ইরানে তেল স্থাপনাগুলোতে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার ফলে সৃষ্ট বিশাল বিষাক্ত ধোঁয়া এখন পাকিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলে পরিবেশগত ও স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি তৈরি করেছে। পাকিস্তান আবহাওয়া অধিদপ্তর (PMD) এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এই দূষণের ফলে সৃষ্ট সম্ভাব্য বিপদগুলো সম্পর্কে সতর্কতা জারি করেছে।
ইরানের শোধনাগার এবং জ্বালানি ডিপোতে অগ্নিকাণ্ডের ফলে বিপুল পরিমাণ হাইড্রোকার্বন, সালফার অক্সাইড এবং নাইট্রোজেন যৌগ বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়েছে । এই বিষাক্ত গ্যাসগুলো বাতাসের মাধ্যমে পাকিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলে (বিশেষ করে বেলুচিস্তানে) প্রবেশ করে বাতাসের মান মারাত্মকভাবে কমিয়ে দিতে পারে ।
বাতাসে ভাসমান সূক্ষ্ম কালি এবং পোড়া তেলের কণা বা PM2.5-এর পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি ফুসফুস এবং রক্তপ্রবাহে প্রবেশ করে হৃদরোগ ও দীর্ঘমেয়াদী শ্বাসকষ্টের ঝুঁকি বাড়ায় ।
অ্যাসিড বৃষ্টির আশঙ্কা: বায়ুমণ্ডলে থাকা দূষকগুলো জলীয় বাষ্পের সাথে মিশে অ্যাসিড বৃষ্টি তৈরি করতে পারে । যদিও পাকিস্তানে এখনো এর প্রভাব দেখা যায়নি, তবে আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করেছেন যে পশ্চিমা বায়ুর প্রভাবে এই দূষিত কণাগুলো পাকিস্তানে বৃষ্টিপাতের ধরন পরিবর্তন করতে পারে ।
স্বাস্থ্য ঝুঁকি: এই বিষাক্ত বাতাসের সংস্পর্শে এলে শ্বাসকষ্ট, মাথাব্যথা, চোখ ও ত্বকের জ্বালাপোড়া এবং দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুসের ক্ষতি হতে পারে । বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই হাঁপানি বা ব্রঙ্কাইটিস আছে, তাদের জন্য এই বাতাস অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ।
পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট: তেল পোড়া ধোঁয়া দীর্ঘমেয়াদে মাটি ও পানির উৎসকেও দূষিত করতে পারে, যা পাকিস্তানের কৃষি ও জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি স্বরূপ।
উল্লেখ্য, পাকিস্তানের সঙ্গে ইরানের প্রায় ৯০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে।
সম্প্রতি তেহরান থেকে সিএনএন-এর একজন সাংবাদিক জানিয়েছেন, সেখানকার তেল স্থাপনাগুলোতে বিমান হামলার পর প্রায় পুরো শহরজুড়ে এখনো ঘন কালো ধোঁয়া উড়ছে।
সিএনএন-এর ফ্রেড প্লেইটজেন বলেন, ‘তেহরানের বাতাসে শ্বাস নেওয়া এখন বেশ বিষাক্ত মনে হচ্ছে।’ মূলত সীমান্তবর্তী দেশ হওয়ার কারণে এই বিষাক্ত বাতাস পাকিস্তানে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
প্রকৃতিবার্তা ডেস্ক 




















