টিউলিপের রঙিন দুনিয়ায় ‘কালো মেঘ’

ঐতিহ্যের স্থাপত্য এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দেশ নেদারল্যান্ডস। প্রাচীন উইন্ডমিল আর বিশাল এলাকাজুড়ে নানা রঙের একটি বিশেষ ধরনের ফুলের হাসি, নেদারল্যান্ডসের নাম শুনলেই চোখে ভাসে এই দৃশ্য। ইউরোপের ছোট্ট দেশটির এই ফুলের নাম অনেকে না জানলেও ফুলটি ছবিতে হয়তো ঠিকই দেখেছেন। হিন্দি সিনেমার গানে কিংবা ইংরেজি সিনেমাতেও নানা বর্ণের এই ফুলে ভরা বিস্তীর্ণ প্রান্তর দেখে চোখ জুড়িয়ে গেছে হয়তো অনেকেরই। হ্যাঁ, এটাই বিখ্যাত টিউলিপ ফুল। চমৎকার এই ফুলটি নেদারল্যান্ডের সম্পদ ডাচ সংস্কৃতির অংশ। টিউলিপের মৌসুমে অসংখ্য পর্যটক বেড়াতে আসেন নেদারল্যান্ডসে। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বৈশ্বিক আরও সম্পদের মতো টিউলিপের অবস্থাও টালমাটাল।

শীতপ্রধান দেশগুলোর মতো নেদারল্যান্ডেরও সবচেয়ে বর্ণিল রঙিন ঋতু বসন্ত। আর ডাচ বসন্তের গহনা হলো টিউলিপ। বসন্তে নেদারল্যান্ড টিউলিপের সমুদ্রে পরিণত হয় বললে অতিরিক্ত বলা হবে না। নর্থ সি উপকূলের ছোট্ট দেশটি বিশ্বের শীর্ষ টিউলিপ রপ্তানিকারক দেশ। প্রতি বছর প্রায় ২৫ লাখ টিউলিপের কলি বিদেশে রপ্তানি করে নেদারল্যান্ডস।

ডাচ জলবায়ু, শীতল বাতাস, পানি প্রবাহ টিউলিপের কলি বৃদ্ধির জন্য দারুণ সহায়ক। কিন্তু বিগত কয়েক বছরে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব পড়েছে নয়নকাড়া টিউলিপে। জলবায়ুর বদলে যাওয়ায় ভীষণ চ্যালেঞ্জের মুখে ডাচ ফুল চাষীরা। এরকম একজন টিউলিপ চাষী অ্যরিয়ান স্মিথ। ১৯৪০ সালে এই ফুলের ব্যবসা শুরু করেছিলেন তার দাদা। স্মিথও টিউলিপ চাষ করছেন অনেক বছর হলো। তিনি বলেন, ‘জলবায়ু বদলে গেছে, আমরা না দেখলেও তা অনুভব করতে পারি। এখানে এখন বেশিদিন আদ্রতা থাকছে। জলবায়ু পরিবর্তন পৈত্রিক ব্যবসাকে কঠিন করে তুলেছে।’

বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে এখন বায়ুমণ্ডলে আরও বেশি জলীয় বাষ্প প্রবেশ করে। এতে নেদারল্যান্ডসের মতো দেশগুলোতে শীতকাল হচ্ছে ভেজা ভেজা। টিউলিপের মতো ফুলের গাছ টেকসই হয় এর শেকড় পানির সন্ধানে মাটির গভীরে গেলে। অথচ শীতে বাতাসে পানি বেশি হচ্ছে বলে টিউলিপের গাছের শেকড় মাটির গভীরে যাচ্ছে না। ফলে মরছে গাছ। অন্যদিকে বসন্ত ও গ্রীষ্মে বাড়ছে গরমের মাত্রা। এই বদলে যাওয়া অবস্থাটা টিউলিপের জন্য মারাত্মক হুমকি।

স্মিথ নিজের টিউলিপ প্রান্তর দেখিয়ে বলেন, ‘গত বছর কেবল বৃষ্টি আর বৃষ্টি হয়েছে। এখন এই মাঠেই তার ফলাফল দেখা যাচ্ছে। ভেজা শীতে তার টিউলিপ গাছগুলোর শেকড় মাটির গভীরে যায়নি। ফলে ৮-৯ শতাংশ টিউলিপ মরে গেছে।’

এমনিতে স্মিথ মৌসুমে ১ কোটি ১০ লাখ টিউলিপ উৎপাদন করেন। তবে এবার জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফলন কমবে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি। বসন্ত ও গ্রীষ্মে টিউলিপ চাষে খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তন। আগে যেখানে পুরো টিউলিপ মৌসুমে মাত্র দুই থেকে চারবার সেচ দিতে হতো সেখানে এখন প্রতি সপ্তাহে সেচ দিতে হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সারাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত

টিউলিপের রঙিন দুনিয়ায় ‘কালো মেঘ’

আপডেট সময় ০৭:৪৭:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪

ঐতিহ্যের স্থাপত্য এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দেশ নেদারল্যান্ডস। প্রাচীন উইন্ডমিল আর বিশাল এলাকাজুড়ে নানা রঙের একটি বিশেষ ধরনের ফুলের হাসি, নেদারল্যান্ডসের নাম শুনলেই চোখে ভাসে এই দৃশ্য। ইউরোপের ছোট্ট দেশটির এই ফুলের নাম অনেকে না জানলেও ফুলটি ছবিতে হয়তো ঠিকই দেখেছেন। হিন্দি সিনেমার গানে কিংবা ইংরেজি সিনেমাতেও নানা বর্ণের এই ফুলে ভরা বিস্তীর্ণ প্রান্তর দেখে চোখ জুড়িয়ে গেছে হয়তো অনেকেরই। হ্যাঁ, এটাই বিখ্যাত টিউলিপ ফুল। চমৎকার এই ফুলটি নেদারল্যান্ডের সম্পদ ডাচ সংস্কৃতির অংশ। টিউলিপের মৌসুমে অসংখ্য পর্যটক বেড়াতে আসেন নেদারল্যান্ডসে। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বৈশ্বিক আরও সম্পদের মতো টিউলিপের অবস্থাও টালমাটাল।

শীতপ্রধান দেশগুলোর মতো নেদারল্যান্ডেরও সবচেয়ে বর্ণিল রঙিন ঋতু বসন্ত। আর ডাচ বসন্তের গহনা হলো টিউলিপ। বসন্তে নেদারল্যান্ড টিউলিপের সমুদ্রে পরিণত হয় বললে অতিরিক্ত বলা হবে না। নর্থ সি উপকূলের ছোট্ট দেশটি বিশ্বের শীর্ষ টিউলিপ রপ্তানিকারক দেশ। প্রতি বছর প্রায় ২৫ লাখ টিউলিপের কলি বিদেশে রপ্তানি করে নেদারল্যান্ডস।

ডাচ জলবায়ু, শীতল বাতাস, পানি প্রবাহ টিউলিপের কলি বৃদ্ধির জন্য দারুণ সহায়ক। কিন্তু বিগত কয়েক বছরে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব পড়েছে নয়নকাড়া টিউলিপে। জলবায়ুর বদলে যাওয়ায় ভীষণ চ্যালেঞ্জের মুখে ডাচ ফুল চাষীরা। এরকম একজন টিউলিপ চাষী অ্যরিয়ান স্মিথ। ১৯৪০ সালে এই ফুলের ব্যবসা শুরু করেছিলেন তার দাদা। স্মিথও টিউলিপ চাষ করছেন অনেক বছর হলো। তিনি বলেন, ‘জলবায়ু বদলে গেছে, আমরা না দেখলেও তা অনুভব করতে পারি। এখানে এখন বেশিদিন আদ্রতা থাকছে। জলবায়ু পরিবর্তন পৈত্রিক ব্যবসাকে কঠিন করে তুলেছে।’

বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে এখন বায়ুমণ্ডলে আরও বেশি জলীয় বাষ্প প্রবেশ করে। এতে নেদারল্যান্ডসের মতো দেশগুলোতে শীতকাল হচ্ছে ভেজা ভেজা। টিউলিপের মতো ফুলের গাছ টেকসই হয় এর শেকড় পানির সন্ধানে মাটির গভীরে গেলে। অথচ শীতে বাতাসে পানি বেশি হচ্ছে বলে টিউলিপের গাছের শেকড় মাটির গভীরে যাচ্ছে না। ফলে মরছে গাছ। অন্যদিকে বসন্ত ও গ্রীষ্মে বাড়ছে গরমের মাত্রা। এই বদলে যাওয়া অবস্থাটা টিউলিপের জন্য মারাত্মক হুমকি।

স্মিথ নিজের টিউলিপ প্রান্তর দেখিয়ে বলেন, ‘গত বছর কেবল বৃষ্টি আর বৃষ্টি হয়েছে। এখন এই মাঠেই তার ফলাফল দেখা যাচ্ছে। ভেজা শীতে তার টিউলিপ গাছগুলোর শেকড় মাটির গভীরে যায়নি। ফলে ৮-৯ শতাংশ টিউলিপ মরে গেছে।’

এমনিতে স্মিথ মৌসুমে ১ কোটি ১০ লাখ টিউলিপ উৎপাদন করেন। তবে এবার জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফলন কমবে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি। বসন্ত ও গ্রীষ্মে টিউলিপ চাষে খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তন। আগে যেখানে পুরো টিউলিপ মৌসুমে মাত্র দুই থেকে চারবার সেচ দিতে হতো সেখানে এখন প্রতি সপ্তাহে সেচ দিতে হচ্ছে।