সংবাদ শিরোনাম ::

সাত কোটি বছর আগের জলাভূমির স্তন্যপায়ীর খোঁজ!

সাত কোটি বছর আগের জলাভূমির স্তন্যপায়ীর খোঁজ!

নতুন এক প্রাচীন স্তন্যপায়ী প্রাণীর জীবাশ্ম আবিষ্কার করেছেন জীবাশ্মবিদরা। ডাইনোসর যুগে মাটি বা পানি উভয় স্থানেই এই স্তন্যপায়ী প্রাণীটি বাস করত বলে ধারণা তাদের। জীবাশ্মবিদদের অনুমান, যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের ছোট্ট শহর রেনজলির কাছে পাওয়া এই জীবাশ্মটি প্রায় সাত থেকে সাড়ে সাত কোটি বছরের পুরনো।

গবেষকরা এই প্রাগৈতিহাসিক স্তন্যপায়ী প্রজাতির নাম দিয়েছেন হেলিওকোলা পাইসিয়ানাস। লাতিন ভাষায় এর অর্থ জলাভূমিবাসী।

বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল প্লস ওয়ানে প্রকাশিত গবেষণা থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। গবেষণা দলটির নেতৃত্বে ছিলেন ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডো বোল্ডারের অধ্যাপক জেলিন এবারলে।

নতুন পাওয়া জীবাশ্মটি শনাক্ত হয়েছে তিনটি পেষক দাঁতযুক্ত চোয়ালের হাড়ের ছোট টুকরো থেকে। ডাইনোসরের পাশাপাশি ক্রিটেসিয়াস যুগের শেষের দিকে বাস করত এই স্তন্যপায়ী প্রাণীটি। সে সময় আমেরিকার পশ্চিমাঞ্চলের কিছু অংশ জুড়ে ছিল এক বিশাল সমুদ্র। একই সঙ্গে কলোরাডোতে ভূমি ও পানি মিলেমিশে এমন এক পরিবেশ তৈরি করেছিল, যা সাহায্য করেছে অনেক প্রজাতির প্রাণীকে টিকিয়ে রাখতে।

এই অঞ্চলটিকে সাত কোটি বছর আগের এমন একটি জায়গা হিসাবে বর্ণনা করেছেন ‘ডাইনোসর ন্যাশনাল মনুমেন্ট’-এর জীবাশ্মবিদ রেবেকা হান্ট-ফস্টার, যেখানে পানি এসে ভূমির সঙ্গে মিলেছে। ফলে এ জায়গাটি কচ্ছপ, হাঁস, ডাইনোসর, এমনকি দানব আকৃতির কুমিরের মতো প্রাণীদের আশ্রয়স্থল হয়ে ওঠে। “এখানে আমরা হাঙ্গর, রে ও গিটারফিশের মতো পানি-প্রেমী প্রাণীর প্রমাণও পেয়েছি।”

সিইউ মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্ট্রির কিউরেটর ও অধ্যাপক এবারলে বলেন, ওই সময় কলোরাডোতে স্তন্যপায়ী প্রাণীদের বসবাস করার বিষয়টি বিরল।

টিরানোসরাস রেক্স বা ‘ট্রাইসেরাটপস’-এর মতো দানবাকৃতির ডাইনোসর প্রজাতির তুলনায় হেলিওকোলা পাইসিয়ানাসকে আকারে ছোট মনে হলেও সেই সময়ের স্তন্যপায়ী প্রাণীদের তুলনায় এই আকার বেশ বড় বলে প্রতিবেদনে লিখেছে বিজ্ঞানভিত্তিক সাইট নোরিজ।

এবারলের অনুমান, এই প্রাচীন স্তন্যপায়ী প্রাণীটির আকারে প্রায় গন্ধগোকুলের মতোই। যার ওজন দুই পাউন্ডেরও বেশি। ক্রিটেসিয়াস যুগের শেষের দিকের বেশিরভাগ স্তন্যপায়ী প্রাণীর চেয়ে আকারে অনেক বড় এটি।

এবারলে বলেন, ডাইনোসরের রাজত্বকালে বসবাসকারী বেশিরভাগ স্তন্যপায়ী প্রাণী আকারে ক্ষুদ্র ছিল। আর এরা জীবাশ্ম হিসাবে কেবল রেখে গেছে ছোট ছোট দাঁত। তবে ‘হেলিওকোলা পাইসিয়ানাস’ প্রাণীটি আকারে তুলনামূলক বড় হওয়ার কারণে তা টিকে গেছে এর জীবাশ্ম।

গবেষকদের ধারণা- অঞ্চলটি বিশালাকার কচ্ছপ, হাঁস, ডাইনোসর, এমনকি দানব আকৃতির কুমিরের মতো প্রাণীদেরও আশ্রয়স্থল ছিল।

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

আগামী ৫ দিন দেশজুড়ে বৃষ্টির সম্ভাবনা কম

সাত কোটি বছর আগের জলাভূমির স্তন্যপায়ীর খোঁজ!

আপডেট সময় ০৪:৫৯:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৪

নতুন এক প্রাচীন স্তন্যপায়ী প্রাণীর জীবাশ্ম আবিষ্কার করেছেন জীবাশ্মবিদরা। ডাইনোসর যুগে মাটি বা পানি উভয় স্থানেই এই স্তন্যপায়ী প্রাণীটি বাস করত বলে ধারণা তাদের। জীবাশ্মবিদদের অনুমান, যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের ছোট্ট শহর রেনজলির কাছে পাওয়া এই জীবাশ্মটি প্রায় সাত থেকে সাড়ে সাত কোটি বছরের পুরনো।

গবেষকরা এই প্রাগৈতিহাসিক স্তন্যপায়ী প্রজাতির নাম দিয়েছেন হেলিওকোলা পাইসিয়ানাস। লাতিন ভাষায় এর অর্থ জলাভূমিবাসী।

বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল প্লস ওয়ানে প্রকাশিত গবেষণা থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। গবেষণা দলটির নেতৃত্বে ছিলেন ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডো বোল্ডারের অধ্যাপক জেলিন এবারলে।

নতুন পাওয়া জীবাশ্মটি শনাক্ত হয়েছে তিনটি পেষক দাঁতযুক্ত চোয়ালের হাড়ের ছোট টুকরো থেকে। ডাইনোসরের পাশাপাশি ক্রিটেসিয়াস যুগের শেষের দিকে বাস করত এই স্তন্যপায়ী প্রাণীটি। সে সময় আমেরিকার পশ্চিমাঞ্চলের কিছু অংশ জুড়ে ছিল এক বিশাল সমুদ্র। একই সঙ্গে কলোরাডোতে ভূমি ও পানি মিলেমিশে এমন এক পরিবেশ তৈরি করেছিল, যা সাহায্য করেছে অনেক প্রজাতির প্রাণীকে টিকিয়ে রাখতে।

এই অঞ্চলটিকে সাত কোটি বছর আগের এমন একটি জায়গা হিসাবে বর্ণনা করেছেন ‘ডাইনোসর ন্যাশনাল মনুমেন্ট’-এর জীবাশ্মবিদ রেবেকা হান্ট-ফস্টার, যেখানে পানি এসে ভূমির সঙ্গে মিলেছে। ফলে এ জায়গাটি কচ্ছপ, হাঁস, ডাইনোসর, এমনকি দানব আকৃতির কুমিরের মতো প্রাণীদের আশ্রয়স্থল হয়ে ওঠে। “এখানে আমরা হাঙ্গর, রে ও গিটারফিশের মতো পানি-প্রেমী প্রাণীর প্রমাণও পেয়েছি।”

সিইউ মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্ট্রির কিউরেটর ও অধ্যাপক এবারলে বলেন, ওই সময় কলোরাডোতে স্তন্যপায়ী প্রাণীদের বসবাস করার বিষয়টি বিরল।

টিরানোসরাস রেক্স বা ‘ট্রাইসেরাটপস’-এর মতো দানবাকৃতির ডাইনোসর প্রজাতির তুলনায় হেলিওকোলা পাইসিয়ানাসকে আকারে ছোট মনে হলেও সেই সময়ের স্তন্যপায়ী প্রাণীদের তুলনায় এই আকার বেশ বড় বলে প্রতিবেদনে লিখেছে বিজ্ঞানভিত্তিক সাইট নোরিজ।

এবারলের অনুমান, এই প্রাচীন স্তন্যপায়ী প্রাণীটির আকারে প্রায় গন্ধগোকুলের মতোই। যার ওজন দুই পাউন্ডেরও বেশি। ক্রিটেসিয়াস যুগের শেষের দিকের বেশিরভাগ স্তন্যপায়ী প্রাণীর চেয়ে আকারে অনেক বড় এটি।

এবারলে বলেন, ডাইনোসরের রাজত্বকালে বসবাসকারী বেশিরভাগ স্তন্যপায়ী প্রাণী আকারে ক্ষুদ্র ছিল। আর এরা জীবাশ্ম হিসাবে কেবল রেখে গেছে ছোট ছোট দাঁত। তবে ‘হেলিওকোলা পাইসিয়ানাস’ প্রাণীটি আকারে তুলনামূলক বড় হওয়ার কারণে তা টিকে গেছে এর জীবাশ্ম।

গবেষকদের ধারণা- অঞ্চলটি বিশালাকার কচ্ছপ, হাঁস, ডাইনোসর, এমনকি দানব আকৃতির কুমিরের মতো প্রাণীদেরও আশ্রয়স্থল ছিল।