সংবাদ শিরোনাম ::
চ্যানেল আইয়ের ২৬ বছরে পদার্পণ

মানবসেবাতেই এবার জন্মদিন উদযাপনের আনন্দ: মুকিত মজুমদার বাবু

  • নাসিমুল শুভ
  • আপডেট সময় ০৮:০৩:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ অক্টোবর ২০২৪
  • 268

মানবসেবাতেই এবার জন্মদিন উদযাপনের আনন্দ: মুকিত মজুমদার বাবু

১ অক্টোবর, ২৫ পেরিয়ে ২৬ বছরে পদার্পণ করলো বাংলাদেশের প্রথম ডিজিটাল বাংলা টেলিভিশন ‘চ্যানেল আই’। প্রতি বছর এই দিনটিতে চ্যানেল আই প্রাঙ্গন মুখরিত থাকে দেশের নানা জগতের পরিচিত মুখের শুভেচ্ছায়, আনন্দ বিনিময়ে। একের পর এক ফুলের তোড়া আসে, নানা আকৃতির কেক আসে। সবাইকে নিয়ে বিশাল এক কেক কেটে জন্মদিন পালন করে চ্যানেল আই। তবে এবার বরাবরের সেই জাঁকজমকপূর্ণ জন্মদিন উৎসব করেনি চ্যানেল আই। হৃদয়ে মাটি ও মানুষ স্লোগান ধারণ করা চ্যানেলটি এবারের জন্মদিনের উৎসবটির সমস্ত খরচ এমনকি নিজেদের সবার এক দিনের বেতন উৎসর্গ করেছে দেশের বন্যা দুর্গত মানুষদের সহায়তা করতে এবং বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসা ব্যয়ে। লাল-সবুজের চ্যানেলটি দেশ ও জনগণের মনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই এবার ঘটা করে জন্মদিন পালন না করে এই উৎসবের টাকা জনগণের জন্য ব্যয়ের সিদ্ধান্ত নেয় বলে জানিয়েছেন চ্যানেল আইয়ের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য এবং প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু।

তিনি প্রকৃতিবার্তাকে বলেন, ‘একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে কৃষি, পরিবেশ-প্রকৃতি নিয়ে অনুষ্ঠান,টক শো- বাংলাদেশের গণমাধ্যম জগতে প্রথমবারের মতো এরকম অনেক কিছুই করেছে চ্যানেল আই। একটি টেলিভিশন চ্যানেলেরও যে জন্মদিন পালন করা যায়, সেটিও প্রথমবারের মতো শুরু করেছিল চ্যানেল আই। বরাবরই চ্যানেল আইয়ের জন্মদিন আমরা বর্ণিল ভাবে আয়োজন করে এসেছি, যেখানে দেশের নানা জগতের সুপরিচিতরা আসতেন, চ্যানেল আইয়ের জন্মদিন হয়ে উঠতো নানা ক্ষেত্রের প্রতিষ্ঠিতদের মিলনমেলা। এবার রজতজয়ন্তী পেরিয়ে যাওয়া চ্যানেল আইতে ঘটা করেই উৎসবের কথা ছিল। কিন্তু এখন উৎসব উদযাপন করতে আমাদের মন সায় দেয়নি, সেটা আদতে উৎসব হতোও না।’

বরং উৎসবের টাকা দেশের মানুষের জন্য খরচের সিদ্ধান্ত হয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘চ্যানেল আই পরিবারের কাছে সব সময়ই দেশ ও জনগণ আগে, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে, বিশেষ করে বন্যা দুর্গত ও আন্দোলনে আহতদের কথা বিবেচনায় নিয়েই এবার উৎসব না করার সিদ্ধান্ত। আমরা এমন পরিস্থিতিতে উৎসব না করে সেই খরচটা দেশ ও জনগণের প্রতি উৎসর্গ করেই আনন্দিত। জন্মদিন আমরা আরও করতে পারবো, চ্যানেল আই বেঁচে থাকবে,জন্মদিন উৎসবও হবে। কিন্তু বর্তমানে দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানোটা জরুরী।”

প্রকৃতিবন্ধু হিসেবে পরিচিত মুকিত মজুমদার বাবুর প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনও দাঁড়িয়েছে ফেনী-কুমিল্লার বন্যা দুর্গত মানুষের পাশে। উত্তরাঞ্চলের নিম্নাঞ্চলে তিস্তা পাড়ের বন্যা উপদ্রুতদের পাশেও থাকছে তার প্রতিষ্ঠান। আর্তমানবতার সেবায় প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের প্রচেষ্টা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘চ্যানেল আইয়ের পাশাপাশি প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে দেশের পূর্বাঞ্চলের বন্যার শুরুতেই বন্যার্তদের জন্য ৫ লাখ টাকার খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়। বন্যা দুর্গত এলাকায় নিজেরা সহজে পৌঁছাতে না পারায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সাহায্যে সেই ত্রাণ পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয়।’

এছাড়া প্রকৃতি ও জীবনের পক্ষ থেকে উপদ্রুত অঞ্চলে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে স্বাস্থ্য সেবাও দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।

এদেশে টেলিভিশনের ইতিহাস যখন পয়ত্রিশ বছরের, তখন ১৯৯৯ সালের ১ অক্টোবর পথচলা শুরু হয় চ্যানেল আই-এর। সেদিন বুকভরা স্বপ্ন আর দেশ ও জনগণের কল্যাণে শতভাগ দায়বদ্ধতার এক নতুন প্রত্যয় ছিল চ্যানেল আই-এর পরিচালনা পর্ষদের। একটি আধুনিক টেলিভিশন, যা মানুষের তথ্যের তৃষ্ণা মেটাবে, মানুষের মূল্যবোধ জাগ্রত করবে, তার বন্ধ চোখ খুলে দেবে, তার জীবনের প্রয়োজনের সঙ্গে মিশে যাবে, এই ছিল স্বপ্ন যা পূরণ করা চলছে।  শুরু থেকে চ্যানেল আই দেশের শিল্প-সংস্কৃতির সব গুণী মানুষদেরকে যুক্ত করেছে তার পথচলায়।

সেই চ্যানেল আজ ২৬ বছরে, মুকিত মজুমদার বাবুর কাছে চ্যানেল আই যৌবনে পা রেখে ধীরে ধীরে দায়িত্বসচেতন এক তরুণের মতো। চ্যানেল আইয়ের অভিভাবকদের একজন হিসেবে তিনি বলেন, ২৬ বছরে পা রাখা চ্যানেল আই, অনেক অভিজ্ঞ। এই অভিজ্ঞতা থেকে আসবে আরও দায়িত্বশীলতা, আমরা প্রাজ্ঞ-দায়িত্বশীল গণমাধ্যম হিসেবে এগিয়ে যাবো।’

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

প্রথম দিনে সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ৪৪৫৭ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী

চ্যানেল আইয়ের ২৬ বছরে পদার্পণ

মানবসেবাতেই এবার জন্মদিন উদযাপনের আনন্দ: মুকিত মজুমদার বাবু

আপডেট সময় ০৮:০৩:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ অক্টোবর ২০২৪

১ অক্টোবর, ২৫ পেরিয়ে ২৬ বছরে পদার্পণ করলো বাংলাদেশের প্রথম ডিজিটাল বাংলা টেলিভিশন ‘চ্যানেল আই’। প্রতি বছর এই দিনটিতে চ্যানেল আই প্রাঙ্গন মুখরিত থাকে দেশের নানা জগতের পরিচিত মুখের শুভেচ্ছায়, আনন্দ বিনিময়ে। একের পর এক ফুলের তোড়া আসে, নানা আকৃতির কেক আসে। সবাইকে নিয়ে বিশাল এক কেক কেটে জন্মদিন পালন করে চ্যানেল আই। তবে এবার বরাবরের সেই জাঁকজমকপূর্ণ জন্মদিন উৎসব করেনি চ্যানেল আই। হৃদয়ে মাটি ও মানুষ স্লোগান ধারণ করা চ্যানেলটি এবারের জন্মদিনের উৎসবটির সমস্ত খরচ এমনকি নিজেদের সবার এক দিনের বেতন উৎসর্গ করেছে দেশের বন্যা দুর্গত মানুষদের সহায়তা করতে এবং বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসা ব্যয়ে। লাল-সবুজের চ্যানেলটি দেশ ও জনগণের মনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই এবার ঘটা করে জন্মদিন পালন না করে এই উৎসবের টাকা জনগণের জন্য ব্যয়ের সিদ্ধান্ত নেয় বলে জানিয়েছেন চ্যানেল আইয়ের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য এবং প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু।

তিনি প্রকৃতিবার্তাকে বলেন, ‘একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে কৃষি, পরিবেশ-প্রকৃতি নিয়ে অনুষ্ঠান,টক শো- বাংলাদেশের গণমাধ্যম জগতে প্রথমবারের মতো এরকম অনেক কিছুই করেছে চ্যানেল আই। একটি টেলিভিশন চ্যানেলেরও যে জন্মদিন পালন করা যায়, সেটিও প্রথমবারের মতো শুরু করেছিল চ্যানেল আই। বরাবরই চ্যানেল আইয়ের জন্মদিন আমরা বর্ণিল ভাবে আয়োজন করে এসেছি, যেখানে দেশের নানা জগতের সুপরিচিতরা আসতেন, চ্যানেল আইয়ের জন্মদিন হয়ে উঠতো নানা ক্ষেত্রের প্রতিষ্ঠিতদের মিলনমেলা। এবার রজতজয়ন্তী পেরিয়ে যাওয়া চ্যানেল আইতে ঘটা করেই উৎসবের কথা ছিল। কিন্তু এখন উৎসব উদযাপন করতে আমাদের মন সায় দেয়নি, সেটা আদতে উৎসব হতোও না।’

বরং উৎসবের টাকা দেশের মানুষের জন্য খরচের সিদ্ধান্ত হয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘চ্যানেল আই পরিবারের কাছে সব সময়ই দেশ ও জনগণ আগে, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে, বিশেষ করে বন্যা দুর্গত ও আন্দোলনে আহতদের কথা বিবেচনায় নিয়েই এবার উৎসব না করার সিদ্ধান্ত। আমরা এমন পরিস্থিতিতে উৎসব না করে সেই খরচটা দেশ ও জনগণের প্রতি উৎসর্গ করেই আনন্দিত। জন্মদিন আমরা আরও করতে পারবো, চ্যানেল আই বেঁচে থাকবে,জন্মদিন উৎসবও হবে। কিন্তু বর্তমানে দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানোটা জরুরী।”

প্রকৃতিবন্ধু হিসেবে পরিচিত মুকিত মজুমদার বাবুর প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনও দাঁড়িয়েছে ফেনী-কুমিল্লার বন্যা দুর্গত মানুষের পাশে। উত্তরাঞ্চলের নিম্নাঞ্চলে তিস্তা পাড়ের বন্যা উপদ্রুতদের পাশেও থাকছে তার প্রতিষ্ঠান। আর্তমানবতার সেবায় প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের প্রচেষ্টা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘চ্যানেল আইয়ের পাশাপাশি প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে দেশের পূর্বাঞ্চলের বন্যার শুরুতেই বন্যার্তদের জন্য ৫ লাখ টাকার খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়। বন্যা দুর্গত এলাকায় নিজেরা সহজে পৌঁছাতে না পারায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সাহায্যে সেই ত্রাণ পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয়।’

এছাড়া প্রকৃতি ও জীবনের পক্ষ থেকে উপদ্রুত অঞ্চলে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে স্বাস্থ্য সেবাও দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।

এদেশে টেলিভিশনের ইতিহাস যখন পয়ত্রিশ বছরের, তখন ১৯৯৯ সালের ১ অক্টোবর পথচলা শুরু হয় চ্যানেল আই-এর। সেদিন বুকভরা স্বপ্ন আর দেশ ও জনগণের কল্যাণে শতভাগ দায়বদ্ধতার এক নতুন প্রত্যয় ছিল চ্যানেল আই-এর পরিচালনা পর্ষদের। একটি আধুনিক টেলিভিশন, যা মানুষের তথ্যের তৃষ্ণা মেটাবে, মানুষের মূল্যবোধ জাগ্রত করবে, তার বন্ধ চোখ খুলে দেবে, তার জীবনের প্রয়োজনের সঙ্গে মিশে যাবে, এই ছিল স্বপ্ন যা পূরণ করা চলছে।  শুরু থেকে চ্যানেল আই দেশের শিল্প-সংস্কৃতির সব গুণী মানুষদেরকে যুক্ত করেছে তার পথচলায়।

সেই চ্যানেল আজ ২৬ বছরে, মুকিত মজুমদার বাবুর কাছে চ্যানেল আই যৌবনে পা রেখে ধীরে ধীরে দায়িত্বসচেতন এক তরুণের মতো। চ্যানেল আইয়ের অভিভাবকদের একজন হিসেবে তিনি বলেন, ২৬ বছরে পা রাখা চ্যানেল আই, অনেক অভিজ্ঞ। এই অভিজ্ঞতা থেকে আসবে আরও দায়িত্বশীলতা, আমরা প্রাজ্ঞ-দায়িত্বশীল গণমাধ্যম হিসেবে এগিয়ে যাবো।’