জলবায়ু পরিবর্তন

মাত্র কয়েক বছর আগে হারিয়ে গেল যে সাগর!

মাত্র কয়েক বছর আগে হারিয়ে গেল যে সাগর! । ছবি : সংগৃহীত

আরাল সি বা আরাল সাগর। নামের সঙ্গে সমুদ্র থাকলেও এটি সাগর নয়, হ্রদ। তবে নামেই বোঝা যায় এটির আয়তন কতটা বড় ছিল। ছিল বলার কারণ, বিশ্বের চতুর্থ বৃহৎ হ্রদটি এখন হারিয়ে গেছে। সব পানি যেন হাওয়া হয়ে কোথায় গায়েব হয়ে গেছে, তাও মাত্র এক যুগের কিছু বেশি সময়ের মাঝে। ২০১০ সালেও আরাল হ্রদে কিঞ্চিৎ পানি ছিল।

মধ্য এশিয়ায় আজকের কাজাখস্তান, উজবেকিস্তান জুড়ে এই হ্রদের অস্তিত্ব ছিল। লোনাজলের বিশাল এই হ্রদে চলতো নৌকা-জাহাজ, ছিল বড় মাছের বিচরণ। কিন্তু এখন সেই জায়গা ধু ধু মরু, সেই মরুর মাঝে সায়েন্স ফিকশন সিনেমার ভুতুড়ে সেটের মতো দেখা মেলে বড় বড় পরিত্যক্ত জাহাজের। এই অঞ্চলটি এখন কারাকুম মরুভূমি নামে পরিচিত।

মাত্র কয়েক বছর আগে হারিয়ে গেল যে সাগর! prokritibarta

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বের তাপমাত্রা বাড়ছে। উষ্ণায়নের কুফল নিয়ে বিজ্ঞানী-পরিবেশবিদদের নানাবিধ পূর্বাভাস এবং সতর্কীকরণ নতুন নয়। জলবায়ুর বদলে যাওয়া রূপের সাক্ষী আরাল সাগর। তবে এই হ্রদের মরুকরণে মানুষের প্রত্যক্ষ ভূমিকাও আছে।

১৯৬০ সালের দিকে আরাল সাগর পৃথিবীর বুকে চতুর্থ বৃহত্তম হ্রদ ছিল। পৃথিবীর ইতিহাসে আরাল সাগরের বয়স প্রায় ৫.৫ মিলিয়ন বছর। এই সাগরের জলরাশি কাজাখস্তান, উজবেকিস্তান এবং মধ্য এশিয়ায় বিস্তৃত ছিল। উত্তর থেকে সির দরিয়া ও দক্ষিণ থেকে আমু দরিয়া নদী থেকে পানি এসে মিশত আরালের বুকে।

এই সাগর শুকিয়ে যাওয়ার পেছনে অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয় পূর্বতন সোভিয়েত ইউনিয়নের তুলা চাষকে। সোভিয়েত সরকার সিদ্ধান্ত নেয়, আমু এবং সির দরিয়ার পানি তুলাক্ষেতে সেচের জন্য ব্যবহার করা হবে।

মাত্র কয়েক বছর আগে হারিয়ে গেল যে সাগর! prokritibarta

১৯৫৪ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন কারাকুম খাল খনন করে। এ খাল দিয়েই আমু ও সির দরিয়ার পানি কারাকুম মরুভূমির ভেতর দিয়ে তুলাক্ষেতে প্রবাহিত হতো। দীর্ঘ পথে ৩০ শতাংশ পানি অপচয় হতো। এ ছাড়াও আরও বিভিন্ন বাঁধ ও খাল খনন করা হয় সে সময়। যার মাধ্যমে নদির গতপথ পরিবর্তন হয়ে যায়। পানির পরিমাণ কমে যাওয়ায় হ্রদের পানিতে লবণের পরিমাণ বাড়তে থাকে, যার ফলে হ্রদের মাছ সব মরে যায়। সেই সঙ্গে কৃষি কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে যায়। আরাল সাগরের ধ্বংসের শুরুটা হয় তখনই। ১৯৮৭ সালে হ্রদের পানি শুকিয়ে দুই ভাগ হয়ে যায়। ১৯৯৮ সালে ৯০ শতাংশ পানিই শুকিয়ে যায়।

সোভিয়েতদের পতনের পর কাজাখস্তান ও উজবেকিস্তান নানাভাবে আরালকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছে। এখনো বিশ্বব্যাংক, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় তারা সেই চেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু সত্যি বলতে, স্যাটেলাইট ইমেজ বলছে আরাল সাগর এলাকার মাত্র ১০ শতাংশে পানি আছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সারাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত

জলবায়ু পরিবর্তন

মাত্র কয়েক বছর আগে হারিয়ে গেল যে সাগর!

আপডেট সময় ০৭:২২:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ জুলাই ২০২৪
আরাল সি বা আরাল সাগর। নামের সঙ্গে সমুদ্র থাকলেও এটি সাগর নয়, হ্রদ। তবে নামেই বোঝা যায় এটির আয়তন কতটা বড় ছিল। ছিল বলার কারণ, বিশ্বের চতুর্থ বৃহৎ হ্রদটি এখন হারিয়ে গেছে। সব পানি যেন হাওয়া হয়ে কোথায় গায়েব হয়ে গেছে, তাও মাত্র এক যুগের কিছু বেশি সময়ের মাঝে। ২০১০ সালেও আরাল হ্রদে কিঞ্চিৎ পানি ছিল।

মধ্য এশিয়ায় আজকের কাজাখস্তান, উজবেকিস্তান জুড়ে এই হ্রদের অস্তিত্ব ছিল। লোনাজলের বিশাল এই হ্রদে চলতো নৌকা-জাহাজ, ছিল বড় মাছের বিচরণ। কিন্তু এখন সেই জায়গা ধু ধু মরু, সেই মরুর মাঝে সায়েন্স ফিকশন সিনেমার ভুতুড়ে সেটের মতো দেখা মেলে বড় বড় পরিত্যক্ত জাহাজের। এই অঞ্চলটি এখন কারাকুম মরুভূমি নামে পরিচিত।

মাত্র কয়েক বছর আগে হারিয়ে গেল যে সাগর! prokritibarta

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বের তাপমাত্রা বাড়ছে। উষ্ণায়নের কুফল নিয়ে বিজ্ঞানী-পরিবেশবিদদের নানাবিধ পূর্বাভাস এবং সতর্কীকরণ নতুন নয়। জলবায়ুর বদলে যাওয়া রূপের সাক্ষী আরাল সাগর। তবে এই হ্রদের মরুকরণে মানুষের প্রত্যক্ষ ভূমিকাও আছে।

১৯৬০ সালের দিকে আরাল সাগর পৃথিবীর বুকে চতুর্থ বৃহত্তম হ্রদ ছিল। পৃথিবীর ইতিহাসে আরাল সাগরের বয়স প্রায় ৫.৫ মিলিয়ন বছর। এই সাগরের জলরাশি কাজাখস্তান, উজবেকিস্তান এবং মধ্য এশিয়ায় বিস্তৃত ছিল। উত্তর থেকে সির দরিয়া ও দক্ষিণ থেকে আমু দরিয়া নদী থেকে পানি এসে মিশত আরালের বুকে।

এই সাগর শুকিয়ে যাওয়ার পেছনে অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয় পূর্বতন সোভিয়েত ইউনিয়নের তুলা চাষকে। সোভিয়েত সরকার সিদ্ধান্ত নেয়, আমু এবং সির দরিয়ার পানি তুলাক্ষেতে সেচের জন্য ব্যবহার করা হবে।

মাত্র কয়েক বছর আগে হারিয়ে গেল যে সাগর! prokritibarta

১৯৫৪ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন কারাকুম খাল খনন করে। এ খাল দিয়েই আমু ও সির দরিয়ার পানি কারাকুম মরুভূমির ভেতর দিয়ে তুলাক্ষেতে প্রবাহিত হতো। দীর্ঘ পথে ৩০ শতাংশ পানি অপচয় হতো। এ ছাড়াও আরও বিভিন্ন বাঁধ ও খাল খনন করা হয় সে সময়। যার মাধ্যমে নদির গতপথ পরিবর্তন হয়ে যায়। পানির পরিমাণ কমে যাওয়ায় হ্রদের পানিতে লবণের পরিমাণ বাড়তে থাকে, যার ফলে হ্রদের মাছ সব মরে যায়। সেই সঙ্গে কৃষি কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে যায়। আরাল সাগরের ধ্বংসের শুরুটা হয় তখনই। ১৯৮৭ সালে হ্রদের পানি শুকিয়ে দুই ভাগ হয়ে যায়। ১৯৯৮ সালে ৯০ শতাংশ পানিই শুকিয়ে যায়।

সোভিয়েতদের পতনের পর কাজাখস্তান ও উজবেকিস্তান নানাভাবে আরালকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছে। এখনো বিশ্বব্যাংক, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় তারা সেই চেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু সত্যি বলতে, স্যাটেলাইট ইমেজ বলছে আরাল সাগর এলাকার মাত্র ১০ শতাংশে পানি আছে।