জলবায়ু সংকটের ফলে দিন দিন তাপমাত্রা চরমে ওঠাকে কেবল বয়স্ক ও শিশুদের জন্য বিপদের মনে করা হতো। কিন্তু এই তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে ৩৫ বছরের কম বয়সীরাই সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় তাপজনিত মৃত্যুর শিকার হতে পারে, সাম্প্রতিক এক গবেষণা এই বাস্তবতাই সামনে আনছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই শঙ্কা জাগানো নতুন বাস্তবতার কথা। প্রতিবেদনে পশ্চিমা বাস্তবতার নিরিখে বলা হয়েছে: যদিও তাপপ্রবাহের সামনে বয়স্করাই বেশি সংবেদনশীল তবু এখন পর্যন্ত তাদের ঠান্ডাজনিত মৃত্যুর সংখ্যা বেশি। পৃথিবীর উত্তাপ বৃদ্ধির সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়বে তাপজনিত কারণে তরুণদের প্রাণহানির সংখ্যা, এবং সেটা এমনভাবে বাড়বে যে বয়স্কদের মৃত্যুহারকে ছাড়িয়ে যেতে পারে।
গবেষণায় আশঙ্কা উঠে এসেছে যে, এখনি গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ কমাতে না পারলে ৩৫ বছরের আশপাশের তরুণদের মৃত্যুহার ৩২ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।

মেক্সিকোতে বেশির ভাগ তরুণের মৃত্যু হচ্ছে তাপপ্রবাহজনিত কারণে। একই পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে ইউরোপ-আমেরিকায়। উইলসন বলছেন, ‘আশঙ্কা করা হচ্ছে ঠাণ্ডাজনিত কারণে বয়স্কদের মৃত্যু হার কমে আসবে, উল্টো তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে তরুণদের মৃত্যু বাড়বে।’
তাপপ্রবাহে কেন বেশি মরবে তরুণরা?
কেন অল্পবয়সী ব্যক্তিদের জন্য উচ্চতর ঝুঁকি রয়েছে তার কোনো একক উত্তর নেই। তবে গবেষকরা বলেছেন যে সম্ভবত অনেকগুলি কারণ রয়েছে- যেমন শারীরবৃত্তীয় পার্থক্য – উদাহরণস্বরূপ, শিশুদের দেহে তাপ এমনিই বেশি থাকে। তারা একা একা তাপ মুক্ত হতে পারে না। চাইলেই ঘামতে পারে না, তারা অন্যের উপর নির্ভরশীল।
তরুণদের বেলায় পেশাগত কারণে ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। যেমন কর্মক্ষম বয়সের জনসংখ্যা যারা কৃষিকাজ এবং নির্মাণ কাজে নিযুক্ত, তাদের দিনের বেলা বাইরেই কড়া রোদের নিচে পরিশ্রম করতে হয়। এই তরুণরা হিটস্ট্রোকের ঝুঁকিতে বেশি আছে ।
বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির এই সময়ে তাই তরুণদের প্রাণে বাঁচাতে খেলাধুলার সময়, কর্মঘণ্টা সংস্কার, বিরতি এবং সতর্কতা জারির ব্যবস্থা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
ডেস্ক রিপোর্ট 



















