জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন ২০২৪

কপ ২৯ লোগোতে লুকানো বার্তা

  • নাসিমুল শুভ
  • আপডেট সময় ০২:৫৯:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ নভেম্বর ২০২৪
  • 320

কপ ২৯ লোগোতে লুকানো যে বার্তা

বৈশ্বিক উষ্ণায়ন-জলবায়ু পরিবর্তনে ধুঁকতে থাকা বিশ্বকে আশার বার্তা দিতে শুরু হয়েছে এবছরের জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন কপ ২৯। পশ্চিম এশিয়ার দেশ আজারবাইজানের বাকুতে জলবায়ু সম্মেলনের এই আয়োজনের পর্দা উঠেছে আজ। এবারের জলবায়ু সম্মেলনের লোগো বা প্রতীকেও রয়েছে প্রকৃতির বার্তা। এবছরের এপ্রিলেই লোগোটি উন্মোচন করেছিল আয়োজক দেশ আজারবাইজান। দেশটির ঐতিহ্যবাহী বুতা নকশায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ৫টি পানির ফোটার মতো মোটিফ। এই ৫টি মোটিফের প্রতিটিতে পৃথক ডিজাইনে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে উদ্ভিদ ও প্রাণী জগত, বাতাস ,পানি, শক্তি এবং সৌরজগত।

এবারের লোগো আসলে কী বার্তা দিচ্ছে এই প্রশ্নের উত্তরে কপ ২৯ সম্মেলন পরিচালনা প্রতিষ্ঠানের প্রধান পরিচালনা কর্মকর্তা নারমিন জারশালোভা জানান, এই লোগো কপ ২৯ এর এবারের নেতৃত্ব দেওয়া আজারবাইজানের ঐতিহ্যবাহী বুতা নকশা থেকে অনুপ্রাণিত। এই নকশার মাধ্যমে একই সঙ্গে প্রাকৃতিক সম্পদের প্রয়োজনীয়তা, পরিবেশের নাজুক অবস্থাকে স্বীকার করে নেওয়া এবং আজারবাইজানের সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

তিনি আরেকটু বিস্তারিতভাবে বলেন, বুতা মোটিফ আজারবাইজানের ইতিহাস এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ, এটি টেকসই এবং উদ্ভাবনী চিন্তাকে ধারণ করে। এর মাধ্যমে আমরা অতীতের সঙ্গে বর্তমানের সেতুবন্ধনে গুরুত্বারোপ করেছি। বুতা মোটিফে পানির ফোটাগুলো দেয় ঐক্যের বার্তা । জলবায়ু পরিবর্তনের এই চ্যালেঞ্জ ভরা সময়ে কপ ২৯ এর লোগো মানুষ ও প্রকৃতির মধ্যে ব্যাঘাতহীন ভারসাম্যময় সম্পর্ককে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলছে, দিচ্ছে প্রতিবেশ সচেতন আচরণ এবং ফলপ্রসূ পদক্ষেপ নেওয়ার জোরালো বার্তা।

প্রসঙ্গত, এবারের কপ ২৯ এর সভাপতিত্ব করা দেশ আজারবাইজান ২০১৫ সালের প্যারিস চুক্তির অধীনে ২০৩০ সালের মধ্যে গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন ৩৫ শতাংশ কমাতে এবং ২০৫০ সালের মধ্যে এটি ৪০ শতাংশে নিয়ে আসার প্রতিশ্রুতি  দিয়েছে।

প্রচলিত উৎস বা জীবাশ্মজ্বালানী থেকে বিকল্প শক্তিতে রূপান্তর আজারবাইজান সরকারের অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে আজারবাইজানের বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে দেশের শক্তিখাতের রূপান্তরে সৌর, বায়ু এবং জলবিদ্যুত প্রকল্পে জোর দিয়েছে আজারবাইজান।

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

জনপ্রিয় সংবাদ

সারাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত

জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন ২০২৪

কপ ২৯ লোগোতে লুকানো বার্তা

আপডেট সময় ০২:৫৯:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ নভেম্বর ২০২৪

বৈশ্বিক উষ্ণায়ন-জলবায়ু পরিবর্তনে ধুঁকতে থাকা বিশ্বকে আশার বার্তা দিতে শুরু হয়েছে এবছরের জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন কপ ২৯। পশ্চিম এশিয়ার দেশ আজারবাইজানের বাকুতে জলবায়ু সম্মেলনের এই আয়োজনের পর্দা উঠেছে আজ। এবারের জলবায়ু সম্মেলনের লোগো বা প্রতীকেও রয়েছে প্রকৃতির বার্তা। এবছরের এপ্রিলেই লোগোটি উন্মোচন করেছিল আয়োজক দেশ আজারবাইজান। দেশটির ঐতিহ্যবাহী বুতা নকশায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ৫টি পানির ফোটার মতো মোটিফ। এই ৫টি মোটিফের প্রতিটিতে পৃথক ডিজাইনে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে উদ্ভিদ ও প্রাণী জগত, বাতাস ,পানি, শক্তি এবং সৌরজগত।

এবারের লোগো আসলে কী বার্তা দিচ্ছে এই প্রশ্নের উত্তরে কপ ২৯ সম্মেলন পরিচালনা প্রতিষ্ঠানের প্রধান পরিচালনা কর্মকর্তা নারমিন জারশালোভা জানান, এই লোগো কপ ২৯ এর এবারের নেতৃত্ব দেওয়া আজারবাইজানের ঐতিহ্যবাহী বুতা নকশা থেকে অনুপ্রাণিত। এই নকশার মাধ্যমে একই সঙ্গে প্রাকৃতিক সম্পদের প্রয়োজনীয়তা, পরিবেশের নাজুক অবস্থাকে স্বীকার করে নেওয়া এবং আজারবাইজানের সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

তিনি আরেকটু বিস্তারিতভাবে বলেন, বুতা মোটিফ আজারবাইজানের ইতিহাস এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ, এটি টেকসই এবং উদ্ভাবনী চিন্তাকে ধারণ করে। এর মাধ্যমে আমরা অতীতের সঙ্গে বর্তমানের সেতুবন্ধনে গুরুত্বারোপ করেছি। বুতা মোটিফে পানির ফোটাগুলো দেয় ঐক্যের বার্তা । জলবায়ু পরিবর্তনের এই চ্যালেঞ্জ ভরা সময়ে কপ ২৯ এর লোগো মানুষ ও প্রকৃতির মধ্যে ব্যাঘাতহীন ভারসাম্যময় সম্পর্ককে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলছে, দিচ্ছে প্রতিবেশ সচেতন আচরণ এবং ফলপ্রসূ পদক্ষেপ নেওয়ার জোরালো বার্তা।

প্রসঙ্গত, এবারের কপ ২৯ এর সভাপতিত্ব করা দেশ আজারবাইজান ২০১৫ সালের প্যারিস চুক্তির অধীনে ২০৩০ সালের মধ্যে গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন ৩৫ শতাংশ কমাতে এবং ২০৫০ সালের মধ্যে এটি ৪০ শতাংশে নিয়ে আসার প্রতিশ্রুতি  দিয়েছে।

প্রচলিত উৎস বা জীবাশ্মজ্বালানী থেকে বিকল্প শক্তিতে রূপান্তর আজারবাইজান সরকারের অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে আজারবাইজানের বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে দেশের শক্তিখাতের রূপান্তরে সৌর, বায়ু এবং জলবিদ্যুত প্রকল্পে জোর দিয়েছে আজারবাইজান।