২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর পরই রুশ সীমান্তঘেষা দনবাসের বড় চারটি এলাকা দখলে নেয় রাশিয়া। সেসব এলাকা ফেরত পেতে এবং অগ্রসরমান রুশ বাহিনীকে প্রতিরোধ করতে মরণপণ লড়ছিল ইউক্রেনের সেনারা। কিন্তু তাদের অস্ত্রের রসদ যথেষ্ট ছিল না। গতবছরের শেষ থেকে কার্যত ইউক্রেন বার বার পশ্চিমা বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আরও অস্ত্র -যুদ্ধবিমান চেয়ে আসছিল। অবশেষে ইউক্রেনের হাতে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র ও কাঙ্ক্ষিত যুদ্ধবিমান পৌঁছেছে বলে জানা গেছে। আর এসব হাতে পাওয়া মাত্র প্রতিরোধের চেয়ে বরং রাশিয়ার ভেতর ঢুকে যুদ্ধ শুরু করেছে ইউক্রেন।
সীমান্ত পার হয়ে রাশিয়ার ভূখণ্ডে ইউক্রেনীয় সেনারা বড় ধরনের হামলা করেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলের ২০ কিলোমিটার অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী। সেখানে বর্তমানে হাজার হাজার ইউক্রেনীয় সেনার বিরুদ্ধে তীব্র যুদ্ধ করছে রুশ সেনারা। গত মঙ্গলবার সকালে ইউক্রেনের সেনারা সীমান্ত পার হয়ে রাশিয়ার পশ্চিমের কুরস্ক অঞ্চলে হামলা শুরু করে মস্কোকে চমকে দেন। আড়াই বছরের যুদ্ধে রাশিয়ায় ইউক্রেনের এটি সবচেয়ে বড় হামলা।

তবে রাশিয়া জানিয়েছে, তারা কুরস্কে ইউক্রেনীয় সেনাদের রুখে দিয়েছে। আঞ্চলিক কর্মকর্তারা বলছেন, ইউক্রেনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কুরস্ক শহরের একটি নয়তলা আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছে। এরই মধ্যে ইউক্রেন সীমান্তবর্তী রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চল থেকে ৭৬ হাজারেরও বেশি বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এই আক্রমণকে বড় ধরনের উস্কানি বলে অভিহিত করেছেন। রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান ভ্যালেরি গেরাসিমভ বুধবার জানান, আক্রমণ থামিয়ে দেওয়া হয়েছে, কিন্তু ইউক্রেইনীয় বাহিনীকে ফের সীমান্তের অপর পারে ঠেলে দেওয়া যায়নি। রাশিয়ার সামরিক ব্লগাররা জানিয়েছেন, রাশিয়ার অতিরিক্ত বাহিনী আসার পর পরিস্থিতি স্থিতিশীল হয়।
ডেস্ক রিপোর্ট 










