মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে অংশ নিচ্ছেন না খালেদা জিয়া

মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে অংশ নিচ্ছেন না খালেদা জিয়া

শারীরীক অসুস্থতার কারণে বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আগামী ২১ ডিসেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সমাবেশে যোগ দিতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) সকালে দলের চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। মির্জা ফখরুল বলেন, “তিনি (খালেদা জিয়া) গত পরশু রাত থেকে অসুস্থ। চিকিৎসকদের পরামর্শে তার সমাবেশে অংশ নেওয়া বাতিল করা হয়েছে।”

এদিকে খালেদা জিয়া অসুস্থ থাকায় জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল সমাবেশ স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে। বিএনপির প্রেস উইং-এর সদস্য শায়রুল কবির খান জানিয়েছেন, বেগম খালেদা জিয়া অসুস্থ থাকায় “২১ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশ” আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তী তারিখ চুড়ান্ত হলে জানানো হবে।

২১ ডিসেম্বর বেলা দুইটায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এই সমাবেশের আয়োজন করা হচ্ছে। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো। এর অংশ হিসেবে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল ওই সমাবেশের আয়োজন করছে।

বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া সর্বশেষ ২০১৭ সালের ১২ নভেম্বর ঢাকায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দলের এক সমাবেশে ভাষণ দিয়েছিলেন। তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি।

দুর্নীতির দুই মামলায় খালেদা জিয়াকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে। দুই বছরের বেশি সময় তিনি কারাবন্দী ছিলেন। ২০২০ সালের ২৫ মার্চ সরকার নির্বাহী আদেশে তার সাজা স্থগিত করে শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি দেয়। সেই থেকে ছয় মাস পরপর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তার সাজা স্থগিত করে মুক্তির মেয়াদ বাড়াচ্ছিল সরকার।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের টানা সাড়ে ১৫ বছরের শাসনের পতন হয় গত ৫ আগস্ট। এর পরদিনই ৬ আগস্ট খালেদা জিয়াকে নির্বাহী আদেশে মুক্তি দেওয়া হয়। সেদিন তার মুক্তির ব্যাপারে বঙ্গভবন থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে তিন বাহিনীর প্রধানেরা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের বৈঠকের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

খালেদা জিয়া এক যুগ পর গত ২১ নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে সেনাকুঞ্জে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

সারাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত

মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে অংশ নিচ্ছেন না খালেদা জিয়া

আপডেট সময় ০৪:৩০:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৪
শারীরীক অসুস্থতার কারণে বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আগামী ২১ ডিসেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সমাবেশে যোগ দিতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) সকালে দলের চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। মির্জা ফখরুল বলেন, “তিনি (খালেদা জিয়া) গত পরশু রাত থেকে অসুস্থ। চিকিৎসকদের পরামর্শে তার সমাবেশে অংশ নেওয়া বাতিল করা হয়েছে।”

এদিকে খালেদা জিয়া অসুস্থ থাকায় জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল সমাবেশ স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে। বিএনপির প্রেস উইং-এর সদস্য শায়রুল কবির খান জানিয়েছেন, বেগম খালেদা জিয়া অসুস্থ থাকায় “২১ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশ” আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তী তারিখ চুড়ান্ত হলে জানানো হবে।

২১ ডিসেম্বর বেলা দুইটায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এই সমাবেশের আয়োজন করা হচ্ছে। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো। এর অংশ হিসেবে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল ওই সমাবেশের আয়োজন করছে।

বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া সর্বশেষ ২০১৭ সালের ১২ নভেম্বর ঢাকায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দলের এক সমাবেশে ভাষণ দিয়েছিলেন। তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি।

দুর্নীতির দুই মামলায় খালেদা জিয়াকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে। দুই বছরের বেশি সময় তিনি কারাবন্দী ছিলেন। ২০২০ সালের ২৫ মার্চ সরকার নির্বাহী আদেশে তার সাজা স্থগিত করে শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি দেয়। সেই থেকে ছয় মাস পরপর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তার সাজা স্থগিত করে মুক্তির মেয়াদ বাড়াচ্ছিল সরকার।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের টানা সাড়ে ১৫ বছরের শাসনের পতন হয় গত ৫ আগস্ট। এর পরদিনই ৬ আগস্ট খালেদা জিয়াকে নির্বাহী আদেশে মুক্তি দেওয়া হয়। সেদিন তার মুক্তির ব্যাপারে বঙ্গভবন থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে তিন বাহিনীর প্রধানেরা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের বৈঠকের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

খালেদা জিয়া এক যুগ পর গত ২১ নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে সেনাকুঞ্জে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন।