ভৌগলিক অবস্থানের দিক থেকে বাংলাদেশ ছোট হলেও প্রাকৃতিক বৈচিত্রের প্যাকেজ বলা যায়। বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে রয়েছে পাহাড়ি চির সবুজ বন, দক্ষিণ-পশ্চিমে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ সুন্দরবন, দক্ষিণজুড়ে বঙ্গোপসাগর আর মধ্যাঞ্চল থেকে উত্তর-পশ্চিম পর্যন্ত শালবন ও জালের মতো ছড়ানো নদ-নদী। সব মিলে গড়ে উঠেছে জীববৈচিত্র্যের এক অপূর্ব সমাহার।
প্রাকৃতিক এই বৈচিত্রের কারণে বাংলাদেশ জীববৈচিত্রে ভরপুর। বিশেষ করে সমতল ও নিচু জলাভূমির বিস্তৃতির কারণে বাংলাদেশ উভচর প্রাণী গবেষণার দারুণ এক ক্ষেত্র।
ওরিয়েন্টাল নামে প্রাণিভৌগলিক অঞ্চলের ইন্দো-বার্মা ও ইন্দো-চায়না অংশের সংযোগস্থলে থাকায় বাংলাদেশের প্রাণিবৈচিত্র্যে যুক্ত হয়েছে এক অনন্য মাত্রা। এখানকার বন্যপ্রাণীদের একটি অংশ উভচর শ্রেণির সদস্য। এই উভচর শ্রেণিবিন্যাসের মধ্যে অ্যানুরা এবং জিমনোফিনা পরিবারের উভচরদের দেখা মেলে।
বিগত বছরের বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ও গবেষণায় বাংলাদেশেও বেড়েছে উভচর প্রাণীর সংখ্যা। আর এই উভচর প্রাণীগুলোর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির ব্যাঙ। এ দেশের পরিবেশ ও প্রতিবেশসহ কৃষি অর্থনীতিতে ব্যাঙ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
দেশে গত ৫০ বছরে ব্যাঙের ওপর প্রকাশিত ১৫৬টি গবেষণাপত্র বিশ্লেষণ এবং আমাদের মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধাননির্ভর গবেষণা অনুযায়ী বাংলাদেশে ব্যাঙের প্রজাতির সংখ্যা ৬৩টি। কিন্তু ধারণা করা হয় সংখ্যাটি ১০০’র বেশি।
গবেষণাপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত ১২ বছরে বাংলাদেশে মোট ২৪টি নতুন ব্যাঙের সন্ধান মিলেছে, যার মধ্যে ৯টি শুধু যে বাংলাদেশের জন্য নতুন, তা নয়; গোটা পৃথিবীতেই নতুন।
ব্যাঙ ক্ষতিকর পতঙ্গ, মশার লার্ভা খেয়ে পরোক্ষভাবে কৃষি ও স্বাস্থ্যের উপকার করে যাচ্ছে। একটি ব্যাঙ নিজের ওজনের দ্বিগুণ কীটপতঙ্গ খেতে সক্ষম। অথচ শিল্পায়ন, জলাভূমি ভরাট, কীটনাশকের যথেচ্ছ ব্যবহারসহ নানা কারণে ব্যাঙের অনেক প্রজাতি বিলুপ্তির পথে। আইইউসিএন (ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনসারভেশন অব নেচার) তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের ৯ প্রজাতির ব্যাঙকে বিলুপ্তি-ঝুঁকির লাল তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে অভ্যন্তরীন জলাশয়গুলোতে ব্যাঙ সংরক্ষণে গুরুত্ব ও সচেতনতা প্রয়োজন।
ডেস্ক রিপোর্ট 




















