বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়েছিল মঙ্গলবারই। বুধবার তা থেকে জন্ম নিয়েছে ঘূর্ণিঝড় ‘দানা’। ভারতের আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোরেই সেটি উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে। এরপর পুরী এবং সাগরদ্বীপের মাঝামাঝি উড়িষ্যার ভিতরকণিকা এবং ধামারা দিয়ে স্থলভাগে ঢুকবে। ২৪ অক্টোবর রাত থেকে ২৫ অক্টোবরের সকালের মধ্যে শক্তি বাড়িয়ে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের আকার নেবে দানা। উপকূলে আছড়ে পড়ার সময় ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১২০ কিলোমিটারে পৌঁছাতে পারে। অর্থাৎ ঘূর্ণিঝড় দানা সরাসরি বাংলাদেশের দিকে ধেয়ে আসছে না। তবে স্বাভাবিকভাবেই দানার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে বন্দরগুলোতে ২ সরিয়ে ৩ নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
উপকূলীয় জেলা খুলনায় দমকা হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। বুধবার (২৩ অক্টোবর) সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির খবর পাওয়া যায়। নদীর তীরবর্তী এলাকায়ও দমকা বাতাস বইতে দেখা যায়।

সাতক্ষীরার উপকূলীয় এলাকায় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে।শ্যামনগর উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. শাহিনুল আলম জানান, ঘূর্ণিঝড় ‘দানা’ মোকাবিলায় উপজেলার সরকারি ১০২টিসহ মোট ১৬২টি সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছ। এছাড়া পর্যাপ্ত পরিমাণ শুকনা খাবার মজুত রাখা রয়েছে। জানমালের নিরাপত্তার জন্য দুই হাজার ৯শ ৮০ জন সিপিপি সদস্য, যার মধ্যে অর্ধেক নারী ও অর্ধেক পুরুষ। এছাড়া পর্যাপ্ত অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

শ্যামনগরে ৩৬০ কিলোমিটারের মতো বেড়িবাঁধ আছে। এরমধ্যে ৬-৭টি পয়েন্ট বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো-১) এর আওতায় ৩৮০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে তিন কিলোমিটার অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে, বড় ধরনের দুর্যোগ না এলে বাঁধ ভাঙার সম্ভাবনা নেই, বলেছেন সংশ্লিষ্টরা।
ডেস্ক রিপোর্ট 




















