নানা প্রত্যাশা, প্রাপ্তি, প্রতিশ্রুতিতে প্রতিবছর আয়োজিত হচ্ছে জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন “কনফারেন্স অব দ্য পার্টিস” বা কপ। এসব সম্মেলনে প্রতিশ্রুতির তালিকা লম্বা হলেও বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন। ২০২৩ সালে কপ২৮-এ দেশগুলোর প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও, ২০২৪ সালে কয়লা, তেল ও গ্যাসের ব্যবহার বেড়েছে। বিশেষ করে চীন ও ভারতের কার্বন নিঃসরণ ২ ও ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অথচ বৈশ্বিক উষ্ণতা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে ২০৩০ সালের মধ্যে নিঃসরণ ৪৩ শতাংশ কমানো প্রয়োজন। এমন পরিস্থিতিতে নিজের ‘থ্রি জিরো’ সমাধান তুলে ধরে কপ ২৯ এ ভিন্নরকম জীবনধারা গড়ার আহ্বান জানিয়ে ভাষণ দিয়েছেন বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
সহজ কথায় ড.ইউনূস থ্রি-জির বলতে বোঝান- শূন্য দারিদ্র, শূন্য বেকারত্ব এবং শূন্য নেট কার্বন নিঃসরণ। পৃথিবীর অস্তিত্বের প্রশ্নে এই তিন শূন্য বাস্তবায়নে বিশ্ববাসী বিশেষ করে তরুণদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন নোবেলজয়ী এই ব্যক্তিত্ব। জোর দিয়েছেন ভোগবাদী জীবনধারা থেকে সরে এসে নতুন এক সভ্যতা গড়ার।
ড.ইউনূসের থ্রি জিরো তত্ত্বের উপযোগীতা ও কার্যক্রমকে স্বাগত জানিয়েছেন প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু। প্রধান উপদেষ্টার ভাষণের পর বাকুর সম্মেলনস্থল থেকে জানানো প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন নিশ্চিতে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।’

সম্মেলনের তৃতীয় দিনে কয়েকটি বড় সিদ্ধান্তও আশা জাগাচ্ছে বলে জানান প্রকৃতিবন্ধু মুকিত মজুদার, তিনি বলেন, ‘ ২৫ টি দেশ উচ্চাভিলাষী এবং দ্রুততম সময়ে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় একমত হয়েছে, কারণ আমরা যেভাবে অগ্রসর হচ্ছি তাতে সময়ক্ষেপণ হচ্ছে। সবচেয়ে আশা জাগানো কথা হচ্ছে, পেট্রোলিয়াম উৎপাদনকারী জোট ওপেক বলেছে তারা তেল উৎপাদন আরও কমিয়ে আনবে, যদিও আজারবাইজান এতে একমত কিনা সেটা এখনও জানা যায়নি। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে আশাবাদী যে, আমরাতো চাই জীবাশ্ম জ্বালানি উৎপাদন ও ব্যবহার কমে আসুক।’
তবে প্রস্তাবণা, আলোচনা আর প্রতিশ্রুতির বিপরীতে কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতি জানান দিচ্ছে, অনিশ্চিত ভবিষ্যতের। যুক্তরাজ্যের এক্সটার বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশ্বের বিভিন্ন জলবায়ু গবেষণা ও পর্যবেক্ষণ প্রতিষ্ঠানের তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে প্রস্তুত এক প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, গত ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিশ্বে মোট নিঃসৃত হয়েছিল ৪০ হাজার ৬০০ কোটি টন কার্বন-ডাই অক্সাইড। এর অর্থ, ২০২৩ সালে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে মিশেছে এই পরিমাণ বাড়তি কার্বন-ডাই অক্সাইড।
তবে চলতি বছর নভেম্বর শেষ হওয়ার আগেই মধ্যেই এই রেকর্ড অতিক্রম হয়ে গেছে। গ্লোবাল কার্বন বাজেট রিপোর্টের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর নাগাদ বিশ্বে নিঃসৃত কার্বন-ডাই অক্সাইডের পরিমাণ পৌঁছাবে ৪১ হাজার ৬০০ কোটি টন। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় এ বছর বায়ুমণ্ডলে যোগ হওয়া অতিরিক্ত কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ বাড়বে ১ হাজার কোটি টন।
এই বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃসরণের প্রধান কারণ তিনটি। এগুলো হলো কয়লা, জ্বালানি তেল এবং গ্যাসের মতো জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যাপক ব্যাবহার, দাবানল এবং গাছপালা কর্তন ও বনজঙ্গল ধ্বংস করা।
আধুনিকতা কিংবা উত্তরাধুনিকতা, চলমান শতাব্দীকে যে নামেই আখ্যায়িত করা হোক না কেনো, বাস্তবতা বলছে হুমকিতে পুরো মানব সভ্যতা। তাই ভবিষ্যতের নিরাপদ আবাস নিশ্চিতে প্রয়োজন ভিন্ন জীবনাচার ও সভ্যতা।
(বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনে ধুঁকতে থাকা বিশ্বকে আশার বার্তা দিতে শুরু হয়েছে এবছরের জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন কপ ২৯। আজারবাইজানের বাকুতে ১১ থেকে ২২ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে এই সম্মেলন। জলবায়ু পরিবর্তন রোধের বৈশ্বিক প্রচেষ্টার এই সম্মেলনে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও চ্যানেল আইয়ের পরিচালক মুকিত মজুমদার বাবুর নেতৃত্বে অংশ নিচ্ছেন ফাউন্ডেশনের এনভায়রনমেন্ট মিডিয়া কনটেন্ট স্পেশালিস্ট শাফরিনা খাতুন , সিনিয়র ক্যামেরাপার্সন বিল্লাল হাওলাদার, চ্যানেল আইয়ের বিশেষ প্রতিনিধি আলীম আল রাজি ।
কপ ২৯ সম্মেলনস্থল বাকু,আজারবাইজান থেকে প্রতিদিনের সংবাদ পাঠাচ্ছেন তারা। প্রতিবেদনগুলো নিয়মিত প্রকাশ করছে প্রকৃতিবার্তা অনলাইন।)
প্রকৃতি ও জীবন 




















