সাইবেরিয়ার উত্তরাঞ্চলের ইউমাল উপদ্বীপের পারমাফ্রস্টে এক দশক আগেও প্রথম রহস্যজনক গর্তের উদ্ভব হয়েছিল। এই গর্তটি কয়েকশ ফুট প্রশস্ত ছিল এবং গভীরে একটি অন্ধকার গহ্বর সৃষ্টি হয়েছিল। গর্তটি এমনভাবে বিস্ফোরিত হয়েছিল যে এটি পরিবেশে বিশাল মাটি এবং বরফের টুকরো ছড়িয়ে পড়ে। ২০১৪ সাল থেকে ২০টিরও বেশি এমন বিস্ফোরক গর্ত দেখা গেছে, যার মধ্যে এটি সবচেয়ে বড়। সাম্প্রতিকটি গত আগস্টে আবিষ্কৃত হয়েছিল। বিজ্ঞানীরা বলছে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এটি ঘটেছে।
বিস্ফোরিত গর্তগুলো বিজ্ঞানীদের জন্য এক রহস্য ছিল। তারা বছরের পর বছর ধরে এর কারণ অনুসন্ধান করেছে। অনেক তত্ত্ব-উপাত্ত্ব উঠে এসেছে। যার মধ্যে ছিল রোমাঞ্চকর বিষয় উল্কাপিণ্ডের আঘাত। অনেকের ধারণা এলিয়েনদের উপস্থিতি। তবে এখন নতুন গবেষণায় বিজ্ঞানীরা এই বিস্ফোরণের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। গবেষকরা বলেছেন যে এই বিস্ফোরণগুলি মূলত মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঘটেছে। সাইবেরিয়ার বিশেষ ভূতাত্ত্বিক গঠন থেকে উদ্ভূত হয়েছে। মুলত সাইবেরিয়ার এই অংশে গর্তগুলি সৃষ্টির জন্য মিথেন গ্যাস জমে থাকে। ভূগর্ভস্থ চাপের কারণে মাটি ও বরফের মধ্যে ফাটল দেখা দেয়। এর ফলে বিস্ফোরণ ঘটে। গবেষকরা বলছেন, এই গর্তগুলো তখনই তৈরি হয় যখন মাটির নিচে থাকা গ্যাসের চাপ অতিরিক্ত হয়ে ওঠে। এতে মাটির উপরের স্তরকে ভেদ করে বিস্ফোরণ ঘটায়।

এখন বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন যে, সাইবেরিয়ার এই বিশেষ অঞ্চলটির ভূতাত্ত্বিক গঠন জটিল। পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়ার কারণে মিথেনের চুল্লির নিচে জমে থাকা পানি এবং গ্যাসের চাপ বৃদ্ধি পায়, যা এক সময় বিস্ফোরণের কারণ হয়। এই প্রক্রিয়াটি বহু বছর ধরে চলতে থাকে। এটি এক ধরনের সময়কাল হতে পারে যেটি ক্রমাগত জলবায়ু পরিবর্তন এবং ভূগর্ভস্থ অস্থিরতার সাথে সম্পর্কিত। তবে, এই গবেষণার বিষয়ে অনেক বিজ্ঞানী একমত নন। মস্কোর স্কলকোভো ইনস্টিটিউটের গবেষক ইভজেনি চুভিলিন বলেন, যদিও এই গবেষণার তত্ত্বটি নতুন। তবুও এটি সাইবেরিয়ার ভূতাত্ত্বিক গঠনের সাথে পুরোপুরি মেলে না। তিনি বলেন, পারমাফ্রস্টের বিশেষ গঠন এবং এতে থাকা মিথেনের জন্য এই প্রক্রিয়া বুঝতে অনেক গভীর গবেষণা প্রয়োজন।
সাম্প্রতিক গবেষণায় বলা হয়েছে যে, গর্তগুলি সৃষ্টির সাথে তাপমাত্রার পরিবর্তন সম্পর্কিত। এই বিস্ফোরণগুলি আগামী দিনে আরও হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পারমাফ্রস্টের গলন এবং গ্যাসের চাপ বৃদ্ধি হওয়ার ফলে এই বিস্ফোরণের হার বাড়তে পারে। এর ফলে আরও আশ্চর্যজনক গর্ত সৃষ্টি হতে পারে। অতএব, সাইবেরিয়ার এই বিস্ফোরণগুলো শুধু একটি ভূতাত্ত্বিক রহস্য নয়, বরং একটি সংকেত যে আমাদের পৃথিবী দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। এমন রহস্য আসলে আমাদের গ্রহে জলবায়ু পরিবর্তনের গভীর প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।
তথ্যসূত্র : সিএনএন
ডেস্ক রিপোর্ট 










