সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপে গ্রীষ্ম যেন তাপপ্রবাহের গ্রাসে আগ্রাসী হয়ে উঠেছে। দেশে দেশে তাপমাত্রা রেকর্ড ভাঙছে, সেই সাথে বাড়ছে তাপপ্রবাহে মৃতের সংখ্যাও।
স্পেনে গত দুই মাসে ১,১৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এসব মৃত্যুর ঘটনাগুলো ঘটেছে তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে।
বিশেষভাবে, জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে ছিল, যার কারণে এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। রয়টার্স আরও জানিয়েছে, স্পেন এই তীব্র তাপপ্রবাহের অন্যতম শিকার হয়েছে।
এসব মৃত্যুর কারণ হিসেবে বিজ্ঞানীরা মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের দিকে ইঙ্গিত করছেন, যা কিনা এই ধরনের চরম আবহাওয়ার ঘটনাগুলোকে আরও তীব্র করে তুলছে।
এদিকে এবছর ইউরোপে ১০ দিনের ভয়াবহ তাপপ্রবাহে প্রায় ২ হাজার ৩০০ মানুষ মারা গেছেন বলে জানা গেছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৫০০ জনের মৃত্যুর জন্য জলবায়ু পরিবর্তন–সংশ্লিষ্ট বিষয় জড়িত। বিজ্ঞানীদের এক প্রাথমিক গবেষণা প্রতিবেদনে এমন তথ্য ওঠে এসেছে।
ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন এবং লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনের বিজ্ঞানীরা গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন। গবেষণার অংশ হিসেবে গত ২৩ জুন থেকে ২ জুলাই পর্যন্ত ইউরোপের ১২টি শহরের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। এই সময়ে পশ্চিম ইউরোপের কোনো কোনো অংশে তীব্র তাপপ্রবাহ ছিল। স্পেনে তাপমাত্রা ছাড়িয়েছিল ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দাবানল শুরু হয়েছিল ফ্রান্সে।

এত অল্প সময়ে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রায় ১ হাজার ৫০০ মানুষের মৃত্যুর বিষয়কে উদ্বেগজনক বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা। ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের গবেষক ড. বেন ক্লার্ক বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি বেড়েছে। আর সেটাই পরিস্থিতিকে অনেক বেশি বিপজ্জনক করে তুলেছে।’
গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত শহরগুলো হলো স্পেনের বার্সেলোনা ও মাদ্রিদ, যুক্তরাজ্যের লন্ডন, ইতালির মিলান, রোম ও সাসারি, ফ্রান্সের প্যারিস, জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট, হাঙ্গেরির বুদাপেস্ট, ক্রোয়েশিয়ার জাগরেব, গ্রিসের অ্যাথেন্স এবং পর্তুগালের লিসবন। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এসব শহরের তাপমাত্রা প্রায় ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়েছিল।
গবেষকেরা প্রতিষ্ঠিত মহামারিসংক্রান্ত মডেল ও অতীতের মৃত্যুর তথ্য ব্যবহার করে মৃতের সংখ্যা অনুমান করেছেন। এই দুই হিসেবে মূলত গরমের কারণে মৃত ব্যক্তিদের ধরা হয়েছে।
প্রকৃতিবার্তা ডেস্ক 




















