প্র্যাকটিকাল অ্যাকশনের গোলটেবিল আলোচনা

প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহকারীদের জীবনমান উন্নয়নে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বারোপ

  • নাসিমুল শুভ
  • আপডেট সময় ০৭:১৩:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪
  • 262

প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহকারীদের জীবনমান উন্নয়নে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বারোপ

প্লাস্টিক বর্জ্যের সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বর্জ্য সংগ্রহ করা দরিদ্র মানুষদের অর্থনৈতিক অন্তর্ভূক্তির সময় এসেছে। এই অন্তর্ভূক্তির বিষয়টি নিশ্চিতে প্লাস্টিক রিসাইকেল একই সঙ্গে পরিবেশগত এবং মানবিক সমাধান হতে পারে। এজন্য প্লাস্টিক রিসাইকেলখাতের উন্নয়ন,আরও দেশী-বিদেশী প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ, আইন ও নীতিমালার সঠিক বাস্তবায়ন এবং বর্জ্য সংগ্রহকারীদের অধিকার সমুন্নতকরণে সরকার,ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তা, সমবায়গুলো এবং দাতাসংস্থাসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন।

বৃহস্পতিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন। বৈঠকের ধারণাপত্র উপস্থাপন করে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা প্র্যাকটিকাল অ্যাকশন।

অপ্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ের প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহকারীদের সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে কিভাবে প্লাস্টিক রিসাইকেল শিল্প আরও বিস্তৃত করা যায় এবং এর মাধ্যমে বর্জ্য সংগ্রহকারীদের আর্থিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটানো যায়, সেসব ধারণাপত্রে তুলে ধরা হয়।

গোলটেবিল বৈঠকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ ফিদা হাসান বলেন, ‘বিপুল সংখ্যক মানুষ প্রাতিষ্ঠানিক-অপ্রাতিষ্ঠানিকভাবে বর্জ্য সংগ্রহ কাজে নিয়োজিত। তাদের জীবনমান উন্নয়নে পরিকল্পনা নিতে হবে। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নিজেদের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের ব্যাপারে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। পরিবেশ থেকে প্লাস্টিক-পলিথিন দূষণ হ্রাস করতে সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মীদের দক্ষ করে গড়ে তোলা প্রয়োজন।’

বৈঠকে বাংলাদেশ প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিজিএমইএ) সভাপতি সামিম আহমেদ প্লাস্টিক বর্জ্যকে গ্রিন এনার্জিত রূপান্তরের পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে ৫ হাজারের বেশি প্লাস্টিক কারখানা। ব্যবহারকারীদের অসচেতনতায় পরিবেশে প্লাস্টিক বর্জ্য যাচ্ছে। পরিবেশে ছড়িয়ে পড়া প্লাস্টিক কমিয়ে আনতে বর্জ্য সংগ্রহকারীরাই বড় ভরসা। প্লাস্টিক বর্জ্য, পলিথিন দূষণ ঠেকাতে জনসচেতনার বিকল্প নেই, নিজেদের সচেতন হতে হবে। পলিথিনের ব্যাগ সমস্যার বিকল্প সমাধান খুঁজতে হবে।’

বক্তব্যে নদী-সাগরেও প্লাস্টিক দূষণের ভয়াবহতার প্রতি আলোচকদের মনোযোগ দেওয়ার তাগিদ দেন প্র্যাকটিকাল অ্যাকশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর ইশরাত শবনম। তিনি বলেন, এরকম দূষণে আমাদের অস্তিত্ব বিপন্নের হুমকি বাড়ছে। ভয়াবহ পরিণতি এড়াতে সবাইকে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার তথ্য-প্রযুক্তি আদান-প্রদান এবং গবেষণায় জোর দিতে হবে।’

পলিথিনসহ অন্যান্য প্লাস্টিক বর্জ্যের সঠিক ব্যবস্থাপনার জন্য বর্জ্য ফেলা থেকে শুরু করে সংগ্রহে শৃঙ্খলার অনুশীলন হওয়া উচিত বলে মনে করেন ইশরাত শবনম। তিনি এজন্য পচনশীল-অপচনশীল বর্জ্যের জন্য পৃথক বিনের ব্যবহার স্কুল পর্যায় থেকে শুরু করা উচিত বলেও মতপ্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য, প্রতি বছর বাংলাদেশে ৫.৬ টন প্লাস্টিক বর্জ্য জমে, এর ৬০ শতাংশ তৈরি হয় কেবল রাজধানী ঢাকাতে। এর মধ্যে রিসাইকেল শিল্পে আসে মাত্র ৩৭ শতাংশ বর্জ্য। প্র্যাকটিকাল অ্যাকশন বলছে, উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে ৮০ শতাংশ প্লাস্টিক বর্জ্যের রিসাইকেল সম্ভব। এর উদাহরণ হিসেবে সংস্থাটি তাদের ফরিদপুরে নেওয়া পাইরোলাইসিস তেল উৎপাদনের পাইলট প্রকল্পের কথা তুলে ধরে। সংস্থাটির দাবি, পাতলা পলিথিন থেকে ডিজেলের বিকল্প ধরনের তেল পাইরোলাইসিস উৎপাদন করা হচ্ছে। এরকম প্ল্যান্টে ১০০ কেজি পলিথিন থেকে ৭৫-৮০ লিটার পর্যন্ত তেল উৎপাদন করা সম্ভব। তেল উৎপাদনের পর উচ্ছিষ্ট উপকরণ থেকে বিকল্প আসবাবপত্র তৈরি এবং ব্ল্যাক কার্বন বাজারজাত করা সম্ভব। এই প্ল্যান্টটি বাস্তবায়নে সম্মিলিতভাবে কাজ করছে ফরিদপুর পৌরসভা, প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশন, বেসরকারি কোম্পানি রিভার-সাইকেল, সোসাইটি ডেভেলপমেন্ট কমিটি (এসডিসি) এবং ডানিডা মার্কেট ডেভেলপমেন্ট পার্টনারশিপস।

স্থানীয়দের সম্পৃক্ত করে এরকম উদ্যোগগুলো জেলায় জেলায় নেওয়া সম্ভব বলে মনে করে প্র্যাকটিকাল অ্যাকশন। আর সঠিক ব্যবস্থাপনা, ব্যবসা পরিকল্পনার মাধ্যমে প্লাস্টিক বর্জ্য রিসাইকেলখাতকে লাভজনক করা গেলে বর্জ্য সংগ্রহকারীদের কাজের স্বীকৃতি, জীবনমানের উন্নয়ন এবং তাদের পরবর্তী প্রজন্মের শিক্ষা-স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাও সহজ হবে বলে মনে করেন বৈঠকে অংশগ্রহণকারীর।

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

জনপ্রিয় সংবাদ

সারাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত

প্র্যাকটিকাল অ্যাকশনের গোলটেবিল আলোচনা

প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহকারীদের জীবনমান উন্নয়নে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বারোপ

আপডেট সময় ০৭:১৩:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪

প্লাস্টিক বর্জ্যের সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বর্জ্য সংগ্রহ করা দরিদ্র মানুষদের অর্থনৈতিক অন্তর্ভূক্তির সময় এসেছে। এই অন্তর্ভূক্তির বিষয়টি নিশ্চিতে প্লাস্টিক রিসাইকেল একই সঙ্গে পরিবেশগত এবং মানবিক সমাধান হতে পারে। এজন্য প্লাস্টিক রিসাইকেলখাতের উন্নয়ন,আরও দেশী-বিদেশী প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ, আইন ও নীতিমালার সঠিক বাস্তবায়ন এবং বর্জ্য সংগ্রহকারীদের অধিকার সমুন্নতকরণে সরকার,ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তা, সমবায়গুলো এবং দাতাসংস্থাসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন।

বৃহস্পতিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন। বৈঠকের ধারণাপত্র উপস্থাপন করে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা প্র্যাকটিকাল অ্যাকশন।

অপ্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ের প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহকারীদের সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে কিভাবে প্লাস্টিক রিসাইকেল শিল্প আরও বিস্তৃত করা যায় এবং এর মাধ্যমে বর্জ্য সংগ্রহকারীদের আর্থিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটানো যায়, সেসব ধারণাপত্রে তুলে ধরা হয়।

গোলটেবিল বৈঠকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ ফিদা হাসান বলেন, ‘বিপুল সংখ্যক মানুষ প্রাতিষ্ঠানিক-অপ্রাতিষ্ঠানিকভাবে বর্জ্য সংগ্রহ কাজে নিয়োজিত। তাদের জীবনমান উন্নয়নে পরিকল্পনা নিতে হবে। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নিজেদের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের ব্যাপারে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। পরিবেশ থেকে প্লাস্টিক-পলিথিন দূষণ হ্রাস করতে সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মীদের দক্ষ করে গড়ে তোলা প্রয়োজন।’

বৈঠকে বাংলাদেশ প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিজিএমইএ) সভাপতি সামিম আহমেদ প্লাস্টিক বর্জ্যকে গ্রিন এনার্জিত রূপান্তরের পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে ৫ হাজারের বেশি প্লাস্টিক কারখানা। ব্যবহারকারীদের অসচেতনতায় পরিবেশে প্লাস্টিক বর্জ্য যাচ্ছে। পরিবেশে ছড়িয়ে পড়া প্লাস্টিক কমিয়ে আনতে বর্জ্য সংগ্রহকারীরাই বড় ভরসা। প্লাস্টিক বর্জ্য, পলিথিন দূষণ ঠেকাতে জনসচেতনার বিকল্প নেই, নিজেদের সচেতন হতে হবে। পলিথিনের ব্যাগ সমস্যার বিকল্প সমাধান খুঁজতে হবে।’

বক্তব্যে নদী-সাগরেও প্লাস্টিক দূষণের ভয়াবহতার প্রতি আলোচকদের মনোযোগ দেওয়ার তাগিদ দেন প্র্যাকটিকাল অ্যাকশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর ইশরাত শবনম। তিনি বলেন, এরকম দূষণে আমাদের অস্তিত্ব বিপন্নের হুমকি বাড়ছে। ভয়াবহ পরিণতি এড়াতে সবাইকে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার তথ্য-প্রযুক্তি আদান-প্রদান এবং গবেষণায় জোর দিতে হবে।’

পলিথিনসহ অন্যান্য প্লাস্টিক বর্জ্যের সঠিক ব্যবস্থাপনার জন্য বর্জ্য ফেলা থেকে শুরু করে সংগ্রহে শৃঙ্খলার অনুশীলন হওয়া উচিত বলে মনে করেন ইশরাত শবনম। তিনি এজন্য পচনশীল-অপচনশীল বর্জ্যের জন্য পৃথক বিনের ব্যবহার স্কুল পর্যায় থেকে শুরু করা উচিত বলেও মতপ্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য, প্রতি বছর বাংলাদেশে ৫.৬ টন প্লাস্টিক বর্জ্য জমে, এর ৬০ শতাংশ তৈরি হয় কেবল রাজধানী ঢাকাতে। এর মধ্যে রিসাইকেল শিল্পে আসে মাত্র ৩৭ শতাংশ বর্জ্য। প্র্যাকটিকাল অ্যাকশন বলছে, উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে ৮০ শতাংশ প্লাস্টিক বর্জ্যের রিসাইকেল সম্ভব। এর উদাহরণ হিসেবে সংস্থাটি তাদের ফরিদপুরে নেওয়া পাইরোলাইসিস তেল উৎপাদনের পাইলট প্রকল্পের কথা তুলে ধরে। সংস্থাটির দাবি, পাতলা পলিথিন থেকে ডিজেলের বিকল্প ধরনের তেল পাইরোলাইসিস উৎপাদন করা হচ্ছে। এরকম প্ল্যান্টে ১০০ কেজি পলিথিন থেকে ৭৫-৮০ লিটার পর্যন্ত তেল উৎপাদন করা সম্ভব। তেল উৎপাদনের পর উচ্ছিষ্ট উপকরণ থেকে বিকল্প আসবাবপত্র তৈরি এবং ব্ল্যাক কার্বন বাজারজাত করা সম্ভব। এই প্ল্যান্টটি বাস্তবায়নে সম্মিলিতভাবে কাজ করছে ফরিদপুর পৌরসভা, প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশন, বেসরকারি কোম্পানি রিভার-সাইকেল, সোসাইটি ডেভেলপমেন্ট কমিটি (এসডিসি) এবং ডানিডা মার্কেট ডেভেলপমেন্ট পার্টনারশিপস।

স্থানীয়দের সম্পৃক্ত করে এরকম উদ্যোগগুলো জেলায় জেলায় নেওয়া সম্ভব বলে মনে করে প্র্যাকটিকাল অ্যাকশন। আর সঠিক ব্যবস্থাপনা, ব্যবসা পরিকল্পনার মাধ্যমে প্লাস্টিক বর্জ্য রিসাইকেলখাতকে লাভজনক করা গেলে বর্জ্য সংগ্রহকারীদের কাজের স্বীকৃতি, জীবনমানের উন্নয়ন এবং তাদের পরবর্তী প্রজন্মের শিক্ষা-স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাও সহজ হবে বলে মনে করেন বৈঠকে অংশগ্রহণকারীর।