সংবাদ শিরোনাম ::
Logo প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্বাধীনতা পুরস্কার গ্রহণ করলেন মুকিত মজুমদার বাবু Logo হাম হলে শিশুকে যেসব খাবার খাওয়াবেন Logo ২২০০ পিঁপড়া পাচার চেষ্টায় চীনা নাগরিকের এক বছরের জেল Logo চট্টগ্রামে নিজেই হাসপাতালে এসে ডাক্তার ডেকে চিকিৎসা নিলো কাক! Logo বাংলাদেশে প্রতি তিন শিশুর মধ্যে এক জন মারাত্মকভাবে জলবায়ু ঝুঁকির মুখে Logo এপ্রিল এখন পর্যন্ত সহনীয়, দেশে এবছরের গ্রীষ্ম কম ভোগাবে আশা আবহাওয়াবিদের   Logo আজ স্বাধীনতা পদক প্রদান করবেন প্রধানমন্ত্রী Logo ‘ধান খাওয়ায়’ মেরে ফেলা হলো বাবুই পাখির ২৯ বাচ্চা, এক জনের কারাদণ্ড Logo পাবলো এসকোবারের ‘কোকেন’ জলহস্তীদের নিয়ে বিপাকে কলম্বিয়া Logo জ্বালানির দাম সমন্বয় করা হতে পারে: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা
সাহিত্য

গৃহপালিত এক নদী

  • আনিসুল হক
  • আপডেট সময় ০৭:০৯:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪
  • 553

গৃহপালিত এক নদী । ছবি : সংগৃহীত

আমার একটা নদী ছিল। গৃহপালিত নদী। আমাদের পোষ মানা নদী। নদীটির সঙ্গে আমার দেখা হতো বছরে কয়েকবার, যখন আমি গ্রামের বাড়ি যেতাম। আমাদের বাড়ি গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ থানার সাতানা বালুয়া গ্রামে। বাবার চাকুরিসূত্রে রংপুর শহরে বেড়ে উঠলেও গ্রামের বাড়িতে অনেকবার গিয়েছি। আমার গ্রামের বাড়িটা নদীর একদম ওপরেই, পাড় ঘেঁষে। আমাদের ওই নদী আসলে করতোয়ারই একটি অংশ, স্থানীয়ভাবে কাটাখালী নদী বলে পরিচিত। অন্য সব নদী তীরবর্তী মানুষের মতোই, একদম ছোটবেলায়, সম্ভবত তিন-চার বছর বয়সে আমি সাঁতার কাটা শিখেছি। দলবেঁধে নদীতে গোসল করতে গিয়েছি, গামছা বেঁধে মাছ ধরেছি। ছোট ছোট চাঁদা মাছ ধরা যেত গামছা দিয়ে। বেলে মাছগুলো একটু বোকা ধরনের হয়- হাত দিয়ে ধরা যেত। নদীতে এসব করতে করতেই একসময় সাঁতার শেখা হয়ে গেছে আমার। পিঁপড়া খাওয়ার ঘটনা আমার জীবনেও ছিল; কিন্তু সাঁতারটা আমি নদীতেই শিখেছি। নৌকা বাওয়ার কাজটাও আমি ছয়-সাত বছরেই শিখে নিয়েছিলাম। নিজেদেরই নৌকা ছিল। গরুর গাড়িও ছিল। শীতকালের বাহন গরুর গাড়ি আর বর্ষাকালের জন্য নৌকা। আরেকটা যান আমরা ছোটরা খুবই ব্যবহার করতাম, সেটা হচ্ছে কলাগাছের ভেলা। বর্ষার প্রথম পানি আসার সঙ্গে সঙ্গেই কলাগাছ কেটে ভেলা বানানোর কাজটা করতেন বড় ভাইয়েরা। আমি তাদের সঙ্গে থাকতাম।

গৃহপালিত এক নদী prokritibarta

আমাদের কাটাখালী নদী নিয়ে বেশ কয়েকটা ঘটনা খুবই মনে পড়ে। সাত-আট বছর বয়সে একদিন আমি আর খেলার সাথি একটি ছেলে মিলে নদীর অপর পাড়ে গেছি নৌকা বেয়ে। ওর নাম অতুল, পাশের বাড়ির ছেলে। নদীর এক পাড় থাকে খাড়া, গ্রামে আমরা বলি কাতি। আরেকটা পাড় থাকে ঢালু, এটাই নিয়ম। আমাদের বাড়ির দিকে নদীর পাড় ঢালু, অপর পাড় খাড়া। আমি আর অতুল নৌকা নিয়ে ওই পাড়ে চলে গেছি। গিয়ে দেখি পানির ধারে ডিম পড়ে আছে। ওই নদীতে অনেক হাঁস ঘুরে বেড়াত, সেগুলোরই কোনো একটার ডিম। ডিমটা নিয়ে আসা হলো। অতুলের মা পিঁয়াজ দিয়ে ডিমটা ভাঁজলেন। আমরা দুজন খুব মজা করে ডিম ভাজা খেলাম।

গৃহপালিত এক নদী prokritibarta

কাটাখালী নদী নিয়ে আরেকটি ঘটনা আমার খুব মনে আছে। বন্যার পানি নেমে যাচ্ছে তখন। আমি একা একা নৌকা বাইছি নদীতে। অপর পাড়ে একজন বুড়োমতো মানুষ আমাকে ডাকছেন- নৌকা নিয়ে গেলে নদী পাড় হবেন। আমি তাঁর কাছে যাওয়ার চেষ্টা করছি, কিন্তু পারছি না- রাতে নৌকা ঘুরে যাচ্ছিল বারবার। অতি কষ্টে পাড়ের কাছে গেলাম। ওই বৃদ্ধ লোক কোমর পানিতে নেমে নৌকা টেনে ধরলেন এবং উঠে পড়লেন। একবার ফুপুর বাড়ি যাচ্ছি। নৌকায় করে বেশ খানিকটা পথ যাব; বাকি পথ গরুর গাড়িতে। নৌকা থেকে নামার জায়গাটা ছিল নদীর আরেক পাড়ে। কথা ছিল, গাড়ির গরুগুলো এই পাড় দিয়ে হেঁটে গিয়ে আমরা যেখানে নামব, সেখানে নদী পার হবে। কী কারণে যেন গরুর গাড়ি ওই পাড়েই ছিল। তখন বর্ষাকাল, নদীতে খুবই স্রোত। আমরা যথারীতি নদী পাড় হয়ে ওপাশে নামলাম, কিন্তু গরুগুলো কিছুতেই পার করা যাচ্ছিল না। যতবার পার হতে যায়, স্রোতে ভেসে অন্যদিকে চলে যায়।

আরেক দিন নৌকায় করে মাছ ধরতে যাচ্ছিলাম। বাঁশ দিয়ে বানানো ঝাঁকা নদীতে পেতে রাখা হতো; সেখানে বড় বড় আইড় মাছ ধরা পড়ত। বন্যায় তখন নদী আর তার চারপাশ ডুবে গেছে। আমরা নদীর মধ্য দিয়ে মাছ ধরার জায়গায় যাচ্ছিলাম। হঠাৎ নৌকাটা ডুবে গেল। অবশ্য নৌকা ডোবা আমাদের জন্য কোনো ব্যাপার ছিল না- সবাই সাঁতার জানতাম। ঘটনাটা কেন যেন মনে গেঁথে আছে। কাটাখালী নদী নিয়ে আমার আরেকটা কথা খুব মনে পড়ে। সম্ভবত একাত্তর সালে তখন আমার বয়স ছয় বছর। চাচাত ভাইয়ের সঙ্গে নৌকায় করে কোথাও যাচ্ছিলাম। রাত্রিবেলা। পাশে নদীর উঁচু পাড়। তিনি রেডিওতে বিবিসি শোনার চেষ্টা করছেন।

গৃহপালিত এক নদী prokritibarta

আমাদের নদীতে নৌকাবাইচ হতো। আনুষ্ঠানিক নৌকাবাইচ না। বাইচের নৌকা নয়, সাধারণ নৌকা। আমাদের নৌকা, পাশের বাড়ির নৌকা, আরেক পাড়ার নৌকা এনে বাইচ করতাম আমরা। খুব মজা করে হেইয়ো, হেইয়ো গান গাইতাম। যে নৌকা জিতত, তাকে একটা পুরস্কার দেওয়া হতো।

কিছুদিন আগে বাড়ি গেলাম। গিয়ে দেখি বাড়ি ঘেঁষেই বড়, উঁচু একটা বাঁধ নির্মিত হয়েছে। পুরো নদীটা বাঁধের ভেতরে। আগে বাড়ির উঠোনে দাঁড়িয়ে আদিগন্ত নদী দেখা যেত। অনেক দূর পর্যন্তটা চোখে পড়ত। বাঁধের কারণে সেটা আড়াল হয়ে গেছে। আগেও নদীটা দূরে সরে যেত। বর্ষাকালে যেমন আঙিনায় এসে পড়ত, শীতকালে আবার দূরে সরে যেত। কিন্তু এভাবে কখনো আড়াল হয়নি। ঘরের পাশে দাঁড়িয়ে রঙিন পালতোলা নৌকা, মালবাহী নৌকা দেখা যেত। ওসব নৌকার মাঝিরা সত্যিই সুন্দর সুন্দর গান গাইতেন। আমার বাবা গল্প করেন, তাদের ছোটবেলায় কাটাখালী নদী দিয়ে গুড়বোঝাই নৌকা যেত। তিনি নদীর ধারে গেলে মাঝিরা ডেকে গুড় খেতে দিতেন। গুড় আর নদীর পানি খেয়ে বাড়ি ফিরতেন তিনি। বাঁধের কারণে নদীটা যেন আমাদের অনেক দূরে সরে গেল। আমার ফেলে আসা নদীকে আজও অনুভব করি। নদীর স্রোত মনে পড়ে, নদীর কলকল ধ্বনি কানে বাজে। আমাদের একটা গৃহপালিত নদী ছিল, সেটা যেন পর হয়ে গেল।

প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্বাধীনতা পুরস্কার গ্রহণ করলেন মুকিত মজুমদার বাবু

সাহিত্য

গৃহপালিত এক নদী

আপডেট সময় ০৭:০৯:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪

আমার একটা নদী ছিল। গৃহপালিত নদী। আমাদের পোষ মানা নদী। নদীটির সঙ্গে আমার দেখা হতো বছরে কয়েকবার, যখন আমি গ্রামের বাড়ি যেতাম। আমাদের বাড়ি গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ থানার সাতানা বালুয়া গ্রামে। বাবার চাকুরিসূত্রে রংপুর শহরে বেড়ে উঠলেও গ্রামের বাড়িতে অনেকবার গিয়েছি। আমার গ্রামের বাড়িটা নদীর একদম ওপরেই, পাড় ঘেঁষে। আমাদের ওই নদী আসলে করতোয়ারই একটি অংশ, স্থানীয়ভাবে কাটাখালী নদী বলে পরিচিত। অন্য সব নদী তীরবর্তী মানুষের মতোই, একদম ছোটবেলায়, সম্ভবত তিন-চার বছর বয়সে আমি সাঁতার কাটা শিখেছি। দলবেঁধে নদীতে গোসল করতে গিয়েছি, গামছা বেঁধে মাছ ধরেছি। ছোট ছোট চাঁদা মাছ ধরা যেত গামছা দিয়ে। বেলে মাছগুলো একটু বোকা ধরনের হয়- হাত দিয়ে ধরা যেত। নদীতে এসব করতে করতেই একসময় সাঁতার শেখা হয়ে গেছে আমার। পিঁপড়া খাওয়ার ঘটনা আমার জীবনেও ছিল; কিন্তু সাঁতারটা আমি নদীতেই শিখেছি। নৌকা বাওয়ার কাজটাও আমি ছয়-সাত বছরেই শিখে নিয়েছিলাম। নিজেদেরই নৌকা ছিল। গরুর গাড়িও ছিল। শীতকালের বাহন গরুর গাড়ি আর বর্ষাকালের জন্য নৌকা। আরেকটা যান আমরা ছোটরা খুবই ব্যবহার করতাম, সেটা হচ্ছে কলাগাছের ভেলা। বর্ষার প্রথম পানি আসার সঙ্গে সঙ্গেই কলাগাছ কেটে ভেলা বানানোর কাজটা করতেন বড় ভাইয়েরা। আমি তাদের সঙ্গে থাকতাম।

গৃহপালিত এক নদী prokritibarta

আমাদের কাটাখালী নদী নিয়ে বেশ কয়েকটা ঘটনা খুবই মনে পড়ে। সাত-আট বছর বয়সে একদিন আমি আর খেলার সাথি একটি ছেলে মিলে নদীর অপর পাড়ে গেছি নৌকা বেয়ে। ওর নাম অতুল, পাশের বাড়ির ছেলে। নদীর এক পাড় থাকে খাড়া, গ্রামে আমরা বলি কাতি। আরেকটা পাড় থাকে ঢালু, এটাই নিয়ম। আমাদের বাড়ির দিকে নদীর পাড় ঢালু, অপর পাড় খাড়া। আমি আর অতুল নৌকা নিয়ে ওই পাড়ে চলে গেছি। গিয়ে দেখি পানির ধারে ডিম পড়ে আছে। ওই নদীতে অনেক হাঁস ঘুরে বেড়াত, সেগুলোরই কোনো একটার ডিম। ডিমটা নিয়ে আসা হলো। অতুলের মা পিঁয়াজ দিয়ে ডিমটা ভাঁজলেন। আমরা দুজন খুব মজা করে ডিম ভাজা খেলাম।

গৃহপালিত এক নদী prokritibarta

কাটাখালী নদী নিয়ে আরেকটি ঘটনা আমার খুব মনে আছে। বন্যার পানি নেমে যাচ্ছে তখন। আমি একা একা নৌকা বাইছি নদীতে। অপর পাড়ে একজন বুড়োমতো মানুষ আমাকে ডাকছেন- নৌকা নিয়ে গেলে নদী পাড় হবেন। আমি তাঁর কাছে যাওয়ার চেষ্টা করছি, কিন্তু পারছি না- রাতে নৌকা ঘুরে যাচ্ছিল বারবার। অতি কষ্টে পাড়ের কাছে গেলাম। ওই বৃদ্ধ লোক কোমর পানিতে নেমে নৌকা টেনে ধরলেন এবং উঠে পড়লেন। একবার ফুপুর বাড়ি যাচ্ছি। নৌকায় করে বেশ খানিকটা পথ যাব; বাকি পথ গরুর গাড়িতে। নৌকা থেকে নামার জায়গাটা ছিল নদীর আরেক পাড়ে। কথা ছিল, গাড়ির গরুগুলো এই পাড় দিয়ে হেঁটে গিয়ে আমরা যেখানে নামব, সেখানে নদী পার হবে। কী কারণে যেন গরুর গাড়ি ওই পাড়েই ছিল। তখন বর্ষাকাল, নদীতে খুবই স্রোত। আমরা যথারীতি নদী পাড় হয়ে ওপাশে নামলাম, কিন্তু গরুগুলো কিছুতেই পার করা যাচ্ছিল না। যতবার পার হতে যায়, স্রোতে ভেসে অন্যদিকে চলে যায়।

আরেক দিন নৌকায় করে মাছ ধরতে যাচ্ছিলাম। বাঁশ দিয়ে বানানো ঝাঁকা নদীতে পেতে রাখা হতো; সেখানে বড় বড় আইড় মাছ ধরা পড়ত। বন্যায় তখন নদী আর তার চারপাশ ডুবে গেছে। আমরা নদীর মধ্য দিয়ে মাছ ধরার জায়গায় যাচ্ছিলাম। হঠাৎ নৌকাটা ডুবে গেল। অবশ্য নৌকা ডোবা আমাদের জন্য কোনো ব্যাপার ছিল না- সবাই সাঁতার জানতাম। ঘটনাটা কেন যেন মনে গেঁথে আছে। কাটাখালী নদী নিয়ে আমার আরেকটা কথা খুব মনে পড়ে। সম্ভবত একাত্তর সালে তখন আমার বয়স ছয় বছর। চাচাত ভাইয়ের সঙ্গে নৌকায় করে কোথাও যাচ্ছিলাম। রাত্রিবেলা। পাশে নদীর উঁচু পাড়। তিনি রেডিওতে বিবিসি শোনার চেষ্টা করছেন।

গৃহপালিত এক নদী prokritibarta

আমাদের নদীতে নৌকাবাইচ হতো। আনুষ্ঠানিক নৌকাবাইচ না। বাইচের নৌকা নয়, সাধারণ নৌকা। আমাদের নৌকা, পাশের বাড়ির নৌকা, আরেক পাড়ার নৌকা এনে বাইচ করতাম আমরা। খুব মজা করে হেইয়ো, হেইয়ো গান গাইতাম। যে নৌকা জিতত, তাকে একটা পুরস্কার দেওয়া হতো।

কিছুদিন আগে বাড়ি গেলাম। গিয়ে দেখি বাড়ি ঘেঁষেই বড়, উঁচু একটা বাঁধ নির্মিত হয়েছে। পুরো নদীটা বাঁধের ভেতরে। আগে বাড়ির উঠোনে দাঁড়িয়ে আদিগন্ত নদী দেখা যেত। অনেক দূর পর্যন্তটা চোখে পড়ত। বাঁধের কারণে সেটা আড়াল হয়ে গেছে। আগেও নদীটা দূরে সরে যেত। বর্ষাকালে যেমন আঙিনায় এসে পড়ত, শীতকালে আবার দূরে সরে যেত। কিন্তু এভাবে কখনো আড়াল হয়নি। ঘরের পাশে দাঁড়িয়ে রঙিন পালতোলা নৌকা, মালবাহী নৌকা দেখা যেত। ওসব নৌকার মাঝিরা সত্যিই সুন্দর সুন্দর গান গাইতেন। আমার বাবা গল্প করেন, তাদের ছোটবেলায় কাটাখালী নদী দিয়ে গুড়বোঝাই নৌকা যেত। তিনি নদীর ধারে গেলে মাঝিরা ডেকে গুড় খেতে দিতেন। গুড় আর নদীর পানি খেয়ে বাড়ি ফিরতেন তিনি। বাঁধের কারণে নদীটা যেন আমাদের অনেক দূরে সরে গেল। আমার ফেলে আসা নদীকে আজও অনুভব করি। নদীর স্রোত মনে পড়ে, নদীর কলকল ধ্বনি কানে বাজে। আমাদের একটা গৃহপালিত নদী ছিল, সেটা যেন পর হয়ে গেল।