সংবাদ শিরোনাম ::
Logo লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহতের ঘটনায় সরকারের নিন্দা Logo শতবর্ষে প্রকৃতির কণ্ঠস্বর: স্যার ডেভিড অ্যাটেনবরো, জীববৈচিত্র্য ও জলবায়ুর এক অনন্য যোদ্ধা Logo মিরপুর টেস্টে পাকিস্তানকে বিধ্বস্ত করেছে বাংলাদেশ Logo ঢাকা উত্তরে শুরু বর্জ্য আলাদা করার কার্যক্রম, বিতরণ হচ্ছে সবুজ-হলুদ বিন Logo হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৯ জন মারা মৃত্যু Logo এপ্রিলের এক দিনে বিশ্বের সবচেয়ে উষ্ণ ৫০ শহরের সবকটিই ছিল ভারতে! Logo প্রাক-বর্ষাতেই নাকানিচুবানি, বর্ষার জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় কতটুকু প্রস্তুত ঢাকা? Logo ঢাকায় জরুরি পানি সরবরাহে ৯২০ কোটি টাকার প্রকল্প নিয়েছে সরকার Logo ঘোড়ার মাংসের ‘অবৈধ কারবার’ বন্ধে হাইকোর্টে জয়া Logo ভয়াবহ গতিতে দেবে যাচ্ছে মেক্সিকো সিটি

প্রাক-বর্ষাতেই নাকানিচুবানি, বর্ষার জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় কতটুকু প্রস্তুত ঢাকা?

প্রাক-বর্ষাতেই নাকানিচুবানি, বর্ষার জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় কতটুকু প্রস্তুত ঢাকা?

বর্ষাকাল শুরু হতে এখনও মাসখানেক বাকি থাকলেও গতকাল সোমবারের মাত্র ২৩ মিলিমিটার বৃষ্টিতেই স্থবির হয়ে পড়ে রাজধানী ঢাকা। রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে সৃষ্টি হয় তীব্র জলাবদ্ধতা। নগরবাসীর অভিযোগ ও বিশেষজ্ঞদের মতামতে উঠে এসেছে যে, পানি নিষ্কাশনের প্রধান পথগুলো এখনও ময়লা-আবর্জনায় রুদ্ধ হয়ে আছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আসন্ন বর্ষায় নগরবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

বৃষ্টিতে নাকাল নগরজীবন

গতকাল দুপুরের কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে মিরপুরের কালশী, নর্থ সাউথ রোড, নিউমার্কেট, আজিমপুর, বনশ্রী, মিরপুর-১০, আফতাবনগর এবং সচিবালয়ের সামনেসহ পুরান ঢাকার বিভিন্ন অলিগলি তলিয়ে যায়। বিশেষ করে ক্যাচপিট (সড়কের পাশের ড্রেন) ও নালাগুলো আবর্জনা ও কাদামাটিতে বন্ধ থাকায় পানি সরতে দীর্ঘ সময় লাগছে। পুরান ঢাকার বাসিন্দাদের মতে, নালা ও পাইপলাইন নির্মাণের সময় ভেতরে জমা হওয়া বর্জ্য পরিষ্কার না করায় সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তা উপচে পানি বসতবাড়িতে ঢুকে পড়ছে।

 

অপর্যাপ্ত ও অকেজো পাম্পিং স্টেশন

জলাবদ্ধতা নিরসনে ঢাকা শহরের আয়তন অনুযায়ী অন্তত ২০টি পাম্পিং স্টেশন প্রয়োজন হলেও দুই সিটি করপোরেশন মিলিয়ে সচল স্টেশনের সংখ্যা অত্যন্ত নগণ্য। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন তিনটি পাম্পিং স্টেশনের মধ্যে হাতিরঝিলেরটি অকেজো হয়ে আছে। অন্যদিকে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় রামপুরা ও কল্যাণপুরসহ তিনটি স্টেশন থাকলেও তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের মতে, বিশেষ করে হাতিরঝিল পয়েন্টে পাম্প না থাকায় ধানমন্ডি ও গ্রিন রোড এলাকার পানি দ্রুত সরতে পারছে না।

 

কর্তৃপক্ষের ভাষ্য ও বিশেষজ্ঞ মত

ডিএসসিসি’র প্রকৌশল বিভাগ জানিয়েছে, জলাবদ্ধতা নিরসনে ক্যাচপিট, ড্রেন ও খালের ধারণক্ষমতা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। সংস্থাটি ৩৩টি জলাবদ্ধপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করলেও বাস্তবে এই সংখ্যা আরও বেশি। অন্যদিকে ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আসন্ন বর্ষায় জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় ‘কুইক রেসপন্স টিম’ (কিউআরটি) গঠনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

নগর পরিকল্পনাবিদ ও ড্রেনেজ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষার প্রস্তুতি হিসেবে শুষ্ক মৌসুমেই খাল ও নালা পরিষ্কার করা উচিত ছিল। বর্তমানে অনেক খাল বেদখল হয়ে আছে এবং বিদ্যমান নালাগুলো প্লাস্টিক বর্জ্যে ভরা। ড্রেনেজ বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী একেএম সহিদ উদ্দিন বলেন, “শুষ্ক মৌসুমে একদিনের বৃষ্টিতেই যদি এই অবস্থা হয়, তবে বর্ষার কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে ঢাকার পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল রাখতে এখনই আন্তরিকতার সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।”

 

চিহ্নিত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা

দুই সিটি করপোরেশনের তথ্যমতে, বাড্ডা, ভাটারা, উত্তরখান, দক্ষিণখান, মিরপুর, ধানমন্ডি-২৭, গ্রিন রোড, পল্টন, মতিঝিল ও জুরাইনসহ রাজধানীর বিশাল একটি অংশ বর্তমানে জলাবদ্ধতার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। পাম্পিং স্টেশনের সংখ্যা বাড়ানো এবং খালের প্রতিবন্ধকতা দূর করা না গেলে এবারের বর্ষাতেও ডুববে ঢাকা।

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

জনপ্রিয় সংবাদ

লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহতের ঘটনায় সরকারের নিন্দা

প্রাক-বর্ষাতেই নাকানিচুবানি, বর্ষার জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় কতটুকু প্রস্তুত ঢাকা?

আপডেট সময় ১২:০৩:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

বর্ষাকাল শুরু হতে এখনও মাসখানেক বাকি থাকলেও গতকাল সোমবারের মাত্র ২৩ মিলিমিটার বৃষ্টিতেই স্থবির হয়ে পড়ে রাজধানী ঢাকা। রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে সৃষ্টি হয় তীব্র জলাবদ্ধতা। নগরবাসীর অভিযোগ ও বিশেষজ্ঞদের মতামতে উঠে এসেছে যে, পানি নিষ্কাশনের প্রধান পথগুলো এখনও ময়লা-আবর্জনায় রুদ্ধ হয়ে আছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আসন্ন বর্ষায় নগরবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

বৃষ্টিতে নাকাল নগরজীবন

গতকাল দুপুরের কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে মিরপুরের কালশী, নর্থ সাউথ রোড, নিউমার্কেট, আজিমপুর, বনশ্রী, মিরপুর-১০, আফতাবনগর এবং সচিবালয়ের সামনেসহ পুরান ঢাকার বিভিন্ন অলিগলি তলিয়ে যায়। বিশেষ করে ক্যাচপিট (সড়কের পাশের ড্রেন) ও নালাগুলো আবর্জনা ও কাদামাটিতে বন্ধ থাকায় পানি সরতে দীর্ঘ সময় লাগছে। পুরান ঢাকার বাসিন্দাদের মতে, নালা ও পাইপলাইন নির্মাণের সময় ভেতরে জমা হওয়া বর্জ্য পরিষ্কার না করায় সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তা উপচে পানি বসতবাড়িতে ঢুকে পড়ছে।

 

অপর্যাপ্ত ও অকেজো পাম্পিং স্টেশন

জলাবদ্ধতা নিরসনে ঢাকা শহরের আয়তন অনুযায়ী অন্তত ২০টি পাম্পিং স্টেশন প্রয়োজন হলেও দুই সিটি করপোরেশন মিলিয়ে সচল স্টেশনের সংখ্যা অত্যন্ত নগণ্য। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন তিনটি পাম্পিং স্টেশনের মধ্যে হাতিরঝিলেরটি অকেজো হয়ে আছে। অন্যদিকে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় রামপুরা ও কল্যাণপুরসহ তিনটি স্টেশন থাকলেও তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের মতে, বিশেষ করে হাতিরঝিল পয়েন্টে পাম্প না থাকায় ধানমন্ডি ও গ্রিন রোড এলাকার পানি দ্রুত সরতে পারছে না।

 

কর্তৃপক্ষের ভাষ্য ও বিশেষজ্ঞ মত

ডিএসসিসি’র প্রকৌশল বিভাগ জানিয়েছে, জলাবদ্ধতা নিরসনে ক্যাচপিট, ড্রেন ও খালের ধারণক্ষমতা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। সংস্থাটি ৩৩টি জলাবদ্ধপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করলেও বাস্তবে এই সংখ্যা আরও বেশি। অন্যদিকে ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আসন্ন বর্ষায় জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় ‘কুইক রেসপন্স টিম’ (কিউআরটি) গঠনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

নগর পরিকল্পনাবিদ ও ড্রেনেজ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষার প্রস্তুতি হিসেবে শুষ্ক মৌসুমেই খাল ও নালা পরিষ্কার করা উচিত ছিল। বর্তমানে অনেক খাল বেদখল হয়ে আছে এবং বিদ্যমান নালাগুলো প্লাস্টিক বর্জ্যে ভরা। ড্রেনেজ বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী একেএম সহিদ উদ্দিন বলেন, “শুষ্ক মৌসুমে একদিনের বৃষ্টিতেই যদি এই অবস্থা হয়, তবে বর্ষার কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে ঢাকার পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল রাখতে এখনই আন্তরিকতার সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।”

 

চিহ্নিত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা

দুই সিটি করপোরেশনের তথ্যমতে, বাড্ডা, ভাটারা, উত্তরখান, দক্ষিণখান, মিরপুর, ধানমন্ডি-২৭, গ্রিন রোড, পল্টন, মতিঝিল ও জুরাইনসহ রাজধানীর বিশাল একটি অংশ বর্তমানে জলাবদ্ধতার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। পাম্পিং স্টেশনের সংখ্যা বাড়ানো এবং খালের প্রতিবন্ধকতা দূর করা না গেলে এবারের বর্ষাতেও ডুববে ঢাকা।