সংবাদ শিরোনাম ::

ইরানে হামলার প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের, সর্বোচ্চ সতর্কতায় ইসরায়েল

ইরানে হামলার প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের, সর্বোচ্চ সতর্কতায় ইসরায়েল

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী আগামী সপ্তাহের মধ্যেই ইরানে হামলা চালানোর জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে। তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সূত্রের বরাতে সিএনএন জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে আকাশ ও নৌ-সামরিক শক্তি ব্যাপকভাবে জড়ো করার পর হোয়াইট হাউসকে এই প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী।

বিমানবাহী রণতরীর পর এবার পশ্চিম এশিয়ায় ইরান উপকূলের কাছে যুদ্ধবিমান মোতায়েন বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন।

অঞ্চলটিতে গত ২৪ ঘন্টায় এফ-৩৫, এফ-২২ এবং এফ-১৬ মিলিয়ে ৫০ টির বেশি যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এ খবর জানিয়েছে। এক মার্কিন কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে খবরটি জানায় তারা।

বেশকিছুদিন থেকেই পশ্চিম এশিয়ায় ইরানের কাছাকাছি এলাকার সমুদ্রে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। গতবছর ডিসেম্বরের ওই অঞ্চলের দিকে যাত্রা শুরু করেছিল মার্কিন বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন।

এই বিমানবাহী রণতরীর সঙ্গী তিনটি আর্লে বার্ক-শ্রেণির ডেস্ট্রয়ারও পশ্চিম এশিয়ার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। এবছর জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ থেকেই ইরান উপকূলের কাছে সেগুলো ঘাঁটি গেড়েছে।

এর পর দক্ষিণ আমেরিকা উপকূলে মোতায়েন আরেক মার্কিন বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ডও পশ্চিম এশিয়ার উদ্দেশে রওনা দেয়।

স্যাটেলাইটে তোলা ছবিতে গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার জাহাজ, ইউএসএস ডেলবার্ট ডি ব্ল্যাকও মিশরের সুয়েজ খালের মধ্য দিয়ে ভূমধ্যসাগর থেকে লোহিত সাগরের দিকে যেতে দেখা গেছে। সেইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর এমকিউ-৪সি ট্রাইটন নজরদারি বিমানও উপসাগরের আকাশে চক্কর দিতে দেখা গেছে।

তাছাড়া, ওই অঞ্চলে আগে থেকেই ই-১১এ যোগাযোগ বিমান, পি-৮ পোসেইডন এবং ই-৩জি সেন্ট্রি নজরদারি বিমানের উপস্থিতি এবং আরও কিছু গোয়েন্দা বিমান মোতায়েন থাকারও খবর পাওয়া গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই শক্তিপ্রদর্শনের মাঝেই ইরান পাল্টা শক্তিপ্রদর্শন করেছে। হরমুজ প্রণালীতে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে তারা। যদিও ইরানের দাবি, এই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ নিছক পরীক্ষামূলক। তবে তেহরানের এই দাবি নিয়ে সন্দেহ আছে অনেকেরই।

এই সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তৃতীয় দফা আলোচনার আগে দুই পক্ষই বৈঠকে কিছু অগ্রগতি হয়েছে বলে দাবি করেছে। তবে কোনও চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে এখনও সংশয় কাটেনি।

এদিকে সম্ভাব্য যুদ্ধের আশঙ্কায় সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে ইসরায়েলও। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্বরাষ্ট্র প্রতিরক্ষা কমান্ডসহ বিভিন্ন উদ্ধার ও নিরাপত্তা সংস্থাকে সম্ভাব্য যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন বলে দেশটির গণমাধ্যম জানিয়েছে।

ইসরায়েলি দৈনিক ইয়েদিওথ আহরোনোথের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সীমিত নিরাপত্তা বৈঠকগুলোতে ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালালে তেল আবিব সরাসরি অংশ না নিলেও ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করতে পারে ইরান। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সময়সীমা দ্রুত সংকুচিত হচ্ছে এবং সময় ঘনিয়ে আসছে।

সাবেক ইসরায়েলি সামরিক গোয়েন্দা প্রধান আমোস ইয়াদলিন বলেন, ‘আমরা এখন হামলার আরও কাছাকাছি অবস্থানে আছি।’

ইসরায়েলি সূত্রগুলো বলছে, যুক্তরাষ্ট্র বড় আকারের হামলা চালালে ইরানের পক্ষ থেকে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইসরায়েলে পাল্টা আঘাতের সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি।

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

মাঝারি রূপ নিচ্ছে তাপপ্রবাহ,তাপমাত্রা হতে পারে ৩৬ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস

ইরানে হামলার প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের, সর্বোচ্চ সতর্কতায় ইসরায়েল

আপডেট সময় ১০:২৭:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী আগামী সপ্তাহের মধ্যেই ইরানে হামলা চালানোর জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে। তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সূত্রের বরাতে সিএনএন জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে আকাশ ও নৌ-সামরিক শক্তি ব্যাপকভাবে জড়ো করার পর হোয়াইট হাউসকে এই প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী।

বিমানবাহী রণতরীর পর এবার পশ্চিম এশিয়ায় ইরান উপকূলের কাছে যুদ্ধবিমান মোতায়েন বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন।

অঞ্চলটিতে গত ২৪ ঘন্টায় এফ-৩৫, এফ-২২ এবং এফ-১৬ মিলিয়ে ৫০ টির বেশি যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এ খবর জানিয়েছে। এক মার্কিন কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে খবরটি জানায় তারা।

বেশকিছুদিন থেকেই পশ্চিম এশিয়ায় ইরানের কাছাকাছি এলাকার সমুদ্রে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। গতবছর ডিসেম্বরের ওই অঞ্চলের দিকে যাত্রা শুরু করেছিল মার্কিন বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন।

এই বিমানবাহী রণতরীর সঙ্গী তিনটি আর্লে বার্ক-শ্রেণির ডেস্ট্রয়ারও পশ্চিম এশিয়ার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। এবছর জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ থেকেই ইরান উপকূলের কাছে সেগুলো ঘাঁটি গেড়েছে।

এর পর দক্ষিণ আমেরিকা উপকূলে মোতায়েন আরেক মার্কিন বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ডও পশ্চিম এশিয়ার উদ্দেশে রওনা দেয়।

স্যাটেলাইটে তোলা ছবিতে গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার জাহাজ, ইউএসএস ডেলবার্ট ডি ব্ল্যাকও মিশরের সুয়েজ খালের মধ্য দিয়ে ভূমধ্যসাগর থেকে লোহিত সাগরের দিকে যেতে দেখা গেছে। সেইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর এমকিউ-৪সি ট্রাইটন নজরদারি বিমানও উপসাগরের আকাশে চক্কর দিতে দেখা গেছে।

তাছাড়া, ওই অঞ্চলে আগে থেকেই ই-১১এ যোগাযোগ বিমান, পি-৮ পোসেইডন এবং ই-৩জি সেন্ট্রি নজরদারি বিমানের উপস্থিতি এবং আরও কিছু গোয়েন্দা বিমান মোতায়েন থাকারও খবর পাওয়া গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই শক্তিপ্রদর্শনের মাঝেই ইরান পাল্টা শক্তিপ্রদর্শন করেছে। হরমুজ প্রণালীতে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে তারা। যদিও ইরানের দাবি, এই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ নিছক পরীক্ষামূলক। তবে তেহরানের এই দাবি নিয়ে সন্দেহ আছে অনেকেরই।

এই সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তৃতীয় দফা আলোচনার আগে দুই পক্ষই বৈঠকে কিছু অগ্রগতি হয়েছে বলে দাবি করেছে। তবে কোনও চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে এখনও সংশয় কাটেনি।

এদিকে সম্ভাব্য যুদ্ধের আশঙ্কায় সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে ইসরায়েলও। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্বরাষ্ট্র প্রতিরক্ষা কমান্ডসহ বিভিন্ন উদ্ধার ও নিরাপত্তা সংস্থাকে সম্ভাব্য যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন বলে দেশটির গণমাধ্যম জানিয়েছে।

ইসরায়েলি দৈনিক ইয়েদিওথ আহরোনোথের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সীমিত নিরাপত্তা বৈঠকগুলোতে ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালালে তেল আবিব সরাসরি অংশ না নিলেও ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করতে পারে ইরান। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সময়সীমা দ্রুত সংকুচিত হচ্ছে এবং সময় ঘনিয়ে আসছে।

সাবেক ইসরায়েলি সামরিক গোয়েন্দা প্রধান আমোস ইয়াদলিন বলেন, ‘আমরা এখন হামলার আরও কাছাকাছি অবস্থানে আছি।’

ইসরায়েলি সূত্রগুলো বলছে, যুক্তরাষ্ট্র বড় আকারের হামলা চালালে ইরানের পক্ষ থেকে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইসরায়েলে পাল্টা আঘাতের সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি।