়ংকর—তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

হান্টাভাইরাস মূলত ইঁদুরজাতীয় প্রাণীবাহিত একটি বিরল কিন্তু অত্যন্ত মারাত্মক ভাইরাস। এই ভাইরাসে আক্রান্ত ইঁদুরের মল, মূত্র ও লালার মাধ্যমে এটি ছড়ায়। বাতাসে মিশে থাকা ইঁদুরের বর্জ্যের দূষিত কণা শ্বাসপ্রশ্বাসের সঙ্গে মানুষের শরীরে প্রবেশ করলে এই সংক্রমণ ঘটে। তবে করোনাভাইরাস বা ফ্লুর মতো এটি সহজে ছড়ায় না এবং মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণের ঘটনা খুবই বিরল। কেবল ভাইরাসের ‘আন্দিজ’ নামের একটি বিশেষ ধরনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে মানুষ থেকে মানুষে ছড়ানোর নজির রয়েছে।

এই ভাইরাস প্রধানত দুটি কারণে এত ভয়ংকর। এর প্রথম ধরনটি সরাসরি ফুসফুসকে আক্রমণ করে, যা সবচেয়ে বেশি প্রাণঘাতী। এতে সংক্রমিত হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই রোগীর কাশি ও তীব্র শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। ধীরে ধীরে জ্বর, চরম ক্লান্তি, পেশিতে ব্যথা, বমি বমি ভাব ও পেটে ব্যথা দেখা দেয়।

এই ধরনের ভাইরাসে আক্রান্তদের মৃত্যুহার প্রায় ৩৮ শতাংশ। অন্যদিকে দ্বিতীয় ধরনটি মূলত কিডনিতে আক্রমণ করে। এর প্রাথমিক লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে তীব্র মাথাব্যথা, চোখে ঝাপসা দেখা এবং পেটে ব্যথা। পরিস্থিতি জটিল হলে রক্তচাপ কমে যায়, অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হয় এবং কিডনি বিকল হতে পারে। এই ক্ষেত্রে মৃত্যুহার ১ থেকে ১৫ শতাংশ।

সাধারণত সংক্রমিত হওয়ার এক থেকে আট সপ্তাহের মধ্যে এই রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়। বর্তমানে হান্টাভাইরাসের সুনির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা বা টিকা নেই। আক্রান্তদের মূলত অক্সিজেন থেরাপি, ডায়ালাইসিস ও শ্বাসযন্ত্রের অন্যান্য সহায়ক চিকিৎসাসেবা দিয়ে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়। পিসিআর পরীক্ষার মাধ্যমে এই ভাইরাস শনাক্ত করা সম্ভব।

বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, প্রমোদতরির মতো আবদ্ধ পরিবেশে যাত্রীরা হয়তো উপকূলীয় কোনো ভ্রমণে গিয়ে সংক্রমিত হয়েছেন, অথবা জাহাজের কার্গোর মাধ্যমে ইঁদুর প্রবেশ করে এই রোগ ছড়িয়েছে। যুক্তরাজ্য ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এ নিয়ে নিবিড় তদন্ত চালাচ্ছে। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আশ্বস্ত করেছেন যে দৈনন্দিন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে এটি ছড়ায় না বলে সাধারণ মানুষের জন্য এই ভাইরাসের ঝুঁকি একেবারেই কম।

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

জনপ্রিয় সংবাদ

ভয়ঙ্কর ‘হান্টাভাইরাস’ যার বহনকারী ইঁদুর  

ভয়ঙ্কর ‘হান্টাভাইরাস’ যার বহনকারী ইঁদুর  

আপডেট সময় ০৬:২৬:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

আটলান্টিক মহাসাগরের মাঝখানে একটি ডাচ প্রমোদতরিতে বিরল ‘হান্টাভাইরাস ’ ছড়িয়ে পড়ায় অন্তত তিন যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এই মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। ‘এমভি হন্ডিউস’ নামের ওই জাহাজে আরও কয়েকজন এই ভাইরাসে আক্রান্ত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এই ঘটনার পর হান্টাভাইরাস কী, কীভাবে এটি ছড়ায় এবং কেন এটি এত ভয়ংকর—তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

হান্টাভাইরাস মূলত ইঁদুরজাতীয় প্রাণীবাহিত একটি বিরল কিন্তু অত্যন্ত মারাত্মক ভাইরাস। এই ভাইরাসে আক্রান্ত ইঁদুরের মল, মূত্র ও লালার মাধ্যমে এটি ছড়ায়। বাতাসে মিশে থাকা ইঁদুরের বর্জ্যের দূষিত কণা শ্বাসপ্রশ্বাসের সঙ্গে মানুষের শরীরে প্রবেশ করলে এই সংক্রমণ ঘটে। তবে করোনাভাইরাস বা ফ্লুর মতো এটি সহজে ছড়ায় না এবং মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণের ঘটনা খুবই বিরল। কেবল ভাইরাসের ‘আন্দিজ’ নামের একটি বিশেষ ধরনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে মানুষ থেকে মানুষে ছড়ানোর নজির রয়েছে।

এই ভাইরাস প্রধানত দুটি কারণে এত ভয়ংকর। এর প্রথম ধরনটি সরাসরি ফুসফুসকে আক্রমণ করে, যা সবচেয়ে বেশি প্রাণঘাতী। এতে সংক্রমিত হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই রোগীর কাশি ও তীব্র শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। ধীরে ধীরে জ্বর, চরম ক্লান্তি, পেশিতে ব্যথা, বমি বমি ভাব ও পেটে ব্যথা দেখা দেয়।

এই ধরনের ভাইরাসে আক্রান্তদের মৃত্যুহার প্রায় ৩৮ শতাংশ। অন্যদিকে দ্বিতীয় ধরনটি মূলত কিডনিতে আক্রমণ করে। এর প্রাথমিক লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে তীব্র মাথাব্যথা, চোখে ঝাপসা দেখা এবং পেটে ব্যথা। পরিস্থিতি জটিল হলে রক্তচাপ কমে যায়, অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হয় এবং কিডনি বিকল হতে পারে। এই ক্ষেত্রে মৃত্যুহার ১ থেকে ১৫ শতাংশ।

সাধারণত সংক্রমিত হওয়ার এক থেকে আট সপ্তাহের মধ্যে এই রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়। বর্তমানে হান্টাভাইরাসের সুনির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা বা টিকা নেই। আক্রান্তদের মূলত অক্সিজেন থেরাপি, ডায়ালাইসিস ও শ্বাসযন্ত্রের অন্যান্য সহায়ক চিকিৎসাসেবা দিয়ে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়। পিসিআর পরীক্ষার মাধ্যমে এই ভাইরাস শনাক্ত করা সম্ভব।

বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, প্রমোদতরির মতো আবদ্ধ পরিবেশে যাত্রীরা হয়তো উপকূলীয় কোনো ভ্রমণে গিয়ে সংক্রমিত হয়েছেন, অথবা জাহাজের কার্গোর মাধ্যমে ইঁদুর প্রবেশ করে এই রোগ ছড়িয়েছে। যুক্তরাজ্য ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এ নিয়ে নিবিড় তদন্ত চালাচ্ছে। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আশ্বস্ত করেছেন যে দৈনন্দিন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে এটি ছড়ায় না বলে সাধারণ মানুষের জন্য এই ভাইরাসের ঝুঁকি একেবারেই কম।