প্লাস্টিক বর্জ্য দিলেই মিলছে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য

প্লাস্টিক বর্জ্য দিলেই মিলছে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য

সৈকতের বিভিন্ন জায়গা থেকে কুড়িয়ে প্লাটিক বর্জ্য নিয়ে সৈকত সুপারশপে জমা দেয়। বিনিময়ে মিলছে পছন্দের চাল, ডাল, তেল ডিমসহ অনেক পণ্য। এটা নিম্নবিত্ত পরিবারের জন্য অনেক বড় উপকার। প্লাস্টিক বর্জ্য দিন,বাজার নিন, এই প্লাস্টিকেই খেয়ে ফেলবে আমাদের ভবিষ্যৎ, সবাই মিলে প্লাস্টিক দূষণ রোধ করি সুন্দর দেশ গড়ি। প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহার ও রিসাইক্লিং করে পরিবেশ বাঁচাই” এমন সব শ্লোগান নিয়ে প্লাস্টিক বিনিময় বাজার চালু হয়েছে। কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতে প্লাস্টিক দূষণ কমাতে অসহায় মানুষদের সহায়তা দিতে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে।

চার মাসের জন্য একটি সুপারশপ বসানো হয়েছে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে। প্লাস্টিক বর্জ্য দিয়ে প্রায় ১৯টি পণ্য থেকে পছন্দমতো পণ্য কেনার সুযোগ রয়েছে। গবেষকদের মতে, প্লাস্টিক বর্জ্য শুধু পরিবেশ দূষণ করে না, এটি জনস্বাস্থ্যের জন্যও মারাত্নক হুমকি সৃষ্টি করে। বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদানে তৈরি প্লাস্টিক একসময় খাদ্য ও পানিতে মিশে মাইক্রো প্লাস্টিকে পরিণত হয়। পরে মাছসহ জলজ প্রাণী এসব বর্জ্য খাওয়ার ফলে খাদ্য শৃঙ্খলের মাধ্যমে মানব দেহে পৌঁছে যায়। এই মাইক্রো প্লাস্টিক মানুষের শরীরে ক্যান্সার, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, বন্ধ্যাত্ব ও অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে সৈকতে ময়লা আবর্জনা ও প্লাস্টিক বর্জ্য জোয়ারের পানিতে মিশে যাওয়ায় ব্লু-ইকোনমি বা সমুদ্র অর্থনীতিও হুমকির মুখে পড়ছে।

প্লাস্টিক বর্জ্য দিলেই মিলছে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য prokritibarta

সমুদ্র সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে একটি সুপারশপ বসানো হযেছে নানা রকমের নিত্যপ্রযোজনীয় পণ্য নিয়ে। কমবেশি সকলের হাতেই প্লাস্টিকের বোতল থাকে। প্রতিদিন সকাল থেকেই বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যবহৃত প্লাস্টিক পণ্য কুড়িয়ে বস্তাভর্তি করে নিয়ে এসে সুপারশপে জমা দিচ্ছে পর্যটক থেকে শুরু করে স্থানীয় নিম্ন আয়ের মানুষ। “প্লাস্টিক বিনিময় বাজার”নামের সুপারশপে এসব প্লাস্টিক জমা দিয়ে কেউ নিচ্ছেন টি–শার্ট, কেউ নিচ্ছেন নানা উপহার। আবার  কেউ নিত্যপণ্য বাজার নিচ্ছেন। এসব প্লাস্টিক পণ্য সৈকত থেকে কুড়িয়ে, কেউ ঘরে জমানো প্লাস্টিক নিয়ে স্বল্পমূল্যে বিক্রি করতেন ভাঙারি ব্যবসায়ীদের কাছে। এখন তারা বিক্রি করছেন বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের এই ব্যতিক্রমী স্টলে।

বাজারে ১ কেজি প্লাস্টিকের দাম ৩০ টাকা হলেও সেখানে বিক্রি করা হয় ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। এতে ১ কেজি প্লাস্টিক দিয়ে ১ কেজি চাল কিংবা ৬টি ডিম পাওয়া যাচ্ছে। তাছাড়া প্রায় ১৯টি পণ্য থেকে নিজেরাই তাদের পছন্দের পণ্য নিচ্ছে ক্রেতারা। অনেকে প্লস্টিকের বোতল জমা দিয়ে পর্যটকরা বিভিন্ন উপহার জিতে নিচ্ছেন। প্লাস্টিকের বিনিময়ে পণ্য কিনতে পেরে খুশি তারা। এই উদ্যোগটি স্থানীয় মানুষের মধ্যে প্লাস্টিক দূষণ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করছে। সেইসাথে দারিদ্র জনগোষ্ঠীর আর্থিক সহায়তা হিসেবে কাজ করছে।

প্লাস্টিক বর্জ্য দিলেই মিলছে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য prokritibarta

পর্যটকরা সৈকতে এসে প্লাস্টিক জমা দিয়ে টি-শার্টের মতো উপহার পেয়ে নতুন অভিজ্ঞতা পাচ্ছেন। এটি যেমন পর্যটকদের জন্য আনন্দদায়ক, তেমনই সৈকতের পরিবেশকে পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করছে। এই সৈকতকে সম্পূর্ণ দূষণমুক্ত রাখতে হলে সচেতনতা ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার বিকল্প নেই। প্লাস্টিক কুড়িয়ে বিক্রি করা অসহায় মানুষের জন্য কাজের সুযোগ হয়েছে। প্রতিদিন সকাল থেকে প্লাস্টিক কুড়াতে বের হয় সাধারণ মানুষ। সেগুলো জমা দিয়ে অনেক নিত্য পণ্য পায়।

বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবী রানা আহমেদ বলেন, সৈকতের বিভিন্ন স্থানে প্লাস্টিকসহ বর্জ্য ফেলার ফলে প্রতিনিয়ত পরিবেশের সৌন্দর্য হানি ঘটছে। এসব বর্জ্য পরিষ্কারের পাশাপাশি জনসচেতনতা সৃষ্টি হচ্ছে। তাছাড়া প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দিলেই সবার হাতে উপহার বা বাজার সামগ্রী তুলে দেওয়া হচ্ছে। জনসচেতনতা ও বসবাসযোগ্য সুন্দর পরিবেশ তৈরিতে সবাইকে উৎসাহিত করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাই মানুষকে সম্পৃক্ত করতেই আমরা সারাদেশে প্লাস্টিক এক্সেঞ্জ স্টোর চালু করছি। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বলেন, একবিংশ শতাব্দীতে আমাদের অস্তিত্বের হুমকি হচ্ছে প্লাস্টিক। এই পৃথিবীকে সম্পূর্ণ দূষণমুক্ত ও বাসযোগ্য রাখতে হলে সচেতনতা ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি আমাদের সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার বিকল্প নেই। এই উদ্যোগটি শুধু পরিবেশের জন্যই নয়, স্থানীয় দরিদ্র মানুষের জন্যও সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। উল্লেখ্য,বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন একটি বাংলাদেশি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। সংগঠনটি পথশিশু, সুবিধাবঞ্চিত দরিদ্র ও অসচ্ছল শিশুদের মৌলিক শিক্ষা, আহার, চিকিৎসা এবং আইনি সেবা দিয়ে যাচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সারাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত

প্লাস্টিক বর্জ্য দিলেই মিলছে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য

আপডেট সময় ০৬:২৮:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৪

সৈকতের বিভিন্ন জায়গা থেকে কুড়িয়ে প্লাটিক বর্জ্য নিয়ে সৈকত সুপারশপে জমা দেয়। বিনিময়ে মিলছে পছন্দের চাল, ডাল, তেল ডিমসহ অনেক পণ্য। এটা নিম্নবিত্ত পরিবারের জন্য অনেক বড় উপকার। প্লাস্টিক বর্জ্য দিন,বাজার নিন, এই প্লাস্টিকেই খেয়ে ফেলবে আমাদের ভবিষ্যৎ, সবাই মিলে প্লাস্টিক দূষণ রোধ করি সুন্দর দেশ গড়ি। প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহার ও রিসাইক্লিং করে পরিবেশ বাঁচাই” এমন সব শ্লোগান নিয়ে প্লাস্টিক বিনিময় বাজার চালু হয়েছে। কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতে প্লাস্টিক দূষণ কমাতে অসহায় মানুষদের সহায়তা দিতে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে।

চার মাসের জন্য একটি সুপারশপ বসানো হয়েছে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে। প্লাস্টিক বর্জ্য দিয়ে প্রায় ১৯টি পণ্য থেকে পছন্দমতো পণ্য কেনার সুযোগ রয়েছে। গবেষকদের মতে, প্লাস্টিক বর্জ্য শুধু পরিবেশ দূষণ করে না, এটি জনস্বাস্থ্যের জন্যও মারাত্নক হুমকি সৃষ্টি করে। বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদানে তৈরি প্লাস্টিক একসময় খাদ্য ও পানিতে মিশে মাইক্রো প্লাস্টিকে পরিণত হয়। পরে মাছসহ জলজ প্রাণী এসব বর্জ্য খাওয়ার ফলে খাদ্য শৃঙ্খলের মাধ্যমে মানব দেহে পৌঁছে যায়। এই মাইক্রো প্লাস্টিক মানুষের শরীরে ক্যান্সার, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, বন্ধ্যাত্ব ও অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে সৈকতে ময়লা আবর্জনা ও প্লাস্টিক বর্জ্য জোয়ারের পানিতে মিশে যাওয়ায় ব্লু-ইকোনমি বা সমুদ্র অর্থনীতিও হুমকির মুখে পড়ছে।

প্লাস্টিক বর্জ্য দিলেই মিলছে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য prokritibarta

সমুদ্র সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে একটি সুপারশপ বসানো হযেছে নানা রকমের নিত্যপ্রযোজনীয় পণ্য নিয়ে। কমবেশি সকলের হাতেই প্লাস্টিকের বোতল থাকে। প্রতিদিন সকাল থেকেই বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যবহৃত প্লাস্টিক পণ্য কুড়িয়ে বস্তাভর্তি করে নিয়ে এসে সুপারশপে জমা দিচ্ছে পর্যটক থেকে শুরু করে স্থানীয় নিম্ন আয়ের মানুষ। “প্লাস্টিক বিনিময় বাজার”নামের সুপারশপে এসব প্লাস্টিক জমা দিয়ে কেউ নিচ্ছেন টি–শার্ট, কেউ নিচ্ছেন নানা উপহার। আবার  কেউ নিত্যপণ্য বাজার নিচ্ছেন। এসব প্লাস্টিক পণ্য সৈকত থেকে কুড়িয়ে, কেউ ঘরে জমানো প্লাস্টিক নিয়ে স্বল্পমূল্যে বিক্রি করতেন ভাঙারি ব্যবসায়ীদের কাছে। এখন তারা বিক্রি করছেন বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের এই ব্যতিক্রমী স্টলে।

বাজারে ১ কেজি প্লাস্টিকের দাম ৩০ টাকা হলেও সেখানে বিক্রি করা হয় ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। এতে ১ কেজি প্লাস্টিক দিয়ে ১ কেজি চাল কিংবা ৬টি ডিম পাওয়া যাচ্ছে। তাছাড়া প্রায় ১৯টি পণ্য থেকে নিজেরাই তাদের পছন্দের পণ্য নিচ্ছে ক্রেতারা। অনেকে প্লস্টিকের বোতল জমা দিয়ে পর্যটকরা বিভিন্ন উপহার জিতে নিচ্ছেন। প্লাস্টিকের বিনিময়ে পণ্য কিনতে পেরে খুশি তারা। এই উদ্যোগটি স্থানীয় মানুষের মধ্যে প্লাস্টিক দূষণ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করছে। সেইসাথে দারিদ্র জনগোষ্ঠীর আর্থিক সহায়তা হিসেবে কাজ করছে।

প্লাস্টিক বর্জ্য দিলেই মিলছে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য prokritibarta

পর্যটকরা সৈকতে এসে প্লাস্টিক জমা দিয়ে টি-শার্টের মতো উপহার পেয়ে নতুন অভিজ্ঞতা পাচ্ছেন। এটি যেমন পর্যটকদের জন্য আনন্দদায়ক, তেমনই সৈকতের পরিবেশকে পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করছে। এই সৈকতকে সম্পূর্ণ দূষণমুক্ত রাখতে হলে সচেতনতা ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার বিকল্প নেই। প্লাস্টিক কুড়িয়ে বিক্রি করা অসহায় মানুষের জন্য কাজের সুযোগ হয়েছে। প্রতিদিন সকাল থেকে প্লাস্টিক কুড়াতে বের হয় সাধারণ মানুষ। সেগুলো জমা দিয়ে অনেক নিত্য পণ্য পায়।

বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবী রানা আহমেদ বলেন, সৈকতের বিভিন্ন স্থানে প্লাস্টিকসহ বর্জ্য ফেলার ফলে প্রতিনিয়ত পরিবেশের সৌন্দর্য হানি ঘটছে। এসব বর্জ্য পরিষ্কারের পাশাপাশি জনসচেতনতা সৃষ্টি হচ্ছে। তাছাড়া প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দিলেই সবার হাতে উপহার বা বাজার সামগ্রী তুলে দেওয়া হচ্ছে। জনসচেতনতা ও বসবাসযোগ্য সুন্দর পরিবেশ তৈরিতে সবাইকে উৎসাহিত করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাই মানুষকে সম্পৃক্ত করতেই আমরা সারাদেশে প্লাস্টিক এক্সেঞ্জ স্টোর চালু করছি। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বলেন, একবিংশ শতাব্দীতে আমাদের অস্তিত্বের হুমকি হচ্ছে প্লাস্টিক। এই পৃথিবীকে সম্পূর্ণ দূষণমুক্ত ও বাসযোগ্য রাখতে হলে সচেতনতা ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি আমাদের সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার বিকল্প নেই। এই উদ্যোগটি শুধু পরিবেশের জন্যই নয়, স্থানীয় দরিদ্র মানুষের জন্যও সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। উল্লেখ্য,বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন একটি বাংলাদেশি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। সংগঠনটি পথশিশু, সুবিধাবঞ্চিত দরিদ্র ও অসচ্ছল শিশুদের মৌলিক শিক্ষা, আহার, চিকিৎসা এবং আইনি সেবা দিয়ে যাচ্ছে।