প্রায় ছয় দশকের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অনুমোদন পেলো দেশের বহুল আলোচিত পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প। আজ (বুধবার, ১৩ মে) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ অনুমোদন দেয়া হয়।
পদ্মায় প্রস্তাবিত ব্যারেজ ইলিশের উপর বহুমুখী প্রভাব ফেলতে পারে, যার মধ্যে ইতিবাচক ও নেতিবাচক—উভয় দিকই রয়েছে। ব্যারেজটি মূলত নদীর পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির প্রাপ্যতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নির্মিত হবে, যা ইলিশের আবাসস্থল ও প্রজননে বড় প্রভাব রাখবে।
পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ করলে ইলিশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব হিসেবে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ ও নাব্য ব্যাহত হয়ে তাদের প্রজনন বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও, আধুনিক প্রযুক্তির ‘ফিশ পাস’ ব্যবহারের মাধ্যমে মাছের চলাচল সচল রাখার ইতিবাচক সুযোগ থাকে। ব্যারেজের মাধ্যমে শুষ্ক মৌসুমে নদীর পানির স্তর নিয়ন্ত্রণ করা গেলে ইলিশের অভয়াশ্রমগুলো শুকিয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা পেতে পারে।
প্রজনন ও আবাসস্থলে নেতিবাচক প্রভাব (সম্ভাবনা):
স্বাভাবিক চলাচলে বাধা: ব্যারেজটি একটি স্থায়ী অবকাঠামো হওয়ায় সমুদ্র থেকে ইলিশের উজানে (Upstream) ডিম পাড়ার জন্য আসার স্বাভাবিক যাত্রাপথে বাধা সৃষ্টি হতে পারে।ইলিশের বিচরণক্ষেত্র সংকোচন: নদীর গতিপ্রকৃতি পরিবর্তন হলে ইলিশের প্রজনন এলাকা কমে যেতে পারে।পলি জমে নদীর নাব্যতা হ্রাস: ব্যারেজের কারণে উজানের পলি আটকে গিয়ে নদীর গভীরতা কমে গেলে ইলিশের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ নষ্ট হতে পারে।
ইতিবাচক প্রভাব (প্রকল্পের লক্ষ্য):
বর্তমানে ফারাক্কা ব্যারেজের প্রভাবে শুষ্ক মৌসুমে পদ্মায় পানি কমে ইলিশের অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। প্রস্তাবিত এই পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পে বর্ষাকালে পানি সংরক্ষণ করে শুষ্ক মৌসুমে তা ছাড়া হবে, যা নদীর পানির প্রবাহ বৃদ্ধি করবে এবং মাছের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি করবে।
মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি: প্রকল্প পরিকল্পনায় নদী পুনরুজ্জীবিত করার মাধ্যমে মাছের উৎপাদন (ইলিশসহ) ২৩৪,০০০ টন বৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা হয়েছে।
পরিবেশগত ভারসাম্য: শুষ্ক মৌসুমে পানিপ্রবাহ বাড়লে সুন্দরবনের কাছাকাছি লবণাক্ততা কমে ইলিশের ডিম পাড়ার পরিবেশ উন্নত হতে পারে।
প্রযুক্তির ব্যবহার: ইলিশের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করতে প্রকল্পটিতে ফিশ পাস (Fish Pass) বা মাছের জন্য বিশেষ পথ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে ব্যারেজ থাকা সত্ত্বেও ইলিশ উজানে যেতে পারে।
ব্যারেজটি যদি সঠিকভাবে ডিজাইন না করা হয় এবং মাছের স্বাভাবিক চলাচলের পথ (Fish Path) নিশ্চিত করা না যায়, তবে ইলিশের প্রাকৃতিক প্রজনন ব্যাহত হতে পারে। তবে, ফিস পাস প্রযুক্তি কার্যকর হলে শুষ্ক মৌসুমে পানির প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় দীর্ঘমেয়াদে পদ্মায় ইলিশের উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
প্রকৃতিবার্তা ডেস্ক 



















