বিশ্বের বেশিরভাগ দেশে শীতকাল চলে এসেছে। এরই মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে রেকর্ড পরিমাণ তুষারপাত হয়েছে। ১১৭ বছরের মধ্যে এবারই প্রথম নভেম্বরে সবচেয়ে বেশি তুষারপাত হয়েছে সিউলে। ১৯০৭ সালে দেশটিতে তুষারপাতের রেকর্ড রাখা শুরু হওয়ার পর এটিই সবচেয়ে ভারি তুষারপাতের ঘটনা। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, বুধবার সিউলে বরফ পড়েছে ১৬ দশমিক ৫ সেন্টিমিটার।

ব্যাপক তুষারপাতে বেড়েছে জনদুর্ভোগ। বাতিল ও স্থগিত হয়েছে শতাধিক বিমান ও ফেরি চলাচল। এরইমধ্যে ৪ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।

দেশটির আবহাওয়া বিভাগের তথ্য মতে, দক্ষিণ কোরিয়ায় তুষারপাত রেকর্ড করা হচ্ছে ১৯০৭ সাল থেকে। তবে, সিউলে বুধবারের তুষারপাত ইতিহাসের সর্বোচ্চ। এইদিন তুষারপাতের পরিমাণ ১৬ দশমিক ৫ সেন্টিমিটার রেকর্ড করা হয়। যা দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এর আগে, ১৯৭২ সালের ২৮ নভেম্বর সিউলে সর্বোচ্চ ১২ দশমিক ৪ সেন্টিমিটার তুষারপাত রেকর্ড করা হয়।

সিউলের এক বাসিন্দা জানান, প্রথমবারের মতো এত ভারী তুষারপাত দেখে বিস্মিত তিনি। আজকাল আবহাওয়ার বিষয়ে পূর্বানুমান করা প্রায় অসম্ভব। মনে হয়, এমনটা হওয়ার কারণ বৈরী আবহাওয়া। কয়েকদিন আগেও গরম ছিল, এখন আবার হঠাৎ মারাত্মক ঠাণ্ডা।

আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘আজকে তুষারপাত হবে, এটা আমি শুনেছিলাম। তাই থারমালের জ্যাকেট ও গ্লাভস পরেছি। সাধারণত এসব পরতে হয় না। আমার মনে হচ্ছে আরো ভারী কাপড় পরতে হবে, এগুলো যথেষ্ট না।’

আবহাওয়া বিভাগ বলছে, দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বৃষ্টি পরিণত হচ্ছে বরফে। সেইসাথে বইছে ঠাণ্ডা বাতাস। এমন পরিস্থিতি, বাড়ছে জনদুর্ভোগ। সিউলের আবহাওয়া পূর্বাভাস বিভাগের প্রধান ইউন কি-হান বলেন, পশ্চিমা বাতাস এবং সমুদ্রপৃষ্ঠ ও ঠাণ্ডা বাতাসের মধ্যে তাপমাত্রার লক্ষ্যণীয় তারতম্যের কারণে এমন ভারি তুষারপাত ঘটেছে। ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে বাসিন্দাদের বাড়ির বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ। দেশের অধিকাংশ স্থানে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত তুষারপাত অব্যাহত থাকবে বলে পূর্বাভাস রয়েছে।
ডেস্ক রিপোর্ট 




















