সংবাদ শিরোনাম ::

কাঠবিড়ালি শুমারি: লালদের তুলনায় ধূসরদের সংখ্যা বৃদ্ধিতে উদ্বেগ

কাঠবিড়ালি শুমারি, লালদের তুলনায় ধূসরদের সংখ্যা বৃদ্ধিতে উদ্বেগ

ইংল্যান্ডে হয়ে গেল কাঠবিড়ালি শুমারি। প্রাণী সংরক্ষণ গোষ্ঠীর চালানো এই বার্ষিক শুমারিতে দেখা গেছে ইংল্যান্ডে লাল কাঠবিড়ালিদের তুলনায় ধূসর কাঠবিড়ালিদের সংখ্যা বাড়ছে। এমনকি লালদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত জায়গাগুলোতেও ধূসরদের আধিক্য দেখা যাচ্ছে। কেন লালদের হটিয়ে ধূসররা বাড়ছে এই নিয়ে জাগছে প্রশ্ন, দেখা দিচ্ছে গবেষণার তাগিদ।

মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এই কাঠবিড়ালি শুমারির তথ্যাদি উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর ইংল্যান্ডে থাকা বন-পার্কগুলোর ২৫০ টি জায়গায় জরিপ চালিয়ে দেখা গেছে সব জায়গাতেই কাঠবিড়ালি বাড়ছে। কিন্তু লালদের তুলনায় ধূসর রঙের কাঠবিড়ালির সংখ্যা বাড়ছে অস্বাভাবিকভাবে।

রেড স্কুইরেলস নর্দার্ন ইংল্যান্ড (আরএসএনই) গ্রুপ বলেছে যে এই বছর ৫২% সাইটে লাল কাঠবিড়ালি পাওয়া গেছে, যা ২০২৩ সালে ছিল সালে ৫০%। অন্যদিকে ধূসর কাঠবিড়ালিগুলি ৬৯% সাইটে পাওয়া গেছে, যা আগের বছর ছিল ৬২%।

আরএসএনই বলেছে যে ধূসর কাঠবিড়ালিদের ব্যাপক বৃদ্ধি উদ্বেগজনক। অবশ্য সংগঠনটি বলেছে জরিপটি দেখিয়েছে যে লাল কাঠবিড়ালিদের সংরক্ষণের প্রচেষ্টাও সফল হচ্ছে।

কেন ধূসর কাঠবিড়ালির সংখ্যা লাফিয়ে বাড়ছে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে চেষ্টা করেছেন প্রাণী বিশেষজ্ঞরা। আরএসএনই-এর নর্দাম্বারল্যান্ডের সভাপতি ইয়ান গ্লেনডাইনিং বলেন, ‘জলবায়ু সংকটের প্রভাব ধূসর কাঠবিড়ালির প্রজনন মৌসুমকে দীর্ঘতর করতে সাহায্য করছে। তাই লাল কাঠবিড়ালিদের তুলনায় ধূসরদের সংখ্যা কয়েক বছর ধরে লাফিয়ে বাড়ছে।’

লাল কাঠবিড়ালি একটি স্থানীয় প্রজাতি, যা বরফ যুগ থেকে যুক্তরাজ্যে রয়েছে। অপেক্ষাকৃত বৃহত্তর, আরও শক্তিশালী ধূসর কাঠবিড়ালি এই ভূখণ্ডে এসেছে মাত্র ১৫০  বছর আগে। জানা গেছে, ১৮৭৬ সালে থমাস ব্রকলেহার্স্ট নামের এক ব্যাংকার এক জোড়া ধূসর কাঠবিড়ালি চেশায়ারের কাছে হেনবারি পার্কে ছেড়েছিলেন। আমেরিকায় ভ্রমণে গিয়ে ফেরার সময় ধূসর কাঠবিড়ালির এই জোড়াটিকে তিনি পুষবেন ভেবে সঙ্গে এনেছিলেন। যা পরে পার্কে ছেড়ে দেন।

এরকম অপরিণামদর্শী অবমুক্তকরণ আরও হয়েছে। ফলে ধীরে ধীরে স্থানীয় রেড স্কুইরেল বা লাল কাঠবিড়ালির সংখ্যা কমেছে এবং সেই তুলনায় লাফিয়ে বেড়েছে ধূসরদের সংখ্যা।

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

আগামী ৫ দিন দেশজুড়ে বৃষ্টির সম্ভাবনা কম

কাঠবিড়ালি শুমারি: লালদের তুলনায় ধূসরদের সংখ্যা বৃদ্ধিতে উদ্বেগ

আপডেট সময় ০৬:১৬:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৪

ইংল্যান্ডে হয়ে গেল কাঠবিড়ালি শুমারি। প্রাণী সংরক্ষণ গোষ্ঠীর চালানো এই বার্ষিক শুমারিতে দেখা গেছে ইংল্যান্ডে লাল কাঠবিড়ালিদের তুলনায় ধূসর কাঠবিড়ালিদের সংখ্যা বাড়ছে। এমনকি লালদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত জায়গাগুলোতেও ধূসরদের আধিক্য দেখা যাচ্ছে। কেন লালদের হটিয়ে ধূসররা বাড়ছে এই নিয়ে জাগছে প্রশ্ন, দেখা দিচ্ছে গবেষণার তাগিদ।

মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এই কাঠবিড়ালি শুমারির তথ্যাদি উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর ইংল্যান্ডে থাকা বন-পার্কগুলোর ২৫০ টি জায়গায় জরিপ চালিয়ে দেখা গেছে সব জায়গাতেই কাঠবিড়ালি বাড়ছে। কিন্তু লালদের তুলনায় ধূসর রঙের কাঠবিড়ালির সংখ্যা বাড়ছে অস্বাভাবিকভাবে।

রেড স্কুইরেলস নর্দার্ন ইংল্যান্ড (আরএসএনই) গ্রুপ বলেছে যে এই বছর ৫২% সাইটে লাল কাঠবিড়ালি পাওয়া গেছে, যা ২০২৩ সালে ছিল সালে ৫০%। অন্যদিকে ধূসর কাঠবিড়ালিগুলি ৬৯% সাইটে পাওয়া গেছে, যা আগের বছর ছিল ৬২%।

আরএসএনই বলেছে যে ধূসর কাঠবিড়ালিদের ব্যাপক বৃদ্ধি উদ্বেগজনক। অবশ্য সংগঠনটি বলেছে জরিপটি দেখিয়েছে যে লাল কাঠবিড়ালিদের সংরক্ষণের প্রচেষ্টাও সফল হচ্ছে।

কেন ধূসর কাঠবিড়ালির সংখ্যা লাফিয়ে বাড়ছে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে চেষ্টা করেছেন প্রাণী বিশেষজ্ঞরা। আরএসএনই-এর নর্দাম্বারল্যান্ডের সভাপতি ইয়ান গ্লেনডাইনিং বলেন, ‘জলবায়ু সংকটের প্রভাব ধূসর কাঠবিড়ালির প্রজনন মৌসুমকে দীর্ঘতর করতে সাহায্য করছে। তাই লাল কাঠবিড়ালিদের তুলনায় ধূসরদের সংখ্যা কয়েক বছর ধরে লাফিয়ে বাড়ছে।’

লাল কাঠবিড়ালি একটি স্থানীয় প্রজাতি, যা বরফ যুগ থেকে যুক্তরাজ্যে রয়েছে। অপেক্ষাকৃত বৃহত্তর, আরও শক্তিশালী ধূসর কাঠবিড়ালি এই ভূখণ্ডে এসেছে মাত্র ১৫০  বছর আগে। জানা গেছে, ১৮৭৬ সালে থমাস ব্রকলেহার্স্ট নামের এক ব্যাংকার এক জোড়া ধূসর কাঠবিড়ালি চেশায়ারের কাছে হেনবারি পার্কে ছেড়েছিলেন। আমেরিকায় ভ্রমণে গিয়ে ফেরার সময় ধূসর কাঠবিড়ালির এই জোড়াটিকে তিনি পুষবেন ভেবে সঙ্গে এনেছিলেন। যা পরে পার্কে ছেড়ে দেন।

এরকম অপরিণামদর্শী অবমুক্তকরণ আরও হয়েছে। ফলে ধীরে ধীরে স্থানীয় রেড স্কুইরেল বা লাল কাঠবিড়ালির সংখ্যা কমেছে এবং সেই তুলনায় লাফিয়ে বেড়েছে ধূসরদের সংখ্যা।