সাবেক জনপ্রশাসন মন্ত্রী ফরহাদ হোসেনকে ৫ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে পোশাকশ্রমিক রুবেল হত্যার অভিযোগে রাজধানীর আদাবর থানায় দায়ের করা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। আজ রোববার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সানাউল্লাহ এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আজ রোববার দুপুরের পর ফরহাদ হোসেনকে আদালতে হাজির করে আদাবর থানা। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক আব্দুল মালেক তাঁর সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চান। শুনানি শেষে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গতকাল শনিবার রাতে রাজধানীর ইস্কাটন থেকে ফরহাদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আদাবর থানায় দায়ের করা পোশাকশ্রমিক রুবেল হত্যা মামলায় শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের, সাকিব আল হাসান ও চিত্রনায়ক ফেরদৌস আহমেদসহ ১৫৬ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৪০০-৫০০ জনকে আসামি করা হয়। গত ২২ আগস্ট পোশাকশ্রমিক রুবেলের বাবা রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে আদাবর থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে বাদী অভিযোগ করেন, গত ৫ আগস্ট রুবেল আদাবরের রিংরোডে ছাত্র-জনতার প্রতিবাদী মিছিলে অংশ নেন। এ সময় আসামিদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশ, প্ররোচনা, সাহায্য, সহযোগিতা ও প্রত্যক্ষ মদদে মিছিলে গুলি ছোড়া হয়। এতে বুকে ও পেটে গুলিবিদ্ধ হন রুবেল। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭ আগস্ট মারা যান তিনি।
রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, ফরহাদ হোসেন এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে হত্যার মূল রহস্য উদ্ঘাটন এবং এ ঘটনার সঙ্গে আর যাঁরা জড়িত তাঁদের শনাক্ত করার জন্য রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।
ফরহাদ হোসেন মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। ২০১৪ সালে নৌকা প্রতীক নিয়ে মেহেরপুর-১ আসনে জয়লাভ করেন। পরে ২০১৮ সালে জয়লাভ করলে বাংলাদেশ সরকারের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন তিনি। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিজয়ী হন।
ডেস্ক রিপোর্ট 










