সংবাদ শিরোনাম ::

দূষণ কমাতে বহুজাতিক শেল কোম্পানিকে বাধ্য করার আদেশ প্রত্যাখ্যান

দূষণ কমাতে বহুজাতিক শেল কোম্পানিকে বাধ্য করার আদেশ প্রত্যাখ্যান

শেল হল আয়ের দিক থেকে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিনিয়োগকারী-মালিকানাধীন তেল এবং গ্যাস কোম্পানি। এই কোম্পানির প্রধান কার্যালয় নেদারল্যান্ডে অবস্থিত। মূলত চুরি, নাশকতা ও পরিচালনজনিত বিভিন্ন সমস্যার কারণে তেল ছড়িয়ে পড়ছে। এর ফলে বছর বছর শেলের ব্যয় যেমন বাড়ছে, তেমনি পরিবেশ আইনের আওতায় করা অনেক মামলার মুখেও পড়তে হয়েছে। এবার ডাচ আদালত বহুজাতিক শেল কোম্পানির বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় প্রদান করেছে। যা ২০২১ সালের একটি আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছিল। ১২ নভেম্বর ২০২৪-এ, হেগ শহরের আদালত শেলের উপর ২০৩০ সালের মধ্যে তার গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ ৪৫% কমানোর আদেশ বাতিল করেছে।

শেল কোম্পানি ২০২১ সালে আদেশ হওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছিল। যেখানে কোম্পানিকে ২০১৯ সালের স্তরের তুলনায় ২০৩০ সালের মধ্যে ৪৫% কার্বন গ্যাস (CO2) নিঃসরণ কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এই রায়ে শেলের নিজস্ব কার্যক্রম এবং বিক্রিত পণ্যগুলির কারণে নিঃসৃত গ্যাসের (স্কোপ ১, ২ এবং ৩) বিষয়ে কথা বলা হয়েছিল। আদালত নিশ্চিত করেছে যে শেলকে CO2 নিঃসরণ কমাতে হবে এবং এটি সুনির্দিষ্টভাবে কতটুকু কমানো উচিত সে বিষয়ে বৈজ্ঞানিক পরিসরে কোনও সমঝোতা নেই, তাই আগের রায় বাতিল করা হয়েছে।

দূষণ কমাতে বহুজাতিক শেল কোম্পানিকে বাধ্য করার আদেশ প্রত্যাখ্যান prokritibarta

আদালত বলেছে, শেল ইতিমধ্যেই তার নিজস্ব কার্যক্রম থেকে নির্গত গ্যাসের (স্কোপ ১ ও ২) পরিমাণ কমানোর জন্য কাজ করছে। তবে তার পণ্য ব্যবহারের ফলে উদ্ভূত গ্যাসের (স্কোপ ৩) পরিমাণ কমানো শেলের জন্য কার্যকরী হবে না, এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। শেলের সিইও ওয়েল সাওয়ান এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, “এই রায় বৈশ্বিক শক্তির পরিবর্তন, নেদারল্যান্ডস এবং আমাদের কোম্পানির জন্য সঠিক।”

অপরদিকে,পরিবেশবাদী সংগঠন ফ্রেন্ডস অফ দ্য আর্থ নেদারল্যান্ডস রায়ের বিরুদ্ধে হতাশা প্রকাশ করেছে। সংগঠনটির পরিচালক ডোনাল্ড পোলস বলেন, “এটি অত্যন্ত কষ্টকর তবে এই মামলা নিশ্চিত করেছে যে বড় দূষণকারীরা অযাচিত নয় এবং এটি তাদের দায়বদ্ধতার প্রশ্নে আরও আলোচনা সৃষ্টি করেছে।”  সংগঠনটি জানিয়েছে, তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করবে কিনা সে বিষয়ে এখনো সিধান্ত নেয়নি।

উল্লেখ্য, রায়টি শেলের জন্য একটি বড় স্বস্তি হলেও, পরিবেশ রক্ষায় বড় কোম্পানির দায়বদ্ধতার প্রশ্নটি এখনো আলোচনায় রয়েছে। বড় বড় পরিবেশ দূষনকারীদের বিরুদ্ধে আরও কার্যকরী পদক্ষেপের দাবি উঠছে।

তথ্যসূত্র : সিএনএন

বিপন্ন হাওরের রূপালী প্রাণ: রিং জালের গ্রাসে বিপন্ন দেশীয় মাছ ও জীববৈচিত্র্য

দূষণ কমাতে বহুজাতিক শেল কোম্পানিকে বাধ্য করার আদেশ প্রত্যাখ্যান

আপডেট সময় ১২:২৭:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৪

শেল হল আয়ের দিক থেকে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিনিয়োগকারী-মালিকানাধীন তেল এবং গ্যাস কোম্পানি। এই কোম্পানির প্রধান কার্যালয় নেদারল্যান্ডে অবস্থিত। মূলত চুরি, নাশকতা ও পরিচালনজনিত বিভিন্ন সমস্যার কারণে তেল ছড়িয়ে পড়ছে। এর ফলে বছর বছর শেলের ব্যয় যেমন বাড়ছে, তেমনি পরিবেশ আইনের আওতায় করা অনেক মামলার মুখেও পড়তে হয়েছে। এবার ডাচ আদালত বহুজাতিক শেল কোম্পানির বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় প্রদান করেছে। যা ২০২১ সালের একটি আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছিল। ১২ নভেম্বর ২০২৪-এ, হেগ শহরের আদালত শেলের উপর ২০৩০ সালের মধ্যে তার গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ ৪৫% কমানোর আদেশ বাতিল করেছে।

শেল কোম্পানি ২০২১ সালে আদেশ হওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছিল। যেখানে কোম্পানিকে ২০১৯ সালের স্তরের তুলনায় ২০৩০ সালের মধ্যে ৪৫% কার্বন গ্যাস (CO2) নিঃসরণ কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এই রায়ে শেলের নিজস্ব কার্যক্রম এবং বিক্রিত পণ্যগুলির কারণে নিঃসৃত গ্যাসের (স্কোপ ১, ২ এবং ৩) বিষয়ে কথা বলা হয়েছিল। আদালত নিশ্চিত করেছে যে শেলকে CO2 নিঃসরণ কমাতে হবে এবং এটি সুনির্দিষ্টভাবে কতটুকু কমানো উচিত সে বিষয়ে বৈজ্ঞানিক পরিসরে কোনও সমঝোতা নেই, তাই আগের রায় বাতিল করা হয়েছে।

দূষণ কমাতে বহুজাতিক শেল কোম্পানিকে বাধ্য করার আদেশ প্রত্যাখ্যান prokritibarta

আদালত বলেছে, শেল ইতিমধ্যেই তার নিজস্ব কার্যক্রম থেকে নির্গত গ্যাসের (স্কোপ ১ ও ২) পরিমাণ কমানোর জন্য কাজ করছে। তবে তার পণ্য ব্যবহারের ফলে উদ্ভূত গ্যাসের (স্কোপ ৩) পরিমাণ কমানো শেলের জন্য কার্যকরী হবে না, এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। শেলের সিইও ওয়েল সাওয়ান এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, “এই রায় বৈশ্বিক শক্তির পরিবর্তন, নেদারল্যান্ডস এবং আমাদের কোম্পানির জন্য সঠিক।”

অপরদিকে,পরিবেশবাদী সংগঠন ফ্রেন্ডস অফ দ্য আর্থ নেদারল্যান্ডস রায়ের বিরুদ্ধে হতাশা প্রকাশ করেছে। সংগঠনটির পরিচালক ডোনাল্ড পোলস বলেন, “এটি অত্যন্ত কষ্টকর তবে এই মামলা নিশ্চিত করেছে যে বড় দূষণকারীরা অযাচিত নয় এবং এটি তাদের দায়বদ্ধতার প্রশ্নে আরও আলোচনা সৃষ্টি করেছে।”  সংগঠনটি জানিয়েছে, তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করবে কিনা সে বিষয়ে এখনো সিধান্ত নেয়নি।

উল্লেখ্য, রায়টি শেলের জন্য একটি বড় স্বস্তি হলেও, পরিবেশ রক্ষায় বড় কোম্পানির দায়বদ্ধতার প্রশ্নটি এখনো আলোচনায় রয়েছে। বড় বড় পরিবেশ দূষনকারীদের বিরুদ্ধে আরও কার্যকরী পদক্ষেপের দাবি উঠছে।

তথ্যসূত্র : সিএনএন