প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে বরাদ্দ করা ৭০০ একর বনভূমির বন্দোবস্ত বাতিল করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের অনুরোধের প্রেক্ষিতে বনভূমির এ বরাদ্দ বাতিল করা হয়েছে বলে মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
রোববার (১০ নভেম্বর) ভূমি মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আমিনুর রহমানের সই করা পত্রের মাধ্যমে এ বিষয়ে যথাযথ কার্যক্রম গ্রহণ করে ভূমি মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠানোর জন্য কক্সবাজারের জেলা প্রশাসককে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব একাডেমি অব পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন স্থাপনে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে বন্দোবস্তকৃত কক্সবাজার জেলার সদর উপজেলার ঝিলংজা মৌজার বিএস-১ নম্বর খতিয়ানভুক্ত বিএস-২৫০০১ নম্বর দাগের ‘পাহাড়’ শ্রেণির ৪০০ একর ও বিএস-২৫০১০ নম্বর দাগের ‘ছড়া’ শ্রেণির ৩০০ একরসহ মোট ৭০০ একর জমি রক্ষিত বনের গেজেটভুক্ত হওয়ায় উক্ত বন্দোবস্ত এতদ্বারা নির্দেশক্রমে বাতিল করা হয়েছে।
এর আগে এ বিষয়ে গত ২৯ অগাস্ট একটি আধা-সরকারি পত্র প্রেরণ করেছিলেন পরিবেশ উপদেষ্টা। সে সময় উপদেষ্টার পাঠানো ওই আধা-সরকারি পত্রে বলা হয়, বন্দোবস্তকৃত এলাকা ১৯৩৫ সাল থেকে বন আইন ১৯২৭ এর ২৯ ধারার আওতায় রক্ষিত বন হিসেবে ঘোষিত। এই ২১৪৫ দশমিক ২ একর ভূমির অংশে গর্জন, চাপালিশ, তেলসুরসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা ছাড়াও হাতি, বানর, বন্য শুকরসহ বিভিন্ন প্রাণীর আবাসস্থল রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ২০১১-১২ ও ২০১২-১৩ সালে এই বনভূমিতে বনায়ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
অন্যদিকে রেকর্ডে ‘রক্ষিত বনের’ বিষয়টি উল্লেখ না থাকায় এ বিষয়ে মামলা করে বন বিভাগ। পাশাপাশি ভূমির বন্দোবস্ত বাতিল চেয়ে একটি রিট মামলাও হাইকোর্টে দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে হাইকোর্ট বিভাগ এ বন্দোবস্তের বিষয়ে স্থগিতাদেশ দেন, যা আপিল বিভাগেও বহাল রয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালে ঝিলংজা ইউনিয়নকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করে বনভূমির গাছ কাটাসহ প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন নিষিদ্ধ করা হয়। বরাদ্দ করা ৭০০ একর রক্ষিত বনও এই সংকটাপন্ন এলাকার অন্তর্ভুক্ত।
ডেস্ক রিপোর্ট 




















