ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধবিরতি আলোচনা থমকে থাকার প্রেক্ষাপটে আবারও কঠোর অবস্থান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত না নিলে ইরানের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
আজ (১৮ মে) সোমবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বিবিসি জানিয়েছে, রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরানকে দ্রুত নড়াচড়া করতে হবে, নয়তো তাদের আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। সময় খুব গুরুত্বপূর্ণ এবং ঘড়ির কাঁটা দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।
তবে ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের পাল্টা প্রতিক্রিয়া এসেছে তেহরান থেকেও। ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, সংঘাত নিরসনে ইরান যে সর্বশেষ প্রস্তাব দিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র তার স্পষ্ট জবাব দিতে ব্যর্থ হয়েছে। বরং ওয়াশিংটনের আপসহীন অবস্থান আলোচনায় অচলাবস্থার জন্য দায়ী বলে অভিযোগ করেছে তারা।
এর আগে এপ্রিলের শুরুতে ট্রাম্প ইরানের ‘গোটা সভ্যতা’ ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। পরে ৮ এপ্রিল দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে যায়। এরপর যুদ্ধ অবসান, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল এবং ইরানের ইউরেনিয়াম কর্মসূচি নিয়ে নতুন প্রস্তাব পাঠায় তেহরান।
এদিকে ট্রাম্পের এই হুমকি যে বাস্তব হতে পারে তার প্রমাণ মিলছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতায়। ইসরায়েলে গোলাবারুদ বোঝাই যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক ডজন কার্গো প্লেন পৌঁছেছে। জার্মানির বিভিন্ন ঘাঁটি থেকে আসা এসব বিমান গত ২৪ ঘণ্টায় তেল আবিবে অবতরণ করেছে বলে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১৩ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য নতুন সামরিক অভিযান শুরুর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র এই গোলাবারুদ সরবরাহ করছে।
এর আগে, গত শনিবার মধ্যপ্রাচ্যের দুই কর্মকর্তার বরাত দিয়ে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, গত মাসের যুদ্ধবিরতির পর ইরানের ওপর পুনরায় বড় ধরনের হামলা চালানোর লক্ষ্যে সবচেয়ে ‘জোরালো প্রস্তুতি’ শুরু করেছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। আগামী সপ্তাহেই ইরানের পরমাণু কেন্দ্র ও খারগ দ্বীপকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হতে পারে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল।
প্রকৃতিবার্তা ডেস্ক 



















