সভ্যতার বিকাশের সমান্তরালে নির্বিচারে ধ্বংস হচ্ছে প্রাণ-প্রকৃতি। ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক উষ্ণতা জানান দিচ্ছে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিসহ ধ্বংসাত্মক ভবিষ্যতের। এমন বাস্তবতায় জলবায়ু অভিঘাত ও দুর্যোগে জেরবার, উপকূলীয় জনপদে ন্যায্য আবাস নিশ্চিতে হয়ে গেল দুই দিনের সম্মেলন। বাগেরহাটের মোংলায় উপকূলীয় ন্যায্য নগর বিষয়ক সম্মেলনের সমাপনীতে বক্তারা বলেছেন, টেকসই অগ্রযাত্রা নিশ্চিতে পরিবেশবান্ধব জীবনযাত্রা ও প্রযুক্তির ব্যাপক প্রসারে গুরুত্ব দিতে হবে।
এতে উঠে আসে দেশের ফুসফুসখ্যাত সুন্দরবনের বিপন্ন বাস্তুতন্ত্রের বেহাল চিত্রের পাশাপাশি আশাপাশের জনপদের পরিবেশ-প্রতিবেশ ও জীবন-জীবিকার বিরূপ প্রভাব।

সম্মেলন শেষ দিনে তাই গুরুত্বারোপ করা হয় সমন্বিত উদ্যোগ ও সচেতনতায়। প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর এ এম এম খায়রুল আনাম বলেন, ‘নিজের বাসস্থানটুকু ছাড়া আমরা আমাদের প্রকৃতি-পরিবেশের আর কিছুকে কেন যেন আমরা নিজের অর্থাৎ আপন মনে করি না, আমার বাড়ির বারান্দাটুকু পর্যন্তই যেন আমার, পাশের রাস্তাটা আমার না, সেখানে ময়লা ফেলতেই পারি। কিন্তু এই দেশ ,দেশের মাটি এবং বৃহৎ চিন্তায় পুরো পৃথিবীই আসলে আমাদের। তাই আমরা যদি দেশকে-পৃথিবীকে আপন করতে পারি, তাহলে সুন্দর একটি জীবন যাপন করতে পারবো।’
বাংলাদেশ রিভার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, ‘ প্রকৃতি কেন্দ্রিক জীবনের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। প্রকৃতিতে মানুষ এবং অন্য প্রাণীদের সমান অধিকার আছে। মানুষদের বসবাসের পাশাপাশি প্রাণীদের আবাস্থল রক্ষা করতে হবে।’
প্রাকৃতিক সম্পদের টেকসই ব্যবহার নিশ্চিতে শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণায় জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ন্যায্য তথা বাসযোগ্য আবাসস্থল বিণির্মাণে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির সময়োপযোগী ব্যবহার বৃদ্ধির বিকল্প নেই বলছেন তারা।
জলবায়ু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মনজুরুল কিবরীয়া, ‘ অধিকার সচেতন উপকূলীয় মানুষের অংশগ্রহণে উপকূলের মানুষদের জন্য ন্যায্য আবাস্থল গড়ে তোলা সম্ভব হবে। উপকূলীয় মানুষদের জীবনযাপন-কার্যক্রম বিশেষ করে অর্থনৈতিক কার্যক্রম এমনভাবে হতে হবে যাতে পরিবেশ-প্রকৃতির ক্ষতি না করে নিজেদের উপার্জন নিশ্চিত হয়।’
সম্মেলনের শেষ দিন প্রকৃতি-পরিবেশ ও নদী রক্ষায় কাজের স্বীকৃতি হিসেবে কয়েকজনকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। ‘ফ্রেন্ডস অব রিভার এওয়ার্ড ২০২৩’ পেয়েছেন মো. সৌমিক আহমেদ এবং ‘নদীর আপনজন সম্মাননা ২০২৪’ পেয়েছেন ড. মনজুরুল কিবরীয়া।

দুই দিনের এই সম্মেলনের আয়োজন করেছিল বাংলাদেশ নদী পরিব্রাজক দল, আরডিআরসি, বাংলাদেশ রিভার ফাউন্ডেশন, বেলা এবং প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনসহ ৭ টি সংগঠন।
আলীম আল রাজী 




















