হিমালয় কোলের দেশ নেপালে উড়োজাহাজ উড্ডয়ন-অবতরণ বরাবরই চ্যালেঞ্জিং। ভূপ্রাকৃতিক অবস্থান, মেঘ-কুয়াশার মতো প্রাকৃতিক কারণে পর্যটকদের পছন্দের ডেস্টিনেশনে উড়োজাহাজ দুর্ঘটনার খবর আসে নিয়মিত বিরতিতে। আজ বুধবারও এক প্লেন ট্র্যাজেডির সাক্ষী হয়ে রইল নেপালের ত্রিভুবন বিমানবন্দর। ত্রিভুবন থেকে উড্ডয়নের সময় ছোট আকারের একটি উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে ১৯ আরোহীর ১৮ জনই নিহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় বুধবার (২৪ জুলাই) সকালে ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (টিআইএ) এই দুর্ঘটনা ঘটে। কাঠমান্ডু পোস্টের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সুরিয়া এয়ারলাইন্সের একটি প্লেন উড্ডয়নের সময়ই বিধ্বস্ত হয়। উড়োজাহাজটি কাঠমান্ডু থেকে পোখারায় যাচ্ছিল।
এই ত্রিভুবন বিমানবন্দরে ২০১৮ সালের ১২ মার্চ অবতরণের সময় বিধ্বস্ত হয় বাংলাদেশের একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ। মর্মান্তিক সেই দুর্ঘটনায় নিহত হন ৫১ জন।
নেপালে যতো প্লেন ট্র্যাজেডি
মাউন্ট এভারেস্টসহ পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু ১৪ পর্বত শৃঙ্গের ৮টি নেপালে। দেশটির আবহাওয়া হঠাৎ করে বদলে যাওয়া এবং বেশিরভাগ এয়ারপোর্ট দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় হওয়ায় উড়োজাহাজ দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। গত এক যুগে নেপালে অন্তত আটটি বড় ধরনের উড়োজাহাজ দুর্ঘটনা হয়েছে। ২০২২ সালের মে মাসে পোখারা থেকে জমসমের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া যাত্রীবাহী টুইনঅটার উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে ২২ জন নিহত হন। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পোখারা থেকে জমসম যাওয়া তারা এয়ারের উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে ২৩ জন নিহত হন।
নেপালে সবচেয়ে বড় উড়োজাহাজ ট্র্যাজেডি দেখা যায় ১৯৯২ সালে, সেবছর কাঠমান্ডুতে যাওয়ার সময় পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারওয়েজের একটি উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে ১৬৭ আরোহীর সবাই নিহত হয়। ওই বছর সেই দুর্ঘটনার দু’মাস আগে থাই এয়ারওয়েজের একটি উড়োজাহাজ বিধস্ত হয়ে ১১৩ জনের প্রাণহানি ঘটে।
এছাড়াও প্রায়ই নেপালে ছোট-মাঝারি মাপের উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা নেহাত কম নয়।
নিজস্ব সংবাদ : 




















