রাঙামাটির পাহাড়ে বন্য হাতির ঘরে এসেছে নতুন অতিথি। জন্ম হয়েছে নবজাতক হাতি। এমন খুশির খবরে ভাসছে পাহাড়বাসি। সদ্য নবজাত বাচ্চা হাতি খবরে মিষ্টি মুখর গ্রামবাসি। দূর থেকে হাতির বাচ্চা এক নজর দেখতে জঙ্গলে ভিড় করছেন স্থানীয়রা। শুধু তাই নয়, ছুটে গেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তর বনবিভাগের কর্মকর্তাও। বাচ্চা হাতিটার খুনসুটিতে মেতেছে বনবাদুর। রাঙামাটি লংগদু উপজেলার ভাসান্যাদম ইউনিয়নে ১৩টি হাতির পালের সাথে একটি বাচ্চা হাতি গুঁটি গুঁটি পায়ে ঘুড়ে বেড়াচ্ছে বন জঙ্গলে। দেখতে বেশ মোটা তাজা। চকচকে শরীর। ছোট দু’কান আর একটি সুঁড়। দেখে বুঝা যাবে নবজাতক শিশু। মাত্র কয়েকদিন হয়েছে জন্ম তার। এরই মধ্যে বাচ্চাকে বন জঙ্গলের নিয়মনীতি শেখাতে ব্যস্ত সময় পার করছে মা হাতি ও তার সঙ্গীরা।
রাঙামাটির ১০টি উপজেলার মধ্যে একটি উপজেলার নাম লংগদু। শহর থেকে এ উপজেলা দূরত্ব প্রায় ১৩৪ কিলোমিটার। আর লংগদু উপজেলা থেকে ভাসান্যাদম ইউনিয়নের দূরুত্ব আরও ১২কিলোমিটার। এ ইউনিয়নের একটি গ্রামের নাম খাগড়াছড়ি পাড়া। এ পাড়ার আশপাশে বনজঙ্গলে বসবাস বন্য হাতির দল। খাবারের সন্ধানে প্রায় সময়ই এপাড়ায় ওপাড়ায় তাণ্ডব চালায় বন্য হাতিগুলো। রাতদিন বুক ফুলিয়ে ১৩টি হাতির পাল ঘুরে বেড়ায় খাগড়াছড়ি পাড়ায়। ভেঙে দেয় স্থানীয়দের ঘর-বাড়ি, দোকান-পাট। তাই ভর দুপুরেও খাগড়াছড়ি বাজার থাকে মানুষ শূণ্য। তবুও হাতির সাথে দ্বন্ধ নেই এ পাড়াবাসির।
সম্প্রতি ভাসান্যাদম ইউনিয়নের খাগড়াছড়ি পাড়ার পার্শবর্তী জঙ্গলে প্রজনন হয়েছে একটি বাচ্চা হাতির। ১৩টি বন্য হাতির দলে যুক্ত হলো নতুন আরও একটি মুখ। এখবরে উচ্ছ্বসিত স্থানীয়রা। গ্রামবাসি মা হাতির জন্য প্রায় প্রতিদিন রেখে আসে বিভিন্ন প্রজাতির ফলমুল। ভাসান্যাদম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. হজরত আলী বলেন, আমরা বন্যহাতির তাণ্ডবে সব কিছু হারিয়েছি। অনেকে স্বজন হারিয়েছে। কিন্তু তবুও আমরা বন্যহাতিদের ভালবাসি। এ এলাকায় ১৩টি হাতি আছে। তাদের মধ্যে একটি মা হাতি নতুন বাচ্চা জন্ম দিয়েছে। পালসহ এ এলাকায় ঘুরে বেড়ায়। আমরা তাদের খাবার দিয়ে সাহায্য করি। শুধু তাই নয়, অসুস্থ হলে বন্য হাতিদের সেবা করি। তাই হাতিগুলো আমাদের অনেক আপন।
পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তর বনবিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধূরী বলেন, আমরা বাচ্চা হাতিটি দেখে এসেছি। সুস্থ সবল আছে। যেখানে সারা দেশে নানাভাবে হাতির মৃত্যু হচ্ছে, সেখানে পাহাড়ে বন্যহাতির সুস্থ প্রজনন হচ্ছে। হাতিগুলো মানুষের কাছাকাছি আছে। তাই তাদের সেবা করার জন্য আমরা কিছু গ্রামবাসিকে টাকা দিয়ে হাতিগুলোর দেখভাল করার কাজে লাগিয়েছি। যাতে হাতির দ্বারা মানুষের, আর মানুষ দ্বারা হাতির কোন ক্ষতি না হয়। এছাড়া বন্য হাতির আক্রমনে ক্ষতিগ্রস্তদের আমরা বনবিভাগের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ ও মৃত্যুকালীন অনুদান প্রদান করেছি। পাহাড়ের জীববৈচিত্র্য রক্ষা করতে বন প্রহরীরা সজাগ আছে।
ডেস্ক রিপোর্ট 




















