সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সিন্ধু পানিচুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতের রায় উড়িয়ে দিল ভারত Logo ইবোলা ভাইরাসে জরুরি অবস্থা ঘোষণা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার Logo হাম ও হামের উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ শিশুর মৃত্যু Logo থাইল্যান্ডে সবচেয়ে বড় ডাইনোসর নাগাটাইটানের খোঁজ Logo বৃষ্টি-লঘুচাপ, আগামী কয়েকদিন যেমন থাকতে পারে আবহাওয়া Logo শেরপুর জেলা প্রকৃতি ও জীবন ক্লাবের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত, নতুন কমিটি গঠন Logo এবারের কোরবানির হাট কাঁপাবে যশোরের ‘বিসিএস ক্যাডার’ Logo সাবেক প্রতিমন্ত্রী মিজানুর রহমানের জানাজায় অংশগ্রহণ করলেন প্রধানমন্ত্রী Logo সুন্দরবনের বিপদ বাড়ছেই: ভৈরব-রূপসার তলদেশে মাইক্রোপ্লাস্টিক-ভারী ধাতু   Logo রোববার রাত থেকে টানা ১৮ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়

সিন্ধু পানিচুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতের রায় উড়িয়ে দিল ভারত

সিন্ধু পানিচুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতের রায় উড়িয়ে দিল ভারত

সিন্ধু নদীর পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতের (কোর্ট অব আরবিট্রেশন) সাম্প্রতিক রায়কে সম্পূর্ণ ‘বাতিল ও অকার্যকর’ বলে ঘোষণা করেছে ভারত। নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে অবস্থিত এই আদালতকে ‘বেআইনিভাবে গঠিত’ আখ্যা দিয়ে নয়াদিল্লি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এই ট্রাইব্যুনালের কোনো সিদ্ধান্ত মানার বাধ্যবাধকতা তাদের নেই।

গত ১৫ মে আন্তর্জাতিক সালিশি আদালত জম্মু ও কাশ্মীরে ভারতের নির্মাণাধীন পানিবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর জলাধারে পানি সংরক্ষণের সর্বোচ্চ সীমা (ম্যাক্সিমাম পন্ডেজ) নিয়ে একটি রায় ঘোষণা করে।

এর জবাবে ১৬ মে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল নয়াদিল্লির অনমনীয় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন:

“ভারত এই তথাকথিত রায় সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করছে। এই আদালতের গঠনকেই ভারত কখনো বৈধতা দেয়নি। ফলে এর কোনো সিদ্ধান্ত ভারতের ওপর কার্যকর হবে না। পানিচুক্তি স্থগিত রাখার যে সিদ্ধান্ত ভারত নিয়েছে, তা বহাল থাকবে।”

 

বিরোধের নেপথ্যে কী?

সন্ত্রাসবাদ ও চুক্তি স্থগিত: ভারত শাসিত কাশ্মীরের পেহেলগামে একটি সন্ত্রাসী হামলার পর ভারতের পক্ষ থেকে পাকিস্তানের সাথে করা ১৯৬০ সালের এই ঐতিহাসিক পানিচুক্তিটি স্থগিত করা হয়। নয়াদিল্লির স্পষ্ট শর্ত—পাকিস্তান সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসী কার্যকলাপে মদদ দেওয়া বন্ধ না করা পর্যন্ত এই চুক্তি কার্যকর হবে না। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক আদালত রায় দিয়েছিল যে চুক্তিটি একতরফাভাবে স্থগিত করা যায় না।

পানি প্রত্যাহারের পরিকল্পনা: ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় হওয়া এই চুক্তির অধীনে সিন্ধু, ঝিলাম ও চেনাব নদীর পানির সিংহভাগ অধিকার পাকিস্তানকে দেওয়া হয়েছিল। চুক্তি স্থগিতের পর ভারত এখন পাকিস্তানের দিকে প্রবাহিত হওয়া পানি নিজেদের ব্যবহারের জন্য সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে।

 

আদালতের বৈধতা নিয়ে ভারতের আপত্তি

ভারত শুরু থেকেই এই আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছে। নয়াদিল্লির দাবি, ১৯৬০ সালের মূল চুক্তির আইনি কাঠামো মানা হয়নি।

চুক্তির নিয়ম অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যে পানি সংক্রান্ত কোনো বিরোধ দেখা দিলে তা নিষ্পত্তির জন্য ‘নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ’ (Neutral Expert) নিয়োগের আইনি বিধান রয়েছে। কিন্তু পাকিস্তান সেই দ্বিপক্ষীয় পথ এড়িয়ে সরাসরি আন্তর্জাতিক আদালতের দ্বারস্থ হয়, যা চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে মনে করে ভারত। আর এই আইনি জটিলতার কারণেই আন্তর্জাতিক আদালতের রায়কে শুরুতেই নাকচ করে দিল নয়াদিল্লি।

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

জনপ্রিয় সংবাদ

সিন্ধু পানিচুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতের রায় উড়িয়ে দিল ভারত

সিন্ধু পানিচুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতের রায় উড়িয়ে দিল ভারত

আপডেট সময় ০৬:৪৮:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

সিন্ধু নদীর পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতের (কোর্ট অব আরবিট্রেশন) সাম্প্রতিক রায়কে সম্পূর্ণ ‘বাতিল ও অকার্যকর’ বলে ঘোষণা করেছে ভারত। নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে অবস্থিত এই আদালতকে ‘বেআইনিভাবে গঠিত’ আখ্যা দিয়ে নয়াদিল্লি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এই ট্রাইব্যুনালের কোনো সিদ্ধান্ত মানার বাধ্যবাধকতা তাদের নেই।

গত ১৫ মে আন্তর্জাতিক সালিশি আদালত জম্মু ও কাশ্মীরে ভারতের নির্মাণাধীন পানিবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর জলাধারে পানি সংরক্ষণের সর্বোচ্চ সীমা (ম্যাক্সিমাম পন্ডেজ) নিয়ে একটি রায় ঘোষণা করে।

এর জবাবে ১৬ মে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল নয়াদিল্লির অনমনীয় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন:

“ভারত এই তথাকথিত রায় সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করছে। এই আদালতের গঠনকেই ভারত কখনো বৈধতা দেয়নি। ফলে এর কোনো সিদ্ধান্ত ভারতের ওপর কার্যকর হবে না। পানিচুক্তি স্থগিত রাখার যে সিদ্ধান্ত ভারত নিয়েছে, তা বহাল থাকবে।”

 

বিরোধের নেপথ্যে কী?

সন্ত্রাসবাদ ও চুক্তি স্থগিত: ভারত শাসিত কাশ্মীরের পেহেলগামে একটি সন্ত্রাসী হামলার পর ভারতের পক্ষ থেকে পাকিস্তানের সাথে করা ১৯৬০ সালের এই ঐতিহাসিক পানিচুক্তিটি স্থগিত করা হয়। নয়াদিল্লির স্পষ্ট শর্ত—পাকিস্তান সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসী কার্যকলাপে মদদ দেওয়া বন্ধ না করা পর্যন্ত এই চুক্তি কার্যকর হবে না। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক আদালত রায় দিয়েছিল যে চুক্তিটি একতরফাভাবে স্থগিত করা যায় না।

পানি প্রত্যাহারের পরিকল্পনা: ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় হওয়া এই চুক্তির অধীনে সিন্ধু, ঝিলাম ও চেনাব নদীর পানির সিংহভাগ অধিকার পাকিস্তানকে দেওয়া হয়েছিল। চুক্তি স্থগিতের পর ভারত এখন পাকিস্তানের দিকে প্রবাহিত হওয়া পানি নিজেদের ব্যবহারের জন্য সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে।

 

আদালতের বৈধতা নিয়ে ভারতের আপত্তি

ভারত শুরু থেকেই এই আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছে। নয়াদিল্লির দাবি, ১৯৬০ সালের মূল চুক্তির আইনি কাঠামো মানা হয়নি।

চুক্তির নিয়ম অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যে পানি সংক্রান্ত কোনো বিরোধ দেখা দিলে তা নিষ্পত্তির জন্য ‘নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ’ (Neutral Expert) নিয়োগের আইনি বিধান রয়েছে। কিন্তু পাকিস্তান সেই দ্বিপক্ষীয় পথ এড়িয়ে সরাসরি আন্তর্জাতিক আদালতের দ্বারস্থ হয়, যা চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে মনে করে ভারত। আর এই আইনি জটিলতার কারণেই আন্তর্জাতিক আদালতের রায়কে শুরুতেই নাকচ করে দিল নয়াদিল্লি।