সংবাদ শিরোনাম ::
কার্বন নিঃসরণে অসমতা

ধনীর ৯০ মিনিটের কার্বন নিঃসরণ সাধারণ ব্যক্তির সারাজীবনের চেয়েও বহুগুণ বেশি

ধনীর ৯০ মিনিটের কার্বন নিঃসরণ সাধারণ ব্যক্তির সারাজীবনের চেয়েও বহুগুণ বেশি

বৈশ্বিক উষ্ণায়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনে ধুঁকছে বিশ্ব। জলবায়ু পরিবর্তনে নানা দুর্যোগ-দুর্ভোগে পড়ছে প্রধানত উন্নয়নশীল এবং দরিদ্র দেশগুলোর মানুষ। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বহু উন্নয়নশীল এবং নিম্ন আয়ের দেশের মানুষকে ভোগাচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তন, আঘাত হানছে ঝড়-ঘূর্ণিঝড়, দেখা দিচ্ছে অসময়ে অস্বাভাবিক বৃষ্টি-বন্যা। অথচ বৈশ্বিক উষ্ণায়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনে এই দেশ এবং এসব দেশের জনগোষ্ঠী যেপ্রভাব রাখে তার চেয়ে বহুগুণ বেশি প্রভাব রাখে ধনী দেশ ও এসবের ধনী ব্যক্তিরা। বিশেষ করে সুপাররিচ হিসেবে পরিচিত বিলিয়ন-ট্রিলিয়নিয়াররা। ধনী-গরীবের এই কার্বন নিঃসরণের অসমতা এখন জলবায়ু পরিবর্তন সংশ্লিষ্ট বৈশ্বিক আলোচনায় বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে। আর এই কার্বন অসমতা বা বৈষম্য যে কেবল কথার কথা নয় সেটাও প্রমাণিত হচ্ছে। সোমবার (২৮ অক্টোবর) অক্সফাম ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধনীরা ৯০ মিনিটে যে পরিমাণ কার্বন নিঃসরণ করে তা এক ব্যক্তি গড়ে সারাজীবনে তা নিঃসরণ করে থাকে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইলন মাস্ক বিশ্বের অতিধনীদের একজন। তার দুটি প্রাইভেট জেট (দ্রুতগতির বিলাসবহুল ব্যক্তিগত উড়োজাহাজ) আছে। বছরে দুটি জেট পাঁচ হাজার ৪৯৭ টন কার্বন নিঃসরণ করে থাকে। এই পরিমাণ কার্বন নিঃসরণ করতে একজন ব্যক্তির সময় লাগবে ৮৩৪ বছর!

অক্সফামের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বের অতিধনী ৫০ জনের মধ্যে ২৩ জনের  প্রাইভেট জেট শনাক্ত করা গেছে। বাকিদের হয় জেট নেই বা সেই তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করেননি।

প্রতিবেদনের দেখা গেছে, ২০২৩ সালে ২৩ জনের প্রতিজন গড়ে ১৮৪ বার প্রাইভেট জেটে ভ্রমণ করেছেন। আর এতে আকাশে সময় ব্যয় করেছেন গড়ে ৪২৫ ঘণ্টা। এই ২৩ জন ২০২৩ সালে গড়ে প্রতিজন দুই হাজার ৭৪ জনের সমপরিমাণ কার্বন নিঃসরণ করেছেন, যা গড়ে একজন ব্যক্তির ক্ষেত্রে লাগবে ৩০০ বছর! বিশ্বের অতিদরিদ্র ৫০ শতাংশ মানুষ দুই হাজার ১ বছর ধরে এই পরিমাণ কার্বন নিঃসরণ করতে পারবে!

এদিকে অতিধনীদের কাছে অন্যতম পছন্দের  আরেকটি বিলাসীযান সুপারইয়ট। যা অনেকের কাছে অভিজাত্যের প্রতীক। ২০০০ সাল থেকে সুপারইয়টের সংখ্যা বেড়েছে। প্রতিবছর ১৫০টি সুপারইয়ট বাজারে আসছে।

অক্সফাম খুঁজে পেয়েছে, ১৮ অতিধনীর কাছে ২৩টি সুপারইয়ট রয়েছে, প্রতিটি থেকে প্রতিবছর ৫ হাজার ৬৭২ টন কার্বন প্রকৃতিতে মিশছে, যা অতিধনীদের ব্যবহৃত প্রাইভেট জেটের থেকে কার্বন নিঃসরণের বেলায় তিনগুণ বেশি।

ওয়ালটন পরিবার, যারা ওয়ালমার্টের উত্তরাধিকারী। তাদের কাছে আছে তিনটি সুপারইয়ট যার বাজার মূল্য ৫০০ মিলিয়ন ডলার। এই সুপারইয়ট দিয়ে তারা বছরে ৫৬ হাজার নটিক্যাল মাইল ভ্রমণ করে, যেখান থেকে বছরে কার্বন নিঃসরণ হচ্ছে ১৮ হাজার টন।

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

মাঝারি রূপ নিচ্ছে তাপপ্রবাহ,তাপমাত্রা হতে পারে ৩৬ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস

কার্বন নিঃসরণে অসমতা

ধনীর ৯০ মিনিটের কার্বন নিঃসরণ সাধারণ ব্যক্তির সারাজীবনের চেয়েও বহুগুণ বেশি

আপডেট সময় ০৭:০১:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৪

বৈশ্বিক উষ্ণায়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনে ধুঁকছে বিশ্ব। জলবায়ু পরিবর্তনে নানা দুর্যোগ-দুর্ভোগে পড়ছে প্রধানত উন্নয়নশীল এবং দরিদ্র দেশগুলোর মানুষ। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বহু উন্নয়নশীল এবং নিম্ন আয়ের দেশের মানুষকে ভোগাচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তন, আঘাত হানছে ঝড়-ঘূর্ণিঝড়, দেখা দিচ্ছে অসময়ে অস্বাভাবিক বৃষ্টি-বন্যা। অথচ বৈশ্বিক উষ্ণায়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনে এই দেশ এবং এসব দেশের জনগোষ্ঠী যেপ্রভাব রাখে তার চেয়ে বহুগুণ বেশি প্রভাব রাখে ধনী দেশ ও এসবের ধনী ব্যক্তিরা। বিশেষ করে সুপাররিচ হিসেবে পরিচিত বিলিয়ন-ট্রিলিয়নিয়াররা। ধনী-গরীবের এই কার্বন নিঃসরণের অসমতা এখন জলবায়ু পরিবর্তন সংশ্লিষ্ট বৈশ্বিক আলোচনায় বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে। আর এই কার্বন অসমতা বা বৈষম্য যে কেবল কথার কথা নয় সেটাও প্রমাণিত হচ্ছে। সোমবার (২৮ অক্টোবর) অক্সফাম ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধনীরা ৯০ মিনিটে যে পরিমাণ কার্বন নিঃসরণ করে তা এক ব্যক্তি গড়ে সারাজীবনে তা নিঃসরণ করে থাকে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইলন মাস্ক বিশ্বের অতিধনীদের একজন। তার দুটি প্রাইভেট জেট (দ্রুতগতির বিলাসবহুল ব্যক্তিগত উড়োজাহাজ) আছে। বছরে দুটি জেট পাঁচ হাজার ৪৯৭ টন কার্বন নিঃসরণ করে থাকে। এই পরিমাণ কার্বন নিঃসরণ করতে একজন ব্যক্তির সময় লাগবে ৮৩৪ বছর!

অক্সফামের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বের অতিধনী ৫০ জনের মধ্যে ২৩ জনের  প্রাইভেট জেট শনাক্ত করা গেছে। বাকিদের হয় জেট নেই বা সেই তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করেননি।

প্রতিবেদনের দেখা গেছে, ২০২৩ সালে ২৩ জনের প্রতিজন গড়ে ১৮৪ বার প্রাইভেট জেটে ভ্রমণ করেছেন। আর এতে আকাশে সময় ব্যয় করেছেন গড়ে ৪২৫ ঘণ্টা। এই ২৩ জন ২০২৩ সালে গড়ে প্রতিজন দুই হাজার ৭৪ জনের সমপরিমাণ কার্বন নিঃসরণ করেছেন, যা গড়ে একজন ব্যক্তির ক্ষেত্রে লাগবে ৩০০ বছর! বিশ্বের অতিদরিদ্র ৫০ শতাংশ মানুষ দুই হাজার ১ বছর ধরে এই পরিমাণ কার্বন নিঃসরণ করতে পারবে!

এদিকে অতিধনীদের কাছে অন্যতম পছন্দের  আরেকটি বিলাসীযান সুপারইয়ট। যা অনেকের কাছে অভিজাত্যের প্রতীক। ২০০০ সাল থেকে সুপারইয়টের সংখ্যা বেড়েছে। প্রতিবছর ১৫০টি সুপারইয়ট বাজারে আসছে।

অক্সফাম খুঁজে পেয়েছে, ১৮ অতিধনীর কাছে ২৩টি সুপারইয়ট রয়েছে, প্রতিটি থেকে প্রতিবছর ৫ হাজার ৬৭২ টন কার্বন প্রকৃতিতে মিশছে, যা অতিধনীদের ব্যবহৃত প্রাইভেট জেটের থেকে কার্বন নিঃসরণের বেলায় তিনগুণ বেশি।

ওয়ালটন পরিবার, যারা ওয়ালমার্টের উত্তরাধিকারী। তাদের কাছে আছে তিনটি সুপারইয়ট যার বাজার মূল্য ৫০০ মিলিয়ন ডলার। এই সুপারইয়ট দিয়ে তারা বছরে ৫৬ হাজার নটিক্যাল মাইল ভ্রমণ করে, যেখান থেকে বছরে কার্বন নিঃসরণ হচ্ছে ১৮ হাজার টন।