সংবাদ শিরোনাম ::
Logo প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্বাধীনতা পুরস্কার গ্রহণ করলেন মুকিত মজুমদার বাবু Logo হাম হলে শিশুকে যেসব খাবার খাওয়াবেন Logo ২২০০ পিঁপড়া পাচার চেষ্টায় চীনা নাগরিকের এক বছরের জেল Logo চট্টগ্রামে নিজেই হাসপাতালে এসে ডাক্তার ডেকে চিকিৎসা নিলো কাক! Logo বাংলাদেশে প্রতি তিন শিশুর মধ্যে এক জন মারাত্মকভাবে জলবায়ু ঝুঁকির মুখে Logo এপ্রিল এখন পর্যন্ত সহনীয়, দেশে এবছরের গ্রীষ্ম কম ভোগাবে আশা আবহাওয়াবিদের   Logo আজ স্বাধীনতা পদক প্রদান করবেন প্রধানমন্ত্রী Logo ‘ধান খাওয়ায়’ মেরে ফেলা হলো বাবুই পাখির ২৯ বাচ্চা, এক জনের কারাদণ্ড Logo পাবলো এসকোবারের ‘কোকেন’ জলহস্তীদের নিয়ে বিপাকে কলম্বিয়া Logo জ্বালানির দাম সমন্বয় করা হতে পারে: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা

সিনওয়ার নিহত: হামাস আর যুদ্ধ,দুটোই কি শেষ?

ইসরায়েলের সুপরিকল্পিত হামলায় ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের প্রধান ইসমাইল হানিয়া নিহতের পর সংগঠনটির হাল ধরেছিলেন সামরিকভাবে দক্ষ ইয়াহিয়া সিনওয়ার। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার মাস্টারমাইন্ড ছিলেন তিনি। গাজায় ইসরায়েলি হামলায় সেই সিনওয়ারও নিহত হয়েছেন। বিশেষ বাহিনীর পরিকল্পিত অভিযানে সিনওয়ার মারা যাননি, বরং দক্ষিণ গাজার রাফায় ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন তিনি।

হামাসের এখন কী হবে? যুদ্ধট কে পরিচালনা করবে? হামাসের নতুন নেতা কে হবেন এমন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

ঘটনাস্থল থেকে তোলা একটি ছবিতে দেখা যায়, ট্যাংকের গোলার আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপের মধ্যে মৃত অবস্থায় পড়ে আছেন সিনওয়ার, যিনি যুদ্ধের পোশাক পরিহিত।

সংক্ষেপে সিনওয়ার: ইয়াহিয়া সিনওয়ার ১৯৬২ সালে গাজার খান ইউনিসের একটি শরণার্থী শিবিরে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে মিশরের কাছ থেকে ইসরায়েল যখন গাজার দখল নেয়, তখন তার বয়স ছিল পাঁচ বছর।

১৯৪৮ সালে প্রথম আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের মাধ্যমে ইহুদি রাষ্ট্র ইসরায়েলের জন্ম হয়। যুদ্ধে জয়ী ইসরায়েল অধিকৃত অঞ্চল থেকে ৭ লাখের বেশি পরিবারকে বাস্তুচ্যুত করেছিল, যার একটি সিনওয়ারের পরিবার।

গাজা যুদ্ধ কি শেষ?

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সেনাদের প্রশংসা করে বলেছেন, এ বিজয় বড় হলেও এখানেই যুদ্ধ শেষ নয়।

তিনি বলেন, “যারা আমাদের ক্ষতি করে তাদের কী হয়, আজ আমরা আবারও স্পষ্ট করলাম। আজ আমরা আরও একবার বিশ্বকে দেখিয়েছি যে মন্দের উপরে ভালোর জয় আছে।”

বিবিসি লিখেছে, নেতানিয়াহু এবং গাজা যুদ্ধে সমর্থনকারী ইসরায়েলিরা বিজয়ের জন্য মুখিয়ে আছেন। সামরিক ও রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে হামাসকে ধ্বংস করা এবং জিম্মিদের ঘরে ফিরিয়ে আনাই যে যুদ্ধের লক্ষ্য, তা বহুবার বলেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী।

এর কোনোটিই এখনও অর্জিত হয়নি, যদিও এক বছরের যুদ্ধে কমপক্ষে ৪২ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে এবং গাজার বেশিরভাগ অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

কিন্তু হামাসের হাতে জিম্মি সবাই মুক্ত হয়নি। হামাস লড়াই করছে এবং কখনও কখনও ইসরায়েলি সেনাদের হত্যা করছে।

এ পরিস্থিতিতে সিনওয়ারকে হত্যা ছিল ইসরায়েলের বড় লক্ষ্য। তবে যতক্ষণ না নেতানিয়াহু দাবি করবেন যে যুদ্ধের অন্যান্য লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে, ততক্ষণ যুদ্ধ চলবে।

হামাসও বলছে ব্যক্তির মৃত্যু হলেও প্রতিরোধযুদ্ধ থামবে না।

ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী গোষ্ঠী হামাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা খলিল আল-হায়া যুদ্ধে তাদের নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ার নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করে জানিয়েছেন। তবে বলেছেন, সিনওয়ারের মৃত্যুতে দল কেবল আরও দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ হবে।

ফিলিস্তিনি জনগণের আকাঙ্খা পূরণের জন্য হামাস তাদের নিজস্ব পথেই চলবে বলে জানান তিনি।

হামাসের এই কর্মকর্তা বলেন, গাজায় যুদ্ধ শেষ না হওয়া এবং ইসরায়েলি সেনারা পুরোপুরি গাজা ছেড়ে চলে না যাওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলি জিম্মিদের ফেরত দেওয়া হবে না।

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্বাধীনতা পুরস্কার গ্রহণ করলেন মুকিত মজুমদার বাবু

সিনওয়ার নিহত: হামাস আর যুদ্ধ,দুটোই কি শেষ?

আপডেট সময় ০২:১৫:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৪

ইসরায়েলের সুপরিকল্পিত হামলায় ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের প্রধান ইসমাইল হানিয়া নিহতের পর সংগঠনটির হাল ধরেছিলেন সামরিকভাবে দক্ষ ইয়াহিয়া সিনওয়ার। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার মাস্টারমাইন্ড ছিলেন তিনি। গাজায় ইসরায়েলি হামলায় সেই সিনওয়ারও নিহত হয়েছেন। বিশেষ বাহিনীর পরিকল্পিত অভিযানে সিনওয়ার মারা যাননি, বরং দক্ষিণ গাজার রাফায় ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন তিনি।

হামাসের এখন কী হবে? যুদ্ধট কে পরিচালনা করবে? হামাসের নতুন নেতা কে হবেন এমন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

ঘটনাস্থল থেকে তোলা একটি ছবিতে দেখা যায়, ট্যাংকের গোলার আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপের মধ্যে মৃত অবস্থায় পড়ে আছেন সিনওয়ার, যিনি যুদ্ধের পোশাক পরিহিত।

সংক্ষেপে সিনওয়ার: ইয়াহিয়া সিনওয়ার ১৯৬২ সালে গাজার খান ইউনিসের একটি শরণার্থী শিবিরে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে মিশরের কাছ থেকে ইসরায়েল যখন গাজার দখল নেয়, তখন তার বয়স ছিল পাঁচ বছর।

১৯৪৮ সালে প্রথম আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের মাধ্যমে ইহুদি রাষ্ট্র ইসরায়েলের জন্ম হয়। যুদ্ধে জয়ী ইসরায়েল অধিকৃত অঞ্চল থেকে ৭ লাখের বেশি পরিবারকে বাস্তুচ্যুত করেছিল, যার একটি সিনওয়ারের পরিবার।

গাজা যুদ্ধ কি শেষ?

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সেনাদের প্রশংসা করে বলেছেন, এ বিজয় বড় হলেও এখানেই যুদ্ধ শেষ নয়।

তিনি বলেন, “যারা আমাদের ক্ষতি করে তাদের কী হয়, আজ আমরা আবারও স্পষ্ট করলাম। আজ আমরা আরও একবার বিশ্বকে দেখিয়েছি যে মন্দের উপরে ভালোর জয় আছে।”

বিবিসি লিখেছে, নেতানিয়াহু এবং গাজা যুদ্ধে সমর্থনকারী ইসরায়েলিরা বিজয়ের জন্য মুখিয়ে আছেন। সামরিক ও রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে হামাসকে ধ্বংস করা এবং জিম্মিদের ঘরে ফিরিয়ে আনাই যে যুদ্ধের লক্ষ্য, তা বহুবার বলেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী।

এর কোনোটিই এখনও অর্জিত হয়নি, যদিও এক বছরের যুদ্ধে কমপক্ষে ৪২ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে এবং গাজার বেশিরভাগ অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

কিন্তু হামাসের হাতে জিম্মি সবাই মুক্ত হয়নি। হামাস লড়াই করছে এবং কখনও কখনও ইসরায়েলি সেনাদের হত্যা করছে।

এ পরিস্থিতিতে সিনওয়ারকে হত্যা ছিল ইসরায়েলের বড় লক্ষ্য। তবে যতক্ষণ না নেতানিয়াহু দাবি করবেন যে যুদ্ধের অন্যান্য লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে, ততক্ষণ যুদ্ধ চলবে।

হামাসও বলছে ব্যক্তির মৃত্যু হলেও প্রতিরোধযুদ্ধ থামবে না।

ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী গোষ্ঠী হামাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা খলিল আল-হায়া যুদ্ধে তাদের নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ার নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করে জানিয়েছেন। তবে বলেছেন, সিনওয়ারের মৃত্যুতে দল কেবল আরও দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ হবে।

ফিলিস্তিনি জনগণের আকাঙ্খা পূরণের জন্য হামাস তাদের নিজস্ব পথেই চলবে বলে জানান তিনি।

হামাসের এই কর্মকর্তা বলেন, গাজায় যুদ্ধ শেষ না হওয়া এবং ইসরায়েলি সেনারা পুরোপুরি গাজা ছেড়ে চলে না যাওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলি জিম্মিদের ফেরত দেওয়া হবে না।